শওকে ওয়াতন : মহামারির সময় যেভাবে সান্ত্বনা দিতেন হযরত থানবী

463

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

হযরত থানবী রহ. -এর রচিত শওকে ওয়াতান কিতাবটি রচিতই হয়েছিল বিপদ মুসিবত রোগব্যাধি বিশেষত মহামারির সময় মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যে।

কিতাব রচনার প্রেক্ষাপট হিসাবে হযরত থানবী রহ. বলেন, তখন আমাদের মুজাফফর নগর  মারাত্মকভাবে প্লেগের শিকার হয়ে পড়ে। মানুষ এত হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল যে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেল। কেউ পালিয়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করতে লাগল। কেউ বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে নিজের জায়গায় পড়ে রইল।

অথচ ইসলাম এমন এক ধর্ম যেখানে মানুষের সর্ব প্রকার সমস্যার সমাধান রয়েছে। মানুষ যে যত দুর্দশায়ই থাকুক সে তার অবস্থার উপযোগী ইসলামে খুঁজে পাবে সে  সান্ত্বনার বাণী।

হযরত থানবী রহ. বলেন, আমার মনে হল মানুষের এই হতাশ, কিংকর্তব্যবিমূঢ়, বিহ্বল অবস্থার আসল কারণ সবরের অভাব, আল্লাহর উপর ভরসার দূর্বলতা, আল্লাহর ফায়সালার উপর অসন্তুষ্টি এবং  ইয়াকিনের অনুপস্থিতি।

“অবশেষে মানুষের এই পরিস্থিতির সংশোধন কল্পে  আমার ওয়ায নসীহতে আখেরাতের অনন্ত সুখ শান্তি নেয়ামতের কথা আলোচনা শুরু করলাম। এবং  আখেরাতের কথা বলে মানুষকে আখেরাতের প্রতি আগ্রহী করে তুলেতে সচেষ্ট হলাম।” লেখেন হযরত থানবী রহ.।

তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষকে বুঝাতে শুরু করলাম, আখেরাতে অনন্ত সুখ আসল সুখ । সেই সুখ লাভ  করা জন্য মৃত্যু ব্যতীত কোনো বিকল্প নেই। তাই মৃত্যুও এক হিসাবে মানুষের জন্যে অনেক বড় নেয়ামত।’

মানুষকে আখেরাতে সুখ শান্তি কবর হাশর  জান্নাত জাহান্নাম ইত্যাদির কথা মনে করিয়ে দেওয়ার  পর দেখা গেল মানুষের মধ্যে আগের সেই হতাশা ভাব কেটে গেছে।  আগের সেই দুশ্চিন্তা এবার প্রশান্তিতে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ না করুন, ভবিষ্যতে কখনো যদি এমন পরিস্থিতি আসে, তখন আবার নতুনভাবে যেন আলোচনা করতে না হয়, সেজন্য থানুবী রহ. তার আলোচনাগুলো লিখিত আকারে সংরক্ষিত করেছিলেন। এবং সেটাকে নজরে সানি ও সম্পদনা পরিমার্জনা করে শওকে ওয়াতান নামে বই আকারে প্রকাশ করেন।

বইটির বাংলা অনুবাদ করেছেন ঢালকা নগরের হযরত মাওলানা আবদুল মতীন বিন হুসাইন। বর্তমানে চলমান মহামারির সময় বইটির পাঠ যে কোনো মুসলমানের জন্যেই হতে পারে অনেক বড় সান্ত্বনা।