বি-বাড়িয়ায় আলেমদের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা কিছু সাংবাদিকের: নেপথ্যে কী?

433

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: গত সোমবার ২০ জানুয়ারি বাহ্মণবাড়িয়ায় কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি এবং মাদরাসা ছাত্রদের ওপর কাদিয়ানিদের হামলার প্রতিবাদে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য করা হয়েছে দাবি করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা কওমি মাদরাসা ও হেফাজতে ইসলামের সংবাদ বর্জনের ডাক দেয়।

ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানতে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসার সহকারি নাযেমে তালিমাত মাওলানা আবদুর রহিমের সঙ্গে।

তিনি জানান, কাদিয়ানি ইস্যুতে গত সোমবার বাহ্মণবাড়িয়ায় বিশাল বড় মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় সাংবাদিক পরিচয়ে অনেকেই ছবি তুলতে মঞ্চের সামনে ভিড় করলে মাইকে ঘোষণা করা হয় প্রেস কার্ড ছাড়া কেউ যেন ছবি তুলতে মঞ্চের সামনে ভিড় না করেন। এছাড়া ছবি তুললেও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের ব্যাপারে এক স্থানীয় সাংবাদিককে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মানবন্ধনে ছবি তুলতে যাওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে একটি সংবাদসম্মেলন করেন। এ সংবাদসম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্য করা হয়েছে দাবি করে কওমি মাদরাসা, হেফাজতে ইসলামের সংবাদ বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।

মাওলানা আবদুর রহিম জানান, স্থানীয় সেই সাংবাদিকের সাথে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তিনি দাবি করেন বাহ্মণবাড়িয়ার বিশিষ্ট দুই আলেম, আল্লামা সাজিদুর রহমান ও আল্লামা মোবারকুল্লাহ সরাসরি উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে ক্ষমা না চাইলে তিনি সংবাদ বর্জনের কর্মসূচি থেকে সরে আসবেন না। এর প্রেক্ষিতেই তারা সংবাদ সম্মেলন করে।

মাওলানা আবদুর রহিম বলেন, বাহ্মণবাড়িয়ার উলামায়ে কেরাম সাংবাদিকদের এ কাজকে হঠকারী সিদ্ধান্ত মনে করছেন। আগামীকাল সারা জেলাব্যাপী কর্মসূচি থেকে তাদের কাজের নিন্দা জানিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হবে।

কাদিয়ারি ইস্যুতে উত্তেজনার মুহূর্তে এক শ্রেণীর সাংবাদিকদের দ্বীনদার মানুষদের অথরিটি কওমি মাদরাসা ও হেফাজতে ইসলামের সংবাদ বর্জনের ঘটনাকে সন্দেহের চোঁখে দেখছে বাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, কাদিয়ানিরা মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা করার পরও নানাভাবে কাদিয়ানিদের থেকে সুবিধা ভোগকারী কিছু সাংবাদিককে দেখা যাচ্ছে কাদিয়ানিদের পক্ষ হয়েই কাজ করে যাচ্ছেন। যা খুবই বেদনাদায়ক। এ ঘটনা সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখোমুখি করছে।