করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দাফন নিয়ে জটিলতা

284

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তার মৃতদেহ ঢাকার খিলগাঁও তালতলার একটি কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে রাজধানীর দুটো সিটি কর্পোরেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থমকে গেছে। ফলে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তাদের প্রতিবাদের মুখে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজনের মৃতদেহ ওই কবরস্থানের নিয়ে গিয়েও দাফন করা যায়নি। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাকে অন্য আরেকটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খিলগাঁওয়ের একজন বাসিন্দা ইশতিয়াক বাবলা বিবিসিকে বলছেন, “গত সোমবার রাতে দেখি এলাকার অনেক মানুষ মিছিল করে কবরস্থানে যাচ্ছে। জানতে পারলাম, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে এই কবরস্থানে কবর দেয়ার বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ করছেন।”

”কবরস্থানে কাউকে মাটি দিতে দেয়া হবে না, এটাই আমার কাছে আশ্চর্য লাগে। যে কেউই তো আক্রান্ত হতে পারেন। তাহলে কোথায় কাকে মাটি দেয়া হবে? এটা সম্পূর্ণ হুজুগের একটা ব্যাপার। কিন্তু এটা নিয়ে কথা বলার মতো পরিবেশ এখানে নেই।”

তিনি বলেন, ”স্থানীয় মানুষজনের আশঙ্কা, যেহেতু এই কবরস্থানের ভেতর দিয়ে তারা হাঁটাচলা করেন, এখানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে কবর দেয়া হলে, তাদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।”

তিনি জানান, কবরস্থানের সামনে একটি ব্যানারও টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে যে, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া কাউকে এই কবরস্থানে কবর দেয়া যাবে না। তাকে যেন অন্যখানে কবর দেয়া হয়।

ব্যানারটিতে লেখা রয়েছে, ”সাধারণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ‘করোনা ভাইরাসে’ আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের লাশ খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের পরিবর্তে ঢাকার বাইরে বা অন্য স্থানে নিরাপদ স্থানে দাফন করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া একজন ব্যক্তিকে সোমবার রাতে এখানে দাফন করার জন্য নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে সেটি হয়নি। পরে পুলিশ মৃতদেহটি অন্যত্র নিয়ে যায়। পরে ঢাকার অপর একটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

খিলগাঁও-তালতলা কবরস্থানের সামনে ঝোলানো ওই ব্যানারটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকেও। অনেকেই এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।

আরিফুর রহমান নামের একজন লিখেছেন, ‘মৃতদেহ দাফন করায় বাধা, কোনভাবেই এটা ধর্মীয়ভাবে মেনে নেয়া যায় না।”

মমিনুল হক নামের একজন লিখেছেন, ”করোনাভাইরাস তো যে কারো মধ্যেই ছড়াতে পারে। আপনারা যারা ওই এলাকার বাসিন্দা, আপনাদের কারো মৃত্যু হলে কোথায় দাফন হবে?”

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকায় দুই সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে মোট নয়টি কবরস্থান রয়েছে। অন্যান্য কবরস্থানগুলো পুরনো ও বড়, যেখানে প্রতিদিনই একাধিক মৃতদেহ দাফন করা হয়। খিলগাঁও তালতলার কবরস্থানটি নতুন এবং চাপ কম থাকে।

এ কারণে গত ১৯শে মার্চ দুই সিটি কর্পোরেশন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে, করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এখানে দাফন করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বিবিসিকে বলেন, ”করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এই কবরস্থানে দাফন করার সিদ্ধান্ত এখনো বহাল আছে। তবে এলাকাবাসী এ নিয়ে আপত্তি করেছেন বলে আমরা শুনেছি। তাদের সঙ্গে আলাপ করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রিত কবরস্থানে স্থানীয় জনতার নামে ব্যানার টাঙানো যায় না বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩৯জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী এক বিবৃতিতে  বলেছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী মুসলমানের লাশ শরীয়তসম্মত পন্থায় দাফন করতে হবে। করোনায় মৃত লাশ অতিরিক্ত সংবেদনশীল বিধায় জানাযা ও দাফন প্রক্রিয়া যথাসম্ভব দ্রুত শেষ করে নিতে হবে। জানাযায় অতিরিক্ত লোক সমাগমের জন্য বিলম্বিত না করে স্বাস্থ্যবিভাগের নিয়ম অনুসরণ করে সবর করাই উত্তম হবে। লাশকে গোসল দেওয়া সম্ভব না হলে অবশ্যই তায়াম্মুম দিতে হবে এবং কাফনে পুরুষের জন্য তিনটি এবং নারীর জন্য পাঁচটি নির্ধারিত কাপড় পরাতে হবে।

সূত্র : বিবিসি