করোনা ভাইরাস : আতঙ্ক থেকে যেভাবে বাঁচবেন

355

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃত্যু। এর মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছেন ১৬ হাজারের উপরে। বাংলাদেশেও মারা গেছে কয়েকজন। করোনা  এর থেকে উত্তরণের জন্যে চিকিৎসকগণ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সচেতনতার জন্যে সরকার ও একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিচ্ছন্নতা,হোম কোয়ারেন্টিন ইত্যাদি নানা পরামর্শ  বিভিন্নজন দিচ্ছেন। এসবই গুরুত্বপূর্ণ রোগ প্রতিরোধের জন্যে।

তবে  এর সাথে আরও  যেগুরুত্ব পূর্ণ বিষয়টির দিকে আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। রোগ প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্যের রয়েছে অনেক বড় ভূমিকা। কিন্তু এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত খুব কমই বলা হয়েছে। মানুষ করোনা ভাইরাস নিয়ে সীমাহীন আতঙ্কে ভুগছে। নিজেরা আক্রান্ত হলে কী হবে, পরিবারের কেউ যদি আক্রান্ত হয় তাহলে কী হবে? যদি মারা যায় তাহলে কী হবে? মারা যদি না ও যায়, তাহলে  এত বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা কীভাবে সামলাবে? ইত্যাদি নানা চিন্তা ও পেরেশানিতে মানুষ অস্থির।

নি:সন্দেহে এসব বিষয়গুলো আতঙ্কিত হওয়ার বিষয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু আতঙ্কিত হওয়া কোনো সমাধান আনে না, জটিলতা আরো বাড়ায়। আতঙ্কিত হওয়া পরিস্থিতি বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।  এমন কি আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে থাকে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ হেলাল বলেছেন, “আমরা যদি আতঙ্কিত হই, আমরা যদি মানসিক চাপে ভুগতে থাকি, আমরা যদি ভয় পাই, উদ্বিগ্ন হই, তাহলে আমাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমতে থাকবে। আতঙ্কিত বা ভয় পেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন ট্রান্সমিটারে একটা তারতম্য ঘটে। এতে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে যিনি আতঙ্কিত হবেন, উদ্বিগ্ন হবেন, যার মধ্যে মানসিক চাপ বেশি থাকবে, তিনি কিন্তু সহজে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকবেন।’

আরব বিশ্বের খ্যাতিমান আলেম ড. আরেফি তার এক খোতবায় মহামারির সময় আতঙ্কের কী ক্ষতি একটি প্রতীকী উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, কথিত আছে, একবার মহামারিকে মানুষ রূপে কেউ একজন দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করেছিল, ভাই কোথায় যাচ্ছেন? এবার কত মানুষ মারা যাবে? মাহামারি বলল, অমুক এলাকায় যাচ্ছি। ১০ হাজার লোক মারা যাবে। কয়েকদিন পর মহামারির সাথে আবার দেখা হল। জিজ্ঞেস করল, আপনি বলেছিলেন, ১০ হাজার লোক মারা যাবে। কিন্তু এবার তো ৫০ হাজার লোক মারা গেছে। মহামারি বলল, ১০ হাজার মারা গেছে মহামারিতে। আর ৪০ হাজার মারা গেছে ভয়ে, আতঙ্কে।

আতঙ্ক থেকে কীভাবে বাঁচবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে আতঙ্ক থেকে বাঁচার সহজ উপায়  হল, ছোট বেলায় শেখা ঈমানের বাক্যগুলোর উপর পুনারায় চিন্তাভাবনা করা এবং অন্তরের অন্তস্তলে বাক্যগুলোকে বসিয়ে নেওয়া। সচেতনতার পাশাপাশি আল্লাহর উপর ভরসা রাখা, বিপদে সবর করা, আল্লাহর ফায়সালার উপর খুশি থাকা- এসব বিষয় শুধু ঈমানের জন্যেই অপরিহার্য বিষয় নয়, বরং মানসিক শক্তির জন্যেও জরুরি বিষয়। “আল্লাহ ভরসা” এই দুই শব্দের একটি বাক্যই পারে  আপনার সকল আতঙ্ক শেষ করে দিতে। শুধু মনের গভীর থেকে একবার বলে দেখুন। পাশাপাশি দুশ্চিন্তা থেকে হাদীসে যে দোয়া শেখানো হয়েছে, সে দোয়া পড়তে থাকুন। হাদীস   শরীফে এসেছে, বিপদে ও পেরেশানির সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশী বেশী এই দোয়া পড়তেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে যাবতীয় চিন্তা ও পেরেশানি, দু:খ ও মর্মবেদনা থেকে আশ্রয় চাই। আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা থেকে, এবং মানুষের অত্যাচার থেকে।