ছবি কথা বলে: ইয়েমেনে চরম সঙ্কটেও তারা ভুলে যাননি পর্দা ও দ্বীনদারীর কথা

তারিক মুজিব ।।

ছবি কথা বলে। বাক্যটি হরহামেশায় ব্যবহার করা হয়। কভারের ছবিটিও কথা বলছে। চরম সঙ্কটেও দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার কথা। ছবিটি ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে তোলা।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে যে কয়েকটা দেশ ইয়েমন তার অন্যতম। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি সেনাদের প্রভাব বিস্তারের যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেনের সাধারণ নাগরিকদের জীবন।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাকে অনেক আগেই ক্ষুধার নগরী ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইয়েমেনের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভুগছে। গত কয়েক বছরে অপুষ্টিতে ইয়েমেনে মারা গেছে ৮৫ হাজারেরও বেশি শিশু।

হামলার ফাকে ফাকে ইয়েমেনে যে পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছে তা দেশটির অধিবাসীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই অনেক ইয়েমেনি পাড়ি দিয়েছেন ইউরোপের দেশে। সেখানে বাস্তুহারা জীবন তাদের।

যুদ্ধ ইয়েমেনের ধর্মীয় জীবনেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ক্ষুধা, দারিদ্র সম্ভ্রান্ত ইয়েমনবাসীদেরও দ্বীনের ব্যাপারে করে তুলেছে উদাসীন। যেনবা ‘দারিদ্র কখনো কুফুরি ডেকে আনে’ হাদিসের বাস্তব প্রতিচ্ছবি ইয়েমেন।

এরও মাঝে কিছু পরিবার আছে-শত কষ্টেও তারা দ্বীন বিচ্যুত হয়নি। ঐতিহ্যগতভাবে তাদের মধ্যে যে ধর্মচর্চা যুদ্ধের মতো চরম সঙ্কটও তা টলাতে পারেনি। কভারের ছবিটি তেমনি কোনো পরিবারের হবে।

এএফপির তোলা ছবিটি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে সৌদি আরব ভিত্তিক আরবি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। আমেরিকা থেকে আসা ত্রাণের ভাগ নিতে লোকালয়ে এসেছেন ছবির পর্দানশীন নারীরা। দীর্ঘদিনের চরম বিপর্যয়েও যে তাদের দ্বীনের চর্চায় এতটুকু চিড় ধরাতে পারেনি এটা নিয়ে বেশ প্রশংসা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

নিজেদের ডেরা ছেড়ে ত্রাণ নিতে লোকালয়ে আসতে তাদের যথেষ্ট বেগ পোহাতে হয়েছে। কিন্তু করারই বা কী আছে!

চরম দুর্দশাগ্রস্ত তাদের জীবন। কারো স্বামী মারা গেছে আমেরিকান ড্রোন হামলায়। কারো ভাই মারা গেছে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণে। কারো সন্তান হয়েছে সৌদি সেনাদের ছুড়া মিসাইলের বলি।

আদতে তারা তো বেশ শান্তিতেই ছিলেন। যুদ্ধ তাদের জীবনকে গতিহীন এবং স্থবির করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন