সংসদে ইনুর আলেম-বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন দুই ইসলামি আলোচক

721

ওলিউর রহমান ।।

গণ বাহিনীর সাবেক নেতা, বর্তমান জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু গতকাল সংসদে এ দেশের সম্মানিত আলেমদের প্রতি চরম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম উলামার প্রতি দীর্ঘদিনের লালিত বিদ্বেষই গতকাল সংসদের ভাষণে আবারও উগরে দিলেন বামপন্থী এ নেতা। ইনুর বক্তব্যের প্রতিবাদে সরগরম সামাজিক মাধ্যম। দেশের দ্বীনদার মানুষ নিন্দা জানাচ্ছেন জাসদ নেতার বক্তব্যের।

হাসানুল হক ইনু গতকাল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এ দেশের ধর্মীয় মাহফিলগুলোর ওপর নজরদারি আরোপ প্রয়োজন। এ সময় ওয়ায়েজিন আলেমদের ‘রাজনৈতিক মোল্লা’ বলে ব্যঙ্গ করে গণবাহিনীর সাবেক এ নেতা বলেন, রাজনৈতিক মোল্লারা ওয়াজ-মাহফিলে নারী বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেয়।

ইনুর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কথা হয় বি বাড়িয়ার দারুল আরকাম মাদরাসার পরিচালক বিশিষ্ট আলোচক আল্লামা সাজিদুর রহমান এবং বিশিষ্ট ওয়ায়েজ আলেম সাবেক অধ্যাপক ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সাথে।

আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, সংসদের একজন সদস্য হিসেবে হাসানুল হক ইনুর এমন ঘৃণাচার চরম শ্রুতিকটূ। আলেম-উলামা ও দ্বীনদার মানুষদের নিয়ে ব্যঙ্গ করা তার পুরোনো অভ্যাস ও রাজনৈতিক আদর্শ বলেই মনে হয়। এ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে সে আগ থেকেই প্রত্যাখ্যাত।

এর সাথে যুক্ত করে ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ইনুদের এসব লাগামহীন কথার প্রতি জনগণ ভ্রুক্ষেপের প্রয়োজন মনে করে না। নীতি-নৈতিকতা বা রাজনৈতিক আদর্শ এদের নেই। কেননা এই ইনু এক সময় বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ছিল সবচেয়ে মুখপাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছিল উচ্চকণ্ঠ। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ঝুলিতে কিছু রাষ্ট্রীয় পদবী মেলায় এখন সে দিনমান বঙ্গবন্ধুর জিকির তুলে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি বামপন্থী এ নেতার ভালবাসা প্রকাশকে যেমন দেশের সাধারণ মানুষ সন্দেহের চোঁখে দেখে, তেমনি ধর্ম ও ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে তার ‘চুলকানিময়’ বক্তব্যের প্রতি এ দেশের সাধারণ মানুষের নূন্যতম সম্মানবোধ নেই।

ড. মাওলানা আফম খালিদ আরও বলেন, ধর্মীয় সমাবেশগুলো বর্তমানে দেশের জাতীয় সংস্কৃতির অংশ। সেখানে মানবাধিকার, নারী অধিকার, সুদ,ঘুষ, দূর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজব্যবস্থার কথা আলোচনা করা হয়। সাধারণ মানুষের ওপর এসব ধর্মীয় আলোচনার প্রভাব অনেক বেশি। বামপন্থী নেতারা যেহেতু মানুষের মাঝে ধর্মীয় প্রভাব সৃষ্টির বিষয়টিকে সহ্য করতে পারে না তাই সময়ে সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে এ সব ঘৃণামূলক বক্তব্য নিয়ে তারা হাজির হয়। এর দ্বারা আলেমদের প্রতি সাধারণ জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলে সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যও তাদের থাকতে পারে।

মাহফিলের নজরদারি নিয়ে ইনুর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, মাহফিলগুলো তো গোপন কোনো বৈঠক নয়। সবার জন্যই উন্মুক্ত। সকল শ্রেণির মানুষ মাহফিলে এসে দ্বীনের কথা শুনে। তাহলে আবার নজরদারির কথা কেন আসবে?

নাকি নিজেদের নানাবিধ অপকর্ম থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি ফেরাতে হাসানুল হক ইনু ওয়াজ মাহফিলের প্রতি নজরদারি আরোপের কথা বললেন তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। যোগ করেন আল্লামা সাজিদুর রহমান।

সাধারণ মানুষ ইনুর এ বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে ড. আফম খালিদ হোসেন সংসদে এ বক্তব্যকে এক্সপাঞ্জের দাবিও জানান।

এ দিকে আল্লামা সাজিদুর রহমান বলেন, আলেমদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করাকে হাদিসে আল্লাহর সাথে যুদ্ধ ঘোষণার নামান্তর আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইনুরা নিজেরা আলেম বিদ্বেষী হওয়ার পাশাপাশি মানুষের মাঝে এ বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিতে চায়। কিন্তু এ দেশের মানুষ তাকে এবং তার সমগোত্রীয়দের আরও আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে।