ইসমাঈল জাযারিকে কেন রবোটের জনক বলা হয়

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইসমাঈল জাযারি রবোট সংক্রান্ত যে ধারণা দিয়েছিলেন ১২শতকে সেটাই বিজ্ঞানীদের রবোট আবিস্কারের ভিত্তি হয়েছিল। তাই তাকে মধ্যযুগের রবোটের জনক বলা খুবই যুক্তিসঙ্গত।

তার পুরো নাম বাদিউজ জামান আবুল ঈজ ইবনে ইসমাঈল আল-জাযারি ১১৩৬ খৃষ্টাব্দে তুরস্কের দাজলা (টাইগ্রিস) নদীর তীরবর্তী ‘জাযিরা ইবন উমার’ এলাকায় তাঁর জন্ম।

বিজ্ঞাপন

আল-জাযারি ছিলেন একজন বিশিষ্ট স্কলার এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। মুসলিম সভ্যতার একজন মহান বিজ্ঞানী। ১১৭৪ সাল থেকে দীর্ঘ পঁচিশ বছর পর্যন্ত বিজ্ঞান সাধনায় লেগে থাকেন তিনি। তার গবেষণা কর্মে সহযোগিতা করেন আদির অঞ্চলের শাসক। তাঁর সেই দীর্ঘ বিজ্ঞান সাধনার ফলে মানব সভ্যতা এক অমূল্য গ্রন্থ পেয়েছে।

The Book of Knowledge of Ingenious Mechanical Devices নামের সেই গ্রন্থটিতে ৫০ ধরনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ধারণা এবং নকশা দেওয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর ১০০ বছর পর ইউরোপের বিজ্ঞানীরা সেসব ধারণা নিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

আল-জাযারি’র গ্রন্থটি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিতও হয়েছে। এটির কয়েকটি মূল কপি বিশ্বের বিখ্যাত কিছু যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘ল্যুভ মিউজিয়াম’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ‘আর্টস মিউজিয়াম’ অন্যতম। মিউজিয়ামগুলোতে আসা দর্শনার্থীরা খুব যত্নের সঙ্গেই গ্রন্থটির দেখেন।

১৯৭৪ সনে ইংরেজ প্রাচ্যবিদ এবং বিজ্ঞানী ডোনাল্ড হিল (১৯২২-১৯৯৪ খৃ.) এই গ্রন্থটি অনুবাদ করে যাদুঘরের আড়াল থেকে জ্ঞান পিপাসুদের দৃষ্টির সামনে নিয়ে আসেন।

মার্কিন ইতিহাসবিদ এবং ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর লেইন হোয়াইট জুনিয়ার (১৯০৭-১৯৮৭ খৃ.) বলেন, অধুনা ইউরোপে আবিস্কৃত অনেক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মূল ধারণা এবং নকশা আল-জাযারির গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আল-জাযারি তাঁর গ্রন্থে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের শুধু ধারণা দিয়েই দায় সারেন নি। বরং বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এমন কিছু যন্ত্রও তৈরি করেছিলেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, স্বয়ংক্রিয় ফ্লাশ মেকানিজম সমৃদ্ধ একটি ওয়াশিং মেশিন। যার মাধ্যমে বাদশাহ অজুর কাজ সারতেন।

আজকের বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটাই পৃথিবীর সর্বপ্রথম রোবটিক যন্ত্র! এখান থেকেই অন্যান্য রোবটিক যন্ত্রের ধারণা তৈরি হয়।

মুসলিম বিশ্বে জাযারি হয়ে আছেন এক গৌরব। তিনি ১২০৬ঈ. সনে ইন্তিকাল করেন।

সূত্র: টিআরটি

বিজ্ঞাপন