বইমেলা: কবে ভেসে উঠবে তার স্বচ্ছ মুখ!

130

ইমদাদুল হক ।।

ঢাকা শহরকে বলা হয় মসজিদের শহর। এ শহরে কতশত মসজিদ আছে তার কোনো হিসাব নেই। এ মসজিদগুলো শহরকে সাজানোর জন্য কোনো স্থপতির পরিকল্পিত সৃষ্টি নয়। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা তাদের ইবাদতের জন্য এগুলো তৈরি করেছেন। সারাদেশের চিত্রই এ রকম।

এদেশের মুসলিমরা ধর্মপ্রাণ ধর্মকে ভালোবাসে। পারিপার্শ্বিক নানান কারণে তারা ইসলামকে ভালোভাবে জানে হয়ত না। তবে জানতে চায়। ওয়াজ মাহফিলগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখেন, হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়। ধর্মকে জানতে তারা বইও পড়ে প্রচুর। বাংলাবাজারে খোঁজ নিন, এক ইসলামি টাওয়ারে একদিনে যা বিক্রি হয় সারা বাংলাবাজারে সারা মাসেও তা হয় না। এদেশে ধর্মীয় বইয়ের প্রকাশনীও আছে প্রচুর।

কিন্তু এদেশে ‘জাতীয়’ নামের এক বইমেলা আছে। সেখানে ইসলামি বইয়ের প্রকাশনীগুলোর কোনো স্থান নেই। তাহলে এদেশে বসবাসকারী বাঙালি বাংলাদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা কি এ জাতির অংশ নয় নাকি এ বইমেলাই জাতীয় বইমেলা নয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বইমেলার সাম্প্রদায়িকতা চেহারা দেখে আসছি।

 

মাহবুব মোর্শেদ ।।

বইমেলায় ইসলাম ধর্মীয় বইয়ের প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয় না। ধরা যাক, এটা সেকুলার একটা উদ্যোগ। পাশাপাশি, অন্য ধর্মীয় সংগঠন ও ধর্মীয় বইয়ের প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ধরা যাক, এটা উদারতাবাদ।

আবার কোনো বইয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশিত হলে পুলিশিং করে সে বই প্রত্যাহার করা হয়। এটাকে স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ধরা যায়। এগুলো কর্তৃপক্ষের তরফে ঘটছে। আবার লেখক-প্রকাশক সমাজে দেখেন, ইসলামের বিপক্ষে লিখে কারো স্টল বন্ধ হলে তারা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যাবেন। প্রতিবাদে ফেনা তুলে ফেলবেন। আবার ইসলামী বইয়ের প্রকাশক গ্রেফতার হলে টু শব্দটিও নেই।

প্রশ্ন হলো, আপনি যদি ইসলামী মত প্রকাশের গুরুত্ব স্বীকার না করেন তাহলে ইসলামের নামে যখন কারো মত রুদ্ধ করা হবে তখন আবার সেটার বিরুদ্ধে কীভাবে দাঁড়াবেন? আপনার আসলে কী চান? আমরা আসলে কী চাই?