ঘরমুখো মানুষের ভিড়: কোন ঝুঁকির পথে ছুটছি আমরা!

285

নুরুদ্দীন তাসলিম ।।

সংক্রমণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। টানা ১০ দিন বন্ধ থাকবে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ সময় জনসমাগম এড়িয়ে দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে জনসমাগমের মাঝেই ভিড়ে গাদাগাদি করে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে বিপুলসংখ্যক মানুষকে।

বাস, রেলস্টেশন ও  ফেরিতে মানুষের উপচে পড়া ভীড় দেখে মনে হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি সবার মনেই শঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের ব্যাপারে। তাই করোনা পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চে ভাল মন্দ যে ইতিহাসের আখ্যানই লিখে যাক না কেন, সবাই চাইছে প্রিয়জনের সাথে জীবনের শঙ্কিত এমুহূর্তের অনুভূতিগুলো ভাগ করতে। করোনার ঝুঁকি গায়ে মাখিয়েই যেন করোনা থেকে বাঁচতে চাইছে সবাই।

 

যানবাহনের সংকট জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা ঘরমুখো মানুষগুলোর মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারেনি। দৌড়ে,ঝুলে, গাদাগাদি করে সবাই ফিরতে চাইছে আপন নীড়ে। প্রিয়জনের মুখ দেখে নিরাপদবোধ করাই যেন এখন সবার ব্রত। তাই ‘জনসমাগম’ করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রধান উপলক্ষ হলেও তার তোয়াক্কা না করেই ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফিরতে ব্যস্ত সবাই।

অবশ্য জনসংখ্যাবহুল এদেশে ঈদের সময় এভাবে মানুষকে ঘরে ফিরতে দেখে অভ্যস্ত আমরা। এমন মুহুর্তগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা, লঞ্চডুবিসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদের দেশের নৈমিত্তক ঘটনা বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না।

কিন্ত এবার এসব দুর্ঘটনার পাশাপাশি শঙ্কার ব্যাপার হল, এভাবে পরস্পরের গা ঘেঁষাঘেঁষি করে বাস,ট্রেন,লঞ্চ,ফেরিতে ঘরে ফেরার মাধ্যমে সচেতনতা অবলম্বণের সময়টাতে আমাদের দেশ জাতি এক মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। হতে পারে এতে করে নিরাপত্তার খোঁজে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলো গ্রামের সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশে নিয়ে যাচ্ছেন মৃত্যু দূত করোনা। এতোদিন অভয়ারণ্য হিসেবে খ্যাতি পেয়ে আসা গ্রামগুলোই হয়তো শিকার হতে যাচ্ছে অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতির!

অপরদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরা মানুষদের অনেকেই মানছেন না নির্ধারিত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। যাচ্ছেতাই, যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, প্রশাসনের নিষেধজ্ঞা অমান্য করে দীর্ঘ ছুটিতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোশগল্পে মেতে উঠছেন। চায়ের দোকানে আড্ডার আসর বসাতে চাইছেন। দুর্যোগের ছুটিটাকেই তারা স্বাভাবিক রূপ দিতে চাইছেন। এর মাধ্যমে সংক্রমণ রোধে দায়িত্বশীলরা যে পদক্ষেপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন তা না মানার কারণে হতে পারে আমরা ভয়ঙ্কর এক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যা কখনো কারো প্রতাশিত নয়।

বর্তমানে মুত্যুপূরীতে পরিণত হওয়া ইতালি,স্পেন,ইরানে উদাসিনতার কারণে ছড়িয়েছে এ মরণ ব্যাধি। বিবিসি, ডয়চে ভেলেসহ প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যমগুলো এমন তথ্যই দিচ্ছে আমাদের। তাই এসময় দায়িত্বশীল প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে দেশ জাতিকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরি করতে পারি আমরা। আশা করি আমাদের আত্মসচেতনতা দ্রুতই ফিরিয়ে দিবে আমাদের চিরচেনা হাসি-খুশি, খলবল, উচ্ছ্ল পৃথিবীটা।