কুতুবুদ্দীন আইবেক : দাস থেকে দিল্লীর বাদশাহ 

মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান ।।  বিবাড়িয়া

উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মুসলিম বাদশাহ যিনি হয়েছিলেন তিনি সুলতান শিহাবুদ্দীন মোহাম্মদ ঘোরীর আযাদকৃত গোলাম কুতুবউদ্দিন আইবেক। নিশাপুরের কাজী ফখরুদ্দীন অতি সামান্য মূল্যে একটি ছোট্ট গোলাম বাজার থেকে ক্রয় করেন। এ-ই কমদামী গোলামই যে একদিন উপমহাদেশের বাদশাহ হবে তা ক্রেতা বিক্রেতা কেউ-ই জানত না।

বিজ্ঞাপন

এ গোলামটি কিছুদিন নিশাপুরের মাদ্রাসায় লেখা পড়া করে।

কাজী ফখরুদ্দীনের ইন্তেকালের পর তার ওয়ারিসগণ উত্তরাধিকার সূত্রে তাকে লাভ করে। কৃষ্ণবর্ণ হওয়ার কারণে অপছন্দ করে তাকে বাজারে বিক্রয় করে দেওয়া হয়। ক্রয় করেন সুলতান শিহাবুদ্দীন ঘোরী।

গোলাম কুতুবউদ্দিন আইবেক সুলতানের বিশেষ ভৃত্য হিসেবে কাজ শুরু করে। তার যোগ্যতা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে সুলতান তাকে অনেক হীরা জহরত দান করেন। কুতুবউদ্দিন আইবেক সব হীরা জহরত শাহী খাদেমদের মাঝে বিতরণ করে দেন। তার এই দানশীলতার সংবাদে খুশী হয়ে সুলতান তাকে আমীরদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন।এবং সুলতানের রাজসিংহাসনের পাশে দন্ডায়মান হবার মর্যাদা প্রদান করেন।

এক যুদ্ধে কুতুবউদ্দিন আইবেক যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে তার ফলশ্রুতি স্বরূপ  সুলতান তাকে সিপাহসালার নিযুক্ত করেন। সুলতান শিহাবুদ্দীন ঘোরী যখন উপমহাদেশে আক্রমণের ইচ্ছা করেন,তখন কুতুবউদ্দিন আইবেককে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করেন।

এমনভাবে একেরপর এক সাফল্য অর্জন করে একপর্যায়ে কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লির বাদশাহ হন।

তার শাসনামলে কোষাগারে কোনো প্রহরী থাকত না। একই ঘাটে মেষ ও নেকড়ে বাঘ পানি পান করতো। চুরিডাকাতি সম্পর্কে তখনকার মানুষ ছিল অজানা। তিনি ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ খাদেম। এক কথায় বলা যায়, তার শাসনামল ছিল শান্তিময়।

পবিত্র হাদীস শরিফে রয়েছে যে,আল্লাহতায়ালা তোমাদের ছবি বা ধনসম্পদের দিকে দৃষ্টিপাত করেননা, তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে দৃষ্টিপাত করেন।

অন্তরের নিয়ত যদি সঠিক হয়,তাতে যদি এখলাস থাকে, আর আমল যদি নেক হয়, সাথে যদি ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতার  বিকাশ থাকে তাহলে এমন ব্যক্তির উন্নতি অগ্রগতি অবশ্যম্ভাবী।

বিজ্ঞাপন