করোনাকালে ফেসবুকে প্রতারণার ফাঁদ: সচেতন থাকতে বলছেন আলেমরা

নুরুদ্দীন তাসলিম।।

মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে অনলাইন, ফেসবুক মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলেন অনেকেই। বিভিন্ন মন্ত্র ও কুরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে তাবিজের মাধ্যমে সব হতাশা, আর্থিক সংকট দূর করার কথা বলতেও শোনা যায় অনেককে। এসবের মাধ্যমে দেশের মানুষের অর্থ সম্পদ ছিনিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত জনসাধারণকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে একটি শ্রেণী। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের সংকটকালে তাদের দৌরাত্ম বেড়েছে কয়েকগুণ। ফেসবুক ও বিভিন্ন মাধ্যমে এই শ্রেণীর মানুষদের প্রচারণা দেখে অনেকে ভাবেন কিছু টাকার বিনিময়ে সমস্যার সমাধান হলে মন্দ কিসের! এদের এমন বাহারি প্রচারণার খপ্পরে পড়ে মানুষ শুধু ধোঁকা খাচ্ছে না অনেকের ঈমান আকীদায়ও পড়ছে এর প্রভাব।

বিজ্ঞাপন

এই অসৎ লোকদের খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে বলে বলছেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও মোহাম্মদপুর জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার মুহাদ্দিস,পরিচিত মুখ মাওলানা তাহমিদুল মাওলা। তিনি বলছেন, হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মুমিন কখনও এক গর্তে দুইবার দংশিত হয় না। অথচ আমাদের আশপাশে প্রতিনিয়ত এই ধোঁকাবাজদের থেকে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। এসব জেনেও কেউ কেউ কোন রকম যাচাই ছাড়াই তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন।  এসব বিষয়ে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরেও এসব অসাধু লোকদের ফাঁদে পা দেওয়ার জন্য অনেকেটা নিজেদের অসচেতনতাকে দায়ী করতে চাইছেন জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা তাহমিদুল মাওলা।

তাবিজ নিয়ে মানুষের মধ্যে দুই ধরণের প্রবণতা দেখা যায়। কেউ এর ব্যবহারকে শিরক উল্লেখ করে একে প্রত্যখ্যান করেন, অথচ সাহাবায়ে কেরাম তাবিজ ব্যবহার করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় উল্লেখ করে মাওলানা তাহমিদুল মাওলা বলেন, এই শ্রেণীর লোকদের বিপরীতে একদল লোক আবার তাবিজের বৈধতাকে পুঁজি করে ব্যবসা করছেন যা পুরোপুরি অন্যায়। তিনি বলছেন, কুরআন হাদিসে সম্ভবনা উল্লেখ করা হয়েছে এমন কোন বিষয়কে নিশ্চিত রোগ বা বিভিন্ন সমস্যা থেকে  আরোগ্য লাভের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা যেন কুরআন হাদীসের বিকৃতি সাধন করা।

মাওলানা তাহমিদুল মাওলার ভাষায় কুরআন হাদিসের সাম্ভব্য বিষয়গুলোকে নিশ্চিত সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে উল্লেখ করার পর তা থেকে সমাধান পাচ্ছে না এমন মানুষের আকীদা বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে, এতে  কুরআন হাদিসের প্রতি মানুষের মনে বিরূপ ধারণা তৈরি হতে পারে, তাই কুরআন হাদিসের সাম্ভব্য বিষয়গুলোকে নিশ্চিত সমাধানের উপায় উল্লেখ্য করা কুরআন হাদীসের বিকৃতি সাধন করা বলছেন তিনি।

মাওলানা তাহমিদুল মাওলা আরো বলছেন, কুরআন হাদিসের বিশুদ্ধতার আলোকে অনেকেই সহীভাবে তাবিজের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তবে তারা একে নিশ্চয়তার সাথে উল্লেখ করে এর মাধ্যমে টাকা উপার্জন ও ব্যবসার পথ খুলেন না। তিনি বলছেন, বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, সাধারণ চিকিৎসা ও ওষুধের ক্ষেত্রেও মানুষ ধোঁকার শিকার হওয়ার খবর পাওয়া যায় অহরহ, তবে এসব ক্ষেত্রে সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করে থাকেন সব সময়, তাই তাবিজের ক্ষেত্রেও অসাধু ব্যবসায়ী মনোভাবাপন্ন মানুষদের খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে বলছেন, জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার এই মুহাদ্দিস।

রাসূল সাঃ-এর যুগে এক ব্যক্তি আর্থিক লেনদেনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ‘আল্লাহ তায়ার হুকুমেই এমন হয়েছে’ উল্লেখ করলে রাসূল সাঃ তার উপর রেগে গিয়ে বলেন, তুমি লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করে একে আল্লাহ তায়ালা উপর ন্যস্ত করা মোটেও ঠিক নয়। তাই এসব ব্যাপারে সবোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের কোন বিকল্প নেই বলে বলছেন পরিচিত মুখ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা তাহমিদুল মাওলা।

কুরআন নাযিল হয়েছে মানুষের আত্মিক বা রূহানী চিকিৎসার জন্য জন্য, একে জাগতিক ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা অন্যায় উল্লেখ করে বর্তমান সংকটকালে অসৎ লোকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের অসচেতনতা অবলম্বন করতে বলছেন মোহাম্মদপুর জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার তরুণ মুহাদ্দিস মাওলানা তাহমিদুল মাওলা।

এ বিষয়ে ঢাকার বিশিষ্ট আলেমদের সাথে কথা বললে তারা বলছেন, মানুষের হতাশা ও অর্থিক সংকটকালে লোভ দেখিয়ে জনসাধারণকে ধোঁকা দেওয়া এসব প্রতারকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতার সাথে সাথে প্রসাশনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

বিজ্ঞাপন