জমিয়তের কর্মী সম্মেলনে আল্লামা কাসেমী: অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

164

ইসলাম টাইমস প্রতিবেদন: সারাদেশ থেকে আসা কর্মীদের উপস্থিতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ আজ শুক্রবার বাদ জুমা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়ে সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটায় সদরে জমিয়তের মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলন সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

সম্মেলনে দলের সভাপতি আব্দুল মুমিন শায়খে ইমামবাড়ীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান মাওলানা মঞ্জুরুল হক আফেন্দি। লিখিত বক্তব্যে ভারত, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিনের মানুষদের নির্যাতনের নিন্দা করে তা বন্ধের আহবান জানানো হয়৷

দলটির মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বর্তমান সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনসহ দেশের অরাজকতা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন৷ তিনি বলেন, জমিয়ত জ্বালাও-পোড়াও ও ভাংচুরে বিশ্বাস করে না। জমিয়ত শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার নিয়ে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও অধিকার আপনা আপনি কেউ ফিরিয়ে দেবে না। এসব কেড়ে নিয়ে জুলুমের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে আপনা আপনি ফিরিয়ে দিতে নয়। জনগণকে সোচ্চার হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এসব অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগী মানসিকতা নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

তিনি জমিয়তের প্রতিটি নেতাকর্মীকে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবাধিকারের পক্ষে দলীয় শৃঙ্খলার আওতায় সর্বোচ্চ চেষ্টা-সাধনার মাধ্যমে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।

সম্মেলনে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করা, দ্রব্যমূল্যের দাম কমানো ও ভারতে মুসলমানদের উপর অনৈতিক নির্যাতন বন্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে চাপ প্রয়োগ করাসহ আরও বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেন  জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া৷

এছাড়াও সম্মেলনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূল থেকে আসা বহু কর্মী উপস্থিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের পূর্ব নির্ধারিত থাকলেও শেষ সময়ে এসে প্রশাসন তা বাতিল করে দেয়। তাই বিকল্প ভেন্যু হিসেবে গুলিস্তান সংলগ্ন কাজী বশির মিলনায়তনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় মিলনায়তনের ভেতর ও বাহিরে বেশ কয়েকটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।