লক ডাউন: আপনার দাম্পত্য জীবন যেন ‘অন্য ভাইরাসে’ আক্রান্ত না হয়

721

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

গণমাধ্যমে প্রকাশ, চীনের উহান শহরে লক ডাউনের পর মানুষের মাঝে ডিভোর্সের হার বেড়ে গিয়েছিল। কারণ হিসাবে বলা হয়েছিল, মানুষ ঘরে বেশী সময় থেকে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। সেই বিরক্তির প্রভাব গিয়ে পড়ে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে। ফলে রেজিস্টার অফিসের হিসাব অনুযায়ী ডিভোর্সের সংখ্যা গোটা চীন জুড়েই  হঠাৎ বেড়ে যায়।

এবার দেশের পর দেশে লম্বা সময়ের জন্যে লক ডাউনে অনেক বিশেষজ্ঞ এ আশংকা ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, মানুষ হয়তো এবার ঘরে থেকে একঘেয়ে হয়ে ওঠবে। এবং পরিবারের সদস্যদের পরস্পরের মাঝে তিক্ততা সৃষ্টি হবে। তবে কোনো কোনো সমাজ বিজ্ঞানী  এর বিপরীত কথাও বলছেন।

তাদের মতে এই লক ডাউনে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অনেক সহায়তা করবে।

‘আমরা সত্যিকারভাবে এবার একে অপরকে মানুষ হিসাবে চিনতে পারবো। আমাদের মধ্যে এমন অনেক মা আছেন যারা তাদের সন্তানকে ভালভাবে চিনেন না। অনেক বাবা তাদের সন্তানকে ভালোভাবে চিনেন না। এসুযোগে পরিবারের সদস্যরা একে অন্যকে ভালভাবে চেনার সুযোগ পাবে। ‘

যেসব সন্তানরা তাদের মা-বাবাকে তেমন একটা কাছে পায় না, সব সময় বাবা-মার ভালবাসার জন্যে কাতর হয়ে থাকে  তাদের জন্য এটা একটা মহাসুযোগ-  এমনই মনে করছেন আন্তর্জাতিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞগণ।

তুরস্কের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ  ইয়েজিসি বলছিলেন, পরিবার সমাজের মধ্যে সবচেয়ে ছোট তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান ।

“যদি এই প্রতিষ্ঠান ভালভাবে চলে, মাব-বাবার মধ্যে ঝগড়া না থাকে, সবার মধ্যে একে অন্যকে ছাড় দেয়া  ও সহনশীলতার মানসিকতা থাকে, তাহলে এ  লক ডাউন হতে পারে এক সুন্দর উপলক্ষ যার মাধ্যমে পরিবার নামের এই প্রতিষ্ঠানটি আরও সুন্দর হতে পারে। আরও শক্তশালী হতে পারে।” যোগ করেন ইয়েজিসি।

শুধু লক ডাউন নয়, যে কোনো দীর্ঘ ছুটিতেই স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব যেমন পড়তে পারে তেমনি নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে। সবকিছু নির্ভর করবে দাম্পত্য জীবনে আমরা একে অন্যের প্রতি ইসলামের দেয়া বিধানগুলো কতটুকু মানছি।

মদীনা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সুলাইমান রুহায়লি লক ডাউনের দিনগুলোতে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লেখেন, ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে স্বামী স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য হতে পারে। এ সব মনোমালিন্য কখনো তালাক পর্যন্ত গড়ায়। সুতরাং আপনার উচিত কথা ও কাজে ধীরতা অবলম্বন করা। সকল অবস্থাতেই স্থির থাকা, শান্ত থাকা। রাগের বশে কোনো কিছু না করা। কারণ, ধীরতা, সহনশীলতা এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। আর ত্বরাপ্রবণতা, তাড়াহুড়া এটা শয়তানের কাজ। আল্লাহ ধীরতা, নম্রতা পসন্দ করেন।

যদি কখনো আপনার রাগ হয়, তখন নিজকে একটা কামরায় আবদ্ধ রাখুন যতক্ষণ আপনার থেকে রাগের ভাইরাসটি দূরিভূত হয়- যোগ করেন ড. সুলাইন রুহায়লি।