আবারও বিদ্যুত-পানির দাম ‍বৃদ্ধি: প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন দুই বিশিষ্ট ইসলামি রাজনীতিক

182

তারিক মুজিব ।।

আরও একদফায় বাড়ানো হল পানি ও বিদ্যুতের দাম। বিদ্যুতের খুচরা, পাইকারি এবং সঞ্চালন তিন ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে দাম। এ নিয়ে গত দশ বছরে আটবারের ঘটল বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি। পানির মূল্যও বাড়ানো হয়েছে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক উভয় প্রকার গ্রাহকের জন্যই।

সরকারের তরফে বিদ্যুত-পানির এই মূল্যবৃদ্ধিকে সামান্য বলা হলেও বোদ্ধজনেরা বলছেন, ভিন্ন কথা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও বিদ্যুত- পানির মূল্যবৃদ্ধিকে সরকারের হঠকারী এবং গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি তুলছে।

বিজ্ঞজনেরা বলছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রভাব কেবল বাসাবাড়িতে পড়বে তা নয় বরং কৃষি এবং শিল্পপন্যের উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। ফলে স্বভাবতই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম আরও একবার বাড়বে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে চরম সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের সামগ্রীক অর্থনীতি। এমনিতে চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়তি। তার ওপর নতুন করে বিদ্যুত-পানির দাম বাড়ানোকে মরার উপর খাঁড়ার ঘা বলছেন কেউ কেউ।

বিদ্যুত-পানির মূল্যবৃদ্ধি বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সঙ্গে।

অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ বলেন, নিজেদের অব্যব্যস্থাপনা প্রতিরোধ না করে বারবার বিদ্যুত-পানির মূল্য বাড়ানো সরকারের গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। আসলে এই সরকার জনগণের দুঃখ দুর্দশাকে পরোয়া করে না। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা দুর্নীতি করে অর্থ লোপাট করলে এর ভর্তুকি জনগণকে দিতে হয়। জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এটা চরম নিন্দনীয়।

একই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদের ইসলাম টাইমসকে বলেন, চরম দুর্নীতিগ্রস্ত এই সরকার জনগণের উপর বেপরোয়া শোষণ চালাচ্ছে। নতুনকরে বিদ্যুত-পানির দাম বৃদ্ধি জনগণের ওপর সরকারের চরম জুলুমের বহি:প্রকাশ।

নতুন করে বিদ্যুত-পানির দাম বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে মন্তব্য করে খেলাফত মজলিসের মজাসচিব বলেন, এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে স্বাভাবিকভাকেই কৃষিজ এবং উৎপাদিত পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক এ সঙ্কটের মুহূর্তে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত জনগণের জন্য যা হবে মরার উপর খাড়ার ঘা-এর শামিল। জনগণের উচিত সরকারের এই গণবিরোধী সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে এর প্রতিবাদ করা।

এদিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমেদ বলেন, সরকারের তরফে এই মূল্যবৃদ্ধিকে সামান্য বলা হচ্ছে। আসলে দূর্নীতি করে যারা বিশাল অর্থের মালিক তাদের কাছে এই মূল্যবৃদ্ধিকে স্বাভাবিকই মনে হতে পারে। এ দেশের দরিদ্র জনগণের সাথে যাদের সম্পর্ক নেই, যারা জন-বিচ্ছিন্ন তাদের বুঝার কথাও নয় এই ‘সামান্য’ মূল্যবৃদ্ধিতেই সামগ্রীকভাবে জীবনমানের ওপর কত ভয়াবহ দুূর্ভোগ নেমে আসে।