পরিস্থিতি করোনা ভাইরাস : বাংলাদেশে কেমন আছে পোশাক শিল্প ?

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তার যত বাড়ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগও ততটাই ঘনীভুত হচ্ছে।

বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে এরই মধ্যে সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে এই শিল্প টিকে আছে ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারের উপর নীর্ভর করে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সেসব দেশে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের ফলে বহু পশ্চিমা ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে তাদের অর্ডার বাতিল কিংবা স্থগিত করছেন।

বর্তমানে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করা হয়। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বা বিজিএমইএ বলছে এখন পর্যন্ত বিদেশী ক্রেতারা তিন বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল করেছে যাতে প্রায় ২০ লাখের বেশি শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক প্রাইমার্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তারা ব্রিটেন, ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন এবং অস্ট্রিয়াতে তাদের সব স্টোর অনিদ্দির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। শুধু ব্রিটেনজুড়ে তাদের প্রায় ২০০টি স্টোর রয়েছে।

আরেকটি নামকরা ব্র্যান্ড জারা বিশ্বজুড়ে তাদের প্রায় চার হাজার স্টোর বন্ধ রেখেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে।

বেসরকারি গবেষণাসংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক এবং অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেন, ইউরোপ এবং আমেরিকায় করোনাভাইস সংক্রমণের বিষয়টি যত দীর্ঘায়িত হবে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিও তত বেশি হবে।

তিনি বলেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক হিসেব দিয়েছে যে করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে বাংলাদেশের জিডিপির এক শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে তীব্র সংকটের যে হাতছানি দেখা যাচ্ছে, তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমিকরা।

বিজিএমইএর তালিকাভূক্ত প্রায় চার হাজার কারখানায় ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করে।

নিউইয়র্ক-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিভিন্ন নামকরা ব্র্যান্ড তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করে দেয়ায় বেশ সংকটে পড়েছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গার্মেন্টস শ্রমিকরা।

সরকার বলছে, আপাতত পাঁচ হাজার কোটি টাকা গার্মেন্টস খাতের মালিকদের ঋণ হিসেবে দেয়া হয়েছে যেটি মালিকরা আবার ফেরত দেবেন। আরো কোন পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা সেটি ভাবছে সরকার।

অনেক বিশেষজ্ঞ আশংকা করছেন, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়তো আরো বাড়বে সামনের দিনগুলোতে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি  বলেন, এমন অবস্থায় মালিকরা কারখানা খোলা রাখবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন। তবে কারখানা খোলা রাখলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গার্মেন্টস মালিকরা বলছেন, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দুই-এক মাস হয়তো চালিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। এর বেশি সংকট দীর্ঘায়িত হলে অনেক কারখানা পক্ষে টিকে থাকাই রীতিমতো অসম্ভব হবে বলে মনে করেন মালিকরা।

বিবিসি

বিজ্ঞাপন