এক্সক্লুসিভ : মোবাইলে যেভাবে ধরা পড়ল দিল্লি গণহত্যা

885

মুহাম্মদ ইরফান সিদ্দীকী ।।

সেদিন ছিল ২৫ ফেব্রুয়ারি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সফরে ছিলেন। তারপর হঠাৎ দিল্লিতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ থেকে মুসলমান উপর হামলার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে লাগলো। আমি ভারতে বসবাসরত আমার বন্ধু মোহাম্মদ হুসাইনকে ফোন করলাম। মোহাম্মদ হুসাইন জাপানে আমারই কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ছিল এবং কয়েক বছর আগে চাকরি ছেড়ে ভারতে চলে গিয়েছিল।

চাকরির সময় প্রায়ই তার সাথে আমার কথা কাটাকাটি হত। সে ভারতের খুব প্রশংসা করত। আমি এর বিপরীতে পাকিস্তানের খুব প্রশংসা করতাম। এবং ভারতের বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরতাম।

সেদিন আমার ফোন করার পর মুহাম্মাদ হুসাইন আগের মত ভারতের প্রশংসা করতে লাগল। আমি তাকে বললাম, আমরা গণমাধ্যমে যা দেখতে পাচ্ছি সেগুলো কি মিথ্যা?  মুহাম্মাদ হুসাইন বলল, হা, এগুলো  মিডিয়ার বাড়াবাড়ি। মিডিয়ায় এরকম অতিরঞ্জিত খবরাখবর থাকেই।

মুহাম্মদ হুসাইনের কথা শেষ না হতে শুনতে পেলাম ওপাশ থেকে দরজায় লাঠি পেটানোর শব্দ। মুহাম্মদ আমাকে একটু পরে কথা বলব বলে রেখে দিল। কিন্তু সম্ভবত তাড়াহুড়ার কারণে সে মোবাইল বন্ধ করতে ভুলে গেল।

আমি শুনতে পেলাম, মুহাম্মদ ঘরের লোকজনকে বলছেন, সাবধান কেউ দরজা খুলবে  না।  কেউ ভয় পাবে না। ইতিমধ্যে তারা উপরে চলে গেল আশ্রয়ের জন্য।  আর লোকজন দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করল।  আমি মোবাইলে এ সব শুনতে পাচ্ছিলাম।

উপরে গিয়ে মুহাম্মদের আব্বা আম্মা লুকানোর জন্য জায়গা খুঁজতে লাগল কিন্তু পেল না। তারা আশপাশের প্রতিবেশীদের কাছে সাহায্য চাচ্ছিল। জোরে জোরে বিভিন্ন দোয়া দরুদ পড়তে শুরু করল। কিন্তু একটু পর ঠিকই হিন্দু গুন্ডারা ভেতরের দরজা ভেঙ্গে ছাদে চলে গেল।

তারা উপরে গিয়ে মুহাম্মদ হুসাইনের বাবা মাকে নির্যাতন করল। মুহাম্মদ হুসাইনকে সম্ভবত তারা ধরে বাহিরে নিয়ে গেল। কারণ একটু পরেই হঠাৎ শুনতে পেলাম, মুহাম্মদ হুসাইন পুলিশ পুলিশ বলে কাদেরকে ডাকল। বুঝতে পারলাম, সে পুলিশের আশ্রয় চাচ্ছে।  কিন্তু এমন সময় হঠাৎ মোবাইলে একটা শব্দ হয়ে লাইন কেটে গেল। মনে হল, কেউ তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। যাতে তার পকেটে  থাকা মোবাইল ভেংগে যায়। আর আমি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি।

মনে মনে খুব কষ্ট হতে লাগল, তার জন্যে কিছুই করতে পারলাম না। শুধু কয়েক ফোঁটা চোখের পানি ফেলা ছাড়া। চোখের সামনেই আমার এক হিন্দুস্তানী মুসলমান ভাই, যে মনেপ্রাণে ভারতকে ভালোবাসে তাকে এমন নির্দয়ভাবে নির্যাতন  করা হল অথচ আমি কিছুই করতে পারলাম না।

দৈনিক জং থেকে অনুবাদ এনাম হাসান জুনাইদ