নুরুদ্দীন তাসলিম।।
করোনা সংকটে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষেরা শুধু ক্ষুধার কষ্ট সহ্য করেন না, প্রতিনিয়ত তাদের আশপাশে ওঁৎপেতে থাকা সুযোগ সন্ধানী খৃষ্টান মিশনারী, কাদিয়ানী চক্রগুলোর সাথে লড়ে যান ঈমান বাঁচাতে। চারদিকে অর্থ প্রাচুর্যের লোভনীয় সমাহারের মাঝে ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণের সামগ্রীও না পেয়ে অনেক সময় এই সুযোগ সন্ধানী চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে হারিয়ে ফেলেন নিজের ঈমানের মতো মহাদৌলত।
এমানুষগুলোর প্রতি কতটা নজর দিচ্ছি আমরা। এই সংকটকালে আরো কতটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন সে অঞ্চলে কাজ করা দায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো, এব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম মিফতাহুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল মাজিদের কাছে। তিনি বলছেন, বর্তমান সংকটে দায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো কয়েকভাবে কাজ করতে পারে।
প্রথমত রমজানে সম্পদশালী যে মুসলমানরা জাকাত প্রদান করেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো তাদের সাথে যোগাযোগ করে, তাদের জাকাতের অর্থে এসব অঞ্চলের মানুষদের সহায়তা করতে পারেন। এতে এ অঞ্চলের মানুষদের ক্ষুধা শুধু মিটবে না, বিত্তশালীদের জাকাতের ফরজ বিধান পালনের সাথে সাথে মানুষ ঈমান হারানো থেকে বেঁচে যাবে।
এছাড়া এসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়ীরা ইফতার আয়োজন করতে পারেন। সেখানে মানুষকে ঈমানের গুরুত্ব বুঝানোর সাথে সাথে ঈমান হেফাজত করতে সাহাবীরা যে সীমাহীন কষ্ট সহ্য করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা, এটাও এক পদ্ধতী হতে পারে, বলছিলেন তিনি।
এছাড়াও তিনি বলছিলেন, এসব অঞ্চলের মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের খৃষ্টান মিশনারী ও কাদিয়ানীদের ব্যাপারে বুঝনোর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে দাওয়াতী কাজ ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।
সে অঞ্চলগুলোর মাদরাসা শিক্ষক, মসজিদের ইমাম খতীবরাও একাজটা করতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় সময়কে কাজে লাগিয়ে মাদরাসা ছাত্ররাও এ কাজে অংশ নিতে পারে, বলছিলেন মাওলানা আব্দুল মাজিদ।
আরো পড়ুন: করোনায় ত্রাণ: প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা কতটা নজরে আছেন?
করোনা সংকটকালে এ অঞ্চলগুলোর প্রতি দায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর যে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল তারা কি সেই মনোযোগ দিতে পারছেন? একথার উত্তরে মাওলানা আব্দুল মাজিদ বলেন, এসময় যতোটা মনোযোগ দেওয়ার কথা ছিল মনে হয় আমাদের পক্ষ থেকে এখনো তা দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, দাওয়াতি কাজে আমরা সব সময় পিছিয়ে থাকি, যে কারণে অন্যরা সুযোগ লুফে নেয়। অল্প সংখ্যক আলেম যারা নিজ উদ্যোগে দাওয়াতী কাজে এগিয়ে এসেছেন দেখা গেছে, তাদের সামান্য প্রচেষ্টায় অনেক খৃষ্টান ও ঈমান হারিয়ে ফেলা পরিবার আবার ইসলামের শীতল ছায়ায় ফিরে এসেছে। সামান্য মনোবল নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষদের প্রতি যে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার ছিল তা এখনো হয়ে উঠেনি তার মতে।
নিজেদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে দায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। এর বাইরে এই অঞ্চলের মানুষদের প্রতি সাধারণ দ্বীনদার মুসলমানদের দায়িত্ব কতটুকু এবং তারা কীভাবে তা পালন করতে পারেন, জানতে চাইলে মাওলানা আব্দুল মাজিদ বলেন, মুসলমান মাত্রই দায়ী। শুধু আলেম ও দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিরাই এ অঞ্চলের মানুষের ঈমানের ব্যাপারে চিন্তিত থাকবেন, খৃষ্টান মিশনারীর ফাঁদ থেকে এদের বাঁচাতে কাজ করে যাবেন ব্যাপরটা এমন নয়। তার ভাষায় প্রত্যেক মুসলমানই দায়ী। তাই দায়ী মাত্রই সব সময় বিশেষত এই মুহূর্তে এ অঞ্চলের মানুষের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া ও বর্তমান ফ্রি সময়টাতে তাদের ঈমান সুরক্ষায় আলেমদের তত্তাবধায়নে কাজ করে যাওয়া প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য, বলছিলেন মাওলানা আব্দুল মাজিদ ।
আরো পড়ুন: করোনা সংকটে প্রচার বিমুখ আলেম সমাজের নগদ অর্থ প্রদান কার্যক্রম
এদিকে ঢাকার একটি উচ্চতর দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাওয়াহ বিভাগের শিক্ষক মাওলানা আবু সালমান বলছেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা খৃষ্টান মিশনারী ও কাদিয়ানী চক্রগুলো সব সময় ওঁৎপেতে থাকে। সুযোগ পেলেই তারা তা লুফে নেয়। এই চক্রগুলো এ অঞ্চলগুলোতে শুধু তাদের ‘দায়ীদের’ মাধ্যমে তাদের কাজ ক্ষান্ত রাখেনি বরং তাদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ‘দায়ী’দের সমন্বয়ে কাজ করছে। তাদের দায়ীরা যেখানে দাওয়াত দিচ্ছে সুযোগ বুঝে সেখানে তাদের কেন্দ্র থেকে সহায়তা করছে। এক্ষেত্রে আমাদের দায়ী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কাজ করাটা বেশ ফলপ্রসূ হবে বলছিলেন তিনি।
আরো পড়ুন: করোনা সংকটে অসহায়ের দ্বারে দ্বারে খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন আলেমরা
করোনা সংকটকালে যেখানে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুতেও আমরা দাফন কাফনে এগিয়ে আসছি না, মৃত ব্যক্তির জন্য মসজিদের খাটিয়া ব্যবহার করতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা আমাদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, এ সময় সুযোগ বুঝে কাদিয়ানীরা দেশের এসব অঞ্চলে স্ব-উদ্যোগী হয়ে করোনা আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন কাফন করছে বলে জানা গেছে। দুর্যোগের সময়ে স্বজন হারা মানুষদের প্রতি তারা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে, বলেছেন মাওলানা আবু সালমান।
আরো পড়ুন: করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে জনসচেতনতা তৈরিতে আলেম সমাজ
















