মসজিদে কিবলাতাইন: পৃথিবীর প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম

92

মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ।।

মসজিদে কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদ। এটি সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। ঐতিহাসিক দিক থেকে এই মসজিদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটি পৃথিবীর প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। পূর্বে এই মসজিদে দুইটি মিহরাব ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে মসজিদের পুনর্নির্মাণের সময় বাইতুল মুকদ্দাসমূখী মিহরাব সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

এ মসজিদেই প্রিয়নবী (সা.) এর দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল। এখানে নামাজ পড়ার সময় আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর কাছে কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশের ওহি আসে। কিবলা পরিবর্তন সম্পর্কিত পবিত্র কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়।

ইরশাদ হয়, “ নিশ্চয় আমি আপনার মুখ বার বার আকাশের দিকে উঠতে দেখছি। সুতরাং আমি অবশ্যয় আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৪)।

এরপর রাসূল সা. নামাজরত অবস্থায় বাইতুল মুকাদ্দাসের দিক থেকে কা’বার দিকে ফিরে যান। তার সাথে জামাতে নামাজে দাঁড়ানো মুসল্লিরাও ফিরে যায়। একই মসজিদে দাঁড়িয়ে যেহেতু হুজুরে পাক সা. দুই কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়েছিলেন তাই এই মসজিদের নাম ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ বা ‘দুই কিবলার মসজিদ’ রাখা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী আরবীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ ঐতিহাসিক মসজিদে এক সাথে   দুই হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। আয়তন তিন হাজার ৯২০ স্কয়ারমিটার। মসজিদটিতে রয়েছে আট মিটার ও সাত মিটার দুটি গম্বুজ। রয়েছে দুটি মিনার। ইসলামের স্বর্ণালি ইতিহাসে ‘মসজিদে কিবলাতাইনের’ আবেদন চিরভাস্বর।

দ্বিতীয় হিজরিতে মদিনা মুনাওয়ারার বনি সালামা অঞ্চলের খালিদ বিন ওয়ালিদ সড়কসংলগ্ন এ মসজিদটি সর্বপ্রথম রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নির্মাণ করেন। অতঃপর ১০০ হিজরিতে কিংবদন্তি ন্যায়পরায়ণ শাসক, দ্বিতীয় ওমর নামে খ্যাত খলিফা হজরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ পুনর্নির্মাণ করেন।

এর দীর্ঘকাল পর  ৮৯৩ হিজরিতে মসজিদে নববীর প্রখ্যাত খাদেম শুজায়ি শাহিন আল জামালি ছাদসহ ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ পুনর্নির্মাণ করেন। এই নির্মাণের ৫৭ বছর পর তুরস্কের উসমানীয় খলিফা সুলাইমান আল কানুনি ৯৫০ হিজরিতে আগের তুলনায় বৃহৎ আয়তনে ‘মসজিদে কিবলাতাইন’ পুনর্নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র: ইবনে কাসীর, মাআরিফুল কোরআন, উইকিপিডিয়া