প্রিয় মুফতি আমিনী রহ: টুকরো অভিব্যক্তি

মুহাম্মদ ইসমাঈল হাবীব।।

১২ই ডিসেম্বর, প্রতি বছর ঘুরে ফিরে আসে এই তারিখ। ইতিহাসের পাতায় বিরহমাখা একটি দিন। এই দিন এলে আর তাঁর কথা মনে হলে শোকের একটি আবহ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। প্রতিটি কওমি হৃদয় কেঁদে ওঠে। তাঁকে হারানোর শোক-ব্যথা চাইলেও মুছতে পারি না। স্মৃতিরা নতুন করে জেগে ওঠে। এই শোক-বিহবলতা প্রাণপ্রিয় মুফতি আমিনীর জন্য। হঠাৎ করেই যেন তিনি পৃথিবীর কোল ছেড়ে চলে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

১৯৪৫ থেকে ২০১২ পর্যন্ত একটি তাজাপ্রাণ জেগেছিল মুসলিম উম্মাহর প্রাণ হয়ে। তাকে নিয়ে কী বলব! বললে ছোট করে বলা হবে। মনে হবে, না! তিনি এর থেকেও বড়, অনেক বড় ছিলেন।

তিনি ছিলেন, ‘রুহবানুন ফিল লাইলি, ওয়া ফুরসানুন ফিন নাহার’ এর জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। অমিত সাহসের অধিকারী, রাজপথে, মাঠে-ময়দানে বক্তৃতার ডায়াসে বলিষ্ঠ কন্ঠে কথা বলতেন। কারো পরোয়া করতেন না।

মুরতাদ বিরোধী আন্দোলন, বাবরি মসজিদ আন্দোলন এবং ফতুয়ার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায় বিরোধী ইত্যাদি আন্দোলনে বলিষ্ঠ ও সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন। প্রবল-প্রতাপে বাতিলের বিরুদ্ধে এ্যাকশন গ্রহণ করতেন যখন-তখন।

কিতাব মুতা’আলা তার অনেক প্রিয় ছিল৷ রাতের পর রাত কিতাবের পাতায় মুখ গুঁজে বসে থাকতেন। হযরে-সফরে কিতাব পড়তেন ক্লান্তিহীন-শ্রান্তিহীন। লালবাগ মাদ্রাসার কুতুবখানার কিতাবগুলো তার নীরব সাক্ষী হয়ে আছে। হাফেজ্জী হুজুরের উক্তি, “আগার মুতা’আলা করনা হে তো, আমিনী কী তারাহ করো” অর্থাৎ যদি মুতা’আলা ও পড়াশোনা করতে হয় তবে আমিনীর মতো করো।

কোরআন – সুন্নাহ এবং দেশ-জাতির পক্ষে বলে গেছেন জীবনভর। ক্ষমতাসীনরা কৌশলে নিরাপত্তার নামে প্রায় দু’বছর তাকে গৃহবন্দী করে রাখে। অবশেষে তিনি ১২-১২-১২ তারিখে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

প্রিয় আমিনী সাহেব-এর একটি স্মৃতি এখনো মনে পড়ে। ২০০৪-এর কথা। বিশাল জনসমুদ্রের সামনে বসে বয়ান করছিলেন। তখন সারাবাংলায় তিনি আলোচিত ও বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। বড় স্বপ্ন ছিল তাঁকে দেখব। সে স্বপ্ন সেদিন পূরণ হয়েছিল। খুব কাছে থেকেই দর্শন করেছিলাম প্রিয় আমিনীকে। হাসিহাসি মুখে বয়ান করছিলেন। এরপর আর দেখা হয়নি। দেখা হবেও না আর কোনোদিন।

প্রিয় মুফতি আমিনী! আপনি চলে গেছেন, আর ফিরবেন না। বলিষ্ঠ কন্ঠে আর বক্তৃতা শুনতে পারব না। আপনি লড়েছিলেন আমাদের হয়ে। আমরা বড়ই কৃপন, অকৃতজ্ঞ। আপনাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করতে পারিনি। এখন আর কেউ আপনাকে কষ্ট দিবে না। আপনি এখন মুক্ত-স্বাধীন। আল্লাহ তা’আলা আপনাকে জান্নাতের সবুজ জমিনে ঠাঁই দিন। আমীন।

লেখক: জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়া মোহাম্মদপুর ঢাকা

বিজ্ঞাপন