ছবি কথা বলে: ব্যাপক জনসমাগমে করোনা নিয়ে ব্রিফিং আমাদের কতটুকু সচেতন করবে?

371

তারিক মুজিব ।।

কভারের ছবিটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জাহিদ মালিকের করোনা বিষয়ক সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনের। ব্যাপক জনসমাগম দেখা যাচ্ছে ছবিটিতে। ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি আছেন সাংবাদিক ভায়েরাও। কারো মুখে মাস্ক নেই। একজনের গা ঘেষে আরেকজন বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন।

এই সংবাদ সম্মেলন এবং এ জাতীয় আরও সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আমাদের সাধারণ মানুষদের মনে অনেক প্রশ্ন দেখা দেয়।

এত মানুষ নিয়ে যদি ‘করোনা সচেতনতামূলক ব্রিফিং’ করা হয়, তাহলে মানুষ সচেতন হবে কি করে? মানুষ তো স্বাস্থ্য বিষয়ক উন্নতির বয়ান শুনানো আর দশটা সংবাদ সম্মেলনের মতোই একটা সম্মেলন মনে করবে এই ব্রিফিং-কে।

কারো মুখে মাস্ক নেই। একজনের গা ঘেষে আরেকজন বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন। সবাই কত নিশ্চিন্ত; আমাদের করোনা হবে না। এখানের সবাই কি করোনা পরীক্ষা করিয়েছে? উত্তর যদি ‘না’ হয়- এবং ধরে নেওয়া যায় উত্তর ‘না’ ই হবে  তাহলে কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলো- আমার করোনা নেই বা আমার পাশের জনের করোনা নেই।

এই যে সংবাদমাধ্যমে সচেতনতার ভুড়ি ভুড়ি টিপস দেওয়া হচ্ছে- সংবাদকর্মীরা তা কোথায় পালন করছেন?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সম্মেলন কভার করতে তাদের তো সম্মেলনস্থলে যেতে হয়েছে। তাহলে যাতায়াতে কি করোনা বিষয়ক কোনো শঙ্কা তাদের ছিল না? তাহলে সংবাদমাধ্যমে সচেতনতার এত টিপস দিয়ে কী লাভ?

ফেসবুকে বিভিন্ন জনের লেখা দেখছি, বাংলাদেশের প্রান্তিক গোষ্ঠীর মাঝে এখনও সচেতনতা তৈরি হয়নি। আমি তো বরং উল্টো চিত্র দেখছি। টিভি-ইন্টারনেটের প্রচারণার কারণে সারাদেশে মোটামুটি একটা করোনা বিষয়ক জানাশোনা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু যারা টিভির খবর প্রচার করছেন বা যারা করোনা বিষয়ক আপডেট দিচ্ছেন তাদের মাঝে সচেতনতা তৈরির কোনো লক্ষণ দেখি না আমি। কত অনিরাপত্তার মধ্যেই মাঠকর্মীদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে করোনার তথ্য জোগার করতে!

মন্ত্রণালয় বা সংবাদমাধ্যম-কারো সমালোচনা করা আমার এ লেখার উদ্দেশ্য না। বরং সচেতনতা যে মন্ত্রণলায়ের ভেতরেও প্রয়োজন সে ব্যাপারে সতর্ক  করাই এখানে মুখ্য।