বাংলাদেশে মিল্কব্যাংক প্রতিষ্ঠা : যা বললেন দুই বিশিষ্ট আলেম

তারিক মুজিব ।।

সম্প্রতি রাজধানীর শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে মাতৃদুগ্ধ ‘সংরক্ষণের’ জন্য হিউম্যান মিল্কব্যাংক চালু করা হয়েছে। যাদের সন্তান মারা গেছে বা সন্তানকে পান করানোর পরও যেসব মায়েদের বুকের দুধ অতিরিক্ত থাকে তারা চাইলে সেই মিল্ক ব্যাংকে তা দান করতে পারবে। আর যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে তা নিতে পারবে।

আপাত দৃষ্টিতে হিউম্যান মিল্কব্যাংকের এ উদ্যোগটিকে অত্যন্ত ‘কল্যাণকর’ মনে হলেও এর মাধ্যমে একটি বড় ধরনের স্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি হবে। ইসলামে ‘হুরমতে রাযাআত’ দুধ পানের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার যে বিধান মিল্কব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ইসলামি শরিয়তের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। মিল্কব্যাংক এই পদ্ধতিকে ধ্বংস করবে। বহু অজানা দুধ ভাই বোন হবে। যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম। ফলে অজ্ঞাতেই বহু হারাম বিবাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

আরও পড়ুন : হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক: কী বিপদ ? কী বিকল্প?

মারকাযুদ্দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার শিক্ষক মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ মিল্কব্যাংক বিষয়ে ইসলাম টাইমসকে বলেন, পাশ্চাত্যের অনুসরণে মিল্কব্যাংক-এর কার্যক্রম শুরু করা একটি মুসলিম সামাজিকতা বিরোধী উদ্যোগ। বাঙ্গালী মুসলিমের আবহমান সংস্কৃতি পরিপন্থি একটি কাজ। ধর্মীয় বিধি নিষেধ তো আছেই। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিন্দনীয়।

মিল্কব্যাংক বিষয়ে রাজধানীর বাইতুল উলূম ঢালকানগর মুহাহাদ্দিস মুফতি শাব্বীর আহমাদ ইসলাম টাইমসকে বলেন, মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণ ও বিতরণের এ উদ্যোগটিকে আপাত দৃষ্টিতে কেউ কল্যাণের মনে করতে পারে। কিন্তু ইসলামে পারিবারিক সম্পর্কের যে স্থিতিশীলতা এর মাধ্যমে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমুহ আশঙ্কা বিদ্যমান। এখান থেকে কে কার দুধ পান করবে তা নির্দিষ্ট না করতে পারায় বিবাহ-পর্দা শরিয়তের বহু ক্ষেত্রেই সমস্যা সৃষ্টি হবে। সেজন্য মিল্কব্যাংক কখনো মুসলমানের জন্য কল্যাণের হতে পারে না। প্রয়োজন হলে কোনো মুসলিম শিশুকে নির্দিষ্ট অন্য কোনো মুসলিম নারীর দুধ পান করানো অবশ্যই জায়েয। এটা কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রমাণিতও। তবে দুধ সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য মিল্কব্যাংক এর অনুমতি শরিয়ত দেয় না।

মুফতি শাব্বীর আহমদ বলেন, মুসলিম দেশ সমুহের আন্তর্জাতিক সংস্থা ওআইসি-এর ধর্মীয় বিধান বিষয়ক বোর্ড ‘মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী আদ দুওয়ালি’ থেকে মিল্কব্যাংক বিষয়ে হারামের ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ সালে বোর্ডের এক বৈঠকে মিল্কব্যাংক বিষয়ে হারামের এ ফতোয়া প্রদান করা হয়।

মিল্কব্যাংক কর্তৃক ডোনারদের ডাটা সংরক্ষণের বিষয়ে ঢালকানগর মাদরাসার এ সিনিয়র মুহাদ্দিস বলেন, এটি একটি ঘোষণা মাত্র। এর বাস্তবায়ন কতটুকু কী হবে তা সংশয়পূর্ণ। তাছাড়া এমন অনেক পদ্ধতি আছে যেখানে ডাটা সংরক্ষণেরও তেমন কার্যকরিতা থাকবে না। তাই সামগ্রীক বিবেচনায় মিল্কব্যাংককে হালাল বলার কোনো মুযোগ থাকে না।

বাংলাদেশে মিল্কব্যাংক কার্যক্রম চালু করতে যাওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মাওলানা যাকারিয়া আবদুল্লাহ বলেন, মিল্কব্যাংকের উদ্যোগ যে শরিয়ত এবং সামাজিকতা পরিপন্থী তা বিস্তারিত প্রমাণাদীর আলোকে প্রশাসনের দায়িত্বশীল এবং সাধারণ মানুষদের বুঝিয়ে এটি বন্ধের দাবি জানানো উচিত। বাংলাদেশের দায়িত্বশীল আলেমদের এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পূর্ববর্তি সংবাদজনতার মারধরের কবলে ভারতীয় পুলিশ, বাঁচালেন ৭ মুসলিম যুবক
পরবর্তি সংবাদআওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে : মির্জা ফখরুল