হযরতপুরে মারকাযুদ দাওয়াহর ছাত্ররা যেভাবে তাবলীগের গাশত করে

মাওলানা জাহিদুল আলম।।

মারকাজে ছাত্রদের তাবলীগী মেহনতের তারতীবটি আমার খুব ভাল লাগে। সপ্তাহে একদিন গাশত। (আমাদের সময় মঙ্গলবার ছিল)। মসজিদপ্রতি চারজনের একটি জামাত। আমাদের প্রথম বর্ষে ৭/৮ জামাত হয়েছিল। আর শেষ বর্ষে থাকাকালীন ১৮টি জামাত ১৮টি মসজিদে মেহনত করতো।

বিজ্ঞাপন

একেকটা মসজিদের দূরত্ব ছিল আধা মাইল, একদুই মাইল। সর্বোচ্চ পাঁচ মাইল দূরের মসজিদেও গাশত করেছি। রিকশা বা সিএনজিতে করে যাওয়া আসা করতে হতো। বছরের শুরুতেই মসজিদ নির্ধারণ করে দেয়া হতো। সেখানেই সারা বছর মেহনত চলতো।

গাশতের দিন আসরের নামাজ ঐ নির্ধারিত মসজিদে গিয়ে আদায় করতাম। মাগরিব পর্যন্ত গাশত, ঈমান-একীনের কথা, বাদ মাগরিব বয়ান, সর্বশেষ পরদিন মারকাজে দ্বীনি মজলিসের দাওয়াত দিয়ে চলে আসতাম।বাদ এশা সবার সামনে মসজিদওয়ারী মেহনতের কারগুজারী শোনাতে হতো।

পরের দিন যে মজলিসে হতো তাতে গাশতের মসজিদগুলো থেকে দু-চার জন হলেও লোকজন আসতো। সেখানে বয়ানের পর ছাত্রদের পক্ষ থেকে কিছু হালকা নাশতারও আয়োজন থাকতো। এভাবে মাদ্রাসায় মানুষের আসা-যাওয়ার ফলে মহল্লায় এর ইতিবাচক ফলাফলও দেখা যেতে লাগলো।

মারকাযুদ দাওয়া যে এলাকায় অবস্থিত (বৌনাকান্দি,হযরতপুর, কেরানীগঞ্জ।) সেখানকার অধিকাংশ মানুষই অশিক্ষিত কিংবা স্বল্পশিক্ষিত।  সারারাত গান বাজতো এলাকায়। আর বিয়ের অনুষ্ঠান বা ছুটির দিন হলে তো কথাই নাই। শীতের দিনে গানের কানফাটা শব্দে ঘুমানো যেতো না। এটাতো গেল ধুমধাড়াক্কা গানের কথা।

আরেক ধরনের গান বাজায় ঐ এলাকার মানুষ। সেটার নাম দিয়েছে মারেফতী গান। বিদআতি,শিরকী কথায় ভরপুর।ঐ গ্রামে ওদের মাজারও আছে। প্রতি বছর মেলা,ওরস ইত্যাদি হয়ে থাকে।

তাছাড়া এলাকার লোকেরা ভদ্রতা বলতে কিছু বুঝত না। ঘরের ঝগড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে করতো। ছাত্রদের তাবলীগের মেহনত শুরু হবার পর দেখা গেল মানুষের এসব অবস্থাগুলো ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করেছে। মানুষ সঠিকভাবে দ্বীন বুঝতে শুরু করেছে।

এখন মাদ্রাসায় মাসিক জোড়ে নিয়মিত শতের কাছাকাছি মানুষ অংশগ্রহণ করে।গান বাজনা তুলনামূলক কমেছে।বিদআতিদের দৌরাত্ম হ্রাস পেয়েছে। মাদ্রাসার সাথে মানুষের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে। এখন মাদ্রাসা কোন প্রোগ্রাম ডাকলে দুই-আড়াইশো মানুষ এমনিতেই জড়ো হয়ে যায়। অথচ শুরুতে এরা অনেক বিরোধীতা করেছে।

মাদরাসাগুলোতেও ছাত্রদের জন্য চব্বিশ ঘণ্টার জামাতের পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে এই তারতীবে মেহনত করা যায়। আশাকরি ঠিকমতো করতে পারলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। অবশ্য এটা হয়তো তাখাসসুসের ছাত্রদের জন্য বেশী ফলপ্রসূ। তবুও একটা চেষ্টা করা যেতে পারে।

 

বিজ্ঞাপন