মুহাম্মদ আল ফাতেহ : স্থলপথে জাহাজ নিয়ে ইউরোপ অভিযান চালিয়েছেন যিনি

আবু নোমান ।।

আপনি কি কখনো শুনেছেন, মাটির উপরে জাহাজ চলে। যদি কেউ আপনাকে এ সংবাদ দেয় তাহলে আপনি কি তাকে সত্যায়ন করবেন। আমার ধারনা আপনি বলবেন, আমরা পূর্বেকার লোকদের কাছেও এমন কথা শুনিনি। কিন্তু মুহাম্মদ আল ফাতেহ  কুস্তুনতুনিয়ার বিজেতা ৭০ টি জাহাজ চালিয়েছেন মাটির উপরে।

বিজ্ঞাপন

আরবরা বৃহত্তর কুস্তুন্তুনিয়ায় ছয়বার অভিযান চালিয়েছে  কিন্তু তারা জয় করতে পারেনি। আল্লাহ এই মহান বিজয় দান করেছেন ওসমানী বংশের এক যুবকের হাতে, যার তখন বয়স ছিলো ২৪ বছর। আর এটা হল আল্লাহর অনুগ্রহ যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন।

মুহাম্মদ আল ফাতেহ কুস্তুন্তুনিয়ায় অভিযান পরিচালনা করলেন।  আর তার জন্য গ্রহণ করলেন বিরাট প্রস্তুতি । তার নেতৃত্বে ছিল তিন লক্ষ সৈন্য বাহিনী, যাদের নিকট রয়েছে এমন বিধ্বংসী কামান যা সেই যুগের ইউরোপে কল্পনাও করা যেত না। সেই কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করলে এক মাইল দূরে গিয়ে পড়তো।  তার নৌ বহরের মধ্যে রয়েছে ১০০ যুদ্ধ জাহাজ।

মোহাম্মদ আল ফাতেহ দেখলেন, গোল্ডেন হর্নে যা কুস্তুন্তুনিয়ার প্রবেশদ্বার  তা  শত্রুরা শেকল বেঁধে আটকে ফেলেছে। তখন তিনি কিভাবে পার হবেন চিন্তা করলেন। তিনি অক্ষম হলেন না।  নিরাশ হলেন  না।   তিনি একটি উপায় খুজে বের করলেন।

তিনি দেখলেন,  সেখানে যাওয়া সম্ভব একমাত্র কাশেম পাশার দিক থেকে। কিন্তু এই দিকটা জাহাজ থেকে অনেক দূরে। এত দূর পর্ডযন্ত মাটির উপর দিয়ে কে জাহাজ বহন করে নিয়ে যাবে?

তিনি অনেক চিন্তা করলেন কিন্তু  নিরাশ হলেন না। অবশেষে একটি   উপায় খুঁজে পেলেন। কাঠের মধ্যে আল কাতরা দিয়ে পিচ্ছিল করে সেই কাঠের উপর নৌকা চালিয়ে দিলেন। এভাবে কাঠের ওপর দিয়ে  কাশেম পাশা হয়ে যখন নৌকা উপকূলে পৌছল তখন শত্রুরা যেন আসমান থেকে পড়ল।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানীর কুস্তুনতুনিয়ার পতন হলো এক মুসলিম যুবকের হাতে এবং ৩৫৮ হিজরী থেকে আজ পর্যন্ত তুরস্ক ও কুস্তুন্তুনিয়া মুসলিমদের হাতেই রয়েছে।

সূত্র : আল কিরআতুর রাশিদা অবলম্বনে

বিজ্ঞাপন