দেশের বরেণ্য আলেমদের দৃষ্টিতে মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

1968

 শিহাব সাকিব ।।

মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া ঢাকার আমীনুত তালিম ও মাসিক আল কাউসারের তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। কীর্তিমান এক মনীষী। আপন প্রতিভায় ভাস্বর। গবেষণা ও লেখনীর মাধ্যমে জয় করে নিয়েছেন দেশ ও দেশের বাইরের হাজার হাজার ইলম পিপাসুর হৃদয়।  সমানভাবে সমাদৃত হয়েছেন তার খ্যাতিমান শিক্ষক ও শিক্ষকতুল্য গবেষক আলেমদের কাছে। তার উস্তায মাওলানা আবদুর রশিদ নুমানি, শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ, শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামা, মুফতি তাকি উসমানিসহ অনেক বড় বড় মনীষী তার ইলমী যোগ্যতা, মেধা ও গবেষণার প্রশংসা করেছেন। এ দেশের মুরব্বি ও সমকালীন আলেমদের কাছেও বরিত ও গ্রহনযোগ্য নাম আবদুল মালেক। কিন্তু দেশের অতি ক্ষুদ্র একটি মহল যারা নিজেদেরকে ‘ইসলামী মহল’ হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকে, তাদের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই তাঁর দিকে কাদা ছোড়ার চেষ্টা করা হয়, যা তাঁর ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবর্তে ওই মহলটিকেই চিনিয়ে দেয়। এবং এতে কখনো কখনো সরল চিন্তার সাধারণ মানুষ অস্থিরতার শিকার হন। এই নিবন্ধে আমরা মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সম্পর্কে দেশের বরেণ্য কয়েকজন মহান ব্যক্তির অভিমত তুলে ধরব, ইনশা আল্লাহ।

হযরত মাওলানা শাহ আহমদ শফি সাহেব বলেন, “মাওলানা আবদুল মালেক সাহেব সমকালীন একাধিক প্রখ্যাত আলেম ও হাদীস বিশেষজ্ঞদের সুদীর্ঘ সোহবত লাভে ধন্য হয়েছেন এবং হাদীসশাস্ত্রে তাঁর একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে ওলামায়ে কেরামের নিকট সমাদৃত হয়েছে।”

হযরত মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী সাহেব বলেন, “আমাদের দেশের গৌরব, আমাদের জন্য সাআদাত মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মালেক দামাত বারাকাতুহুমুল আলিয়া৷ তার অস্তিত্ব নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য সাআদাত-সৌভাগ্য এবং বহুত বড় বরকতের বিষয়।”

মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ সাহেব লিখেন, “মাওলানা আব্দুল মালিক। তাঁর সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, তিনি “আব্দুল মালিক”! যারা ইসম অতিক্রম করে ‘মুসাম্মায়’ যেতে চান তাদের বলবো, হাদীস শাস্ত্রের উপর তাঁর গবেষণাগ্রন্থ المد خل  إلى علوم الحديث الشريف পড়ুন।

আর যারা মুসাম্মা অতিক্রম করে সনদ ও মুসনাদের ঊর্ধ্বস্তরে যেতে চান তাদের জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, আরবজাহানের সর্বজনমান্য মুহাদ্দিসগণেরঅন্যতম ফযীলাতুশ শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ. এক পত্রে তাঁকেলিখেছেন-

لاتغفلواعن محبكم الذي دخل إلى قلبكم ودخلتم قلبه

তুমি তোমাকে মুহববতকারী এই মানুষটিকে ভুলে যেয়ো না, যে তোমার দিলের ভিতরে দাখেল হয়েছে, আর তুমিও তার দিলে দাখেল হয়েছো (সংক্ষেপিত)।

তুরস্কে বসবাসরত সিরিয়ার বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন শায়খ মুহম্মদ আওয়ামাহ, তাঁর সঙ্গে মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক ছাহেবের আন্তরিক সম্পর্ক, বরং স্নেহশফকতের সম্পর্ক। তাঁর পুত্র মুহীউদ্দীন আওয়ামাহ, ইলমমনস্ক, উদ্যমী ও প্রাণবন্ত এক যুবক। তিনি তুরস্কের ইসতাম্বুল শহরে ১৫ই যিলকাদ শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনের আয়োজন করছেন। পৃথিবীর বহু দেশের প্রায় চারশ ওলামা মাশায়েখ ওইসলামী চিন্তাবিদ ঐ সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে আসছেন।

এই সম্মেলনের আয়োজক শায়খ মুহীউদ্দীন মাওলানা আবদুল মালেক সাহেবকে শুধু উপযুক্তই মনে করেননি, আরো চারজন উপযুক্ত সদস্য নির্বাচনের দায়িত্বও তাঁর উপর অর্পণ করেছেন।”

মাওলানা আবুল বাশার সাহেব তাওযীহুল কুরআন (বাংলা) ৩য় খণ্ডের ভূমিকায় লিখেন, “মাওলানা আবদুল মালেক সাহেবের দ্বারা অনুরুদ্ধ হয়েই আমি এ গ্রন্থের অনুবাদে হাত দিয়েছি। বস্তুত তার অনুরোধ আমার পক্ষে আদেশ অপেক্ষাও বেশি কিছু এবং আমার জন্য এটা অনেক গৌরবের বিষয়। আল্লাহ তাআলা তাকে সিহহাত ও আফিয়াতের সাথে দীর্ঘজীবী করুন এবং উম্মতের ইলমী ইমামতের জন্য কবূল করে নিন।”

মাওলানা আবদুল মতিন বলেন, “আমরা ঢাকায় কাজী মুতাসিম বিল্লাহ, মাওলানা নূর হুসাইন কাসিমীর মত বড় আলেমদের কাছে পড়েছি। দেওবন্দ গিয়েও বড় বড় আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেছি। তবুও আমরা কেন মাওলানা আবদুল মালেকের ভক্ত? তাঁর কাছে ইলম আছে। এরকম মানুষ আমরা দেখিনি। সারাবিশ্বের আলেম ওলামা তার কদর করেন।”

এছাড়াও তার সম্পর্কে তার উস্তাযসহ দেশ বিদেশের বরেণ্য ব্যক্তিদের অনেক চিঠি রয়েছে, যাতে মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। আমরা সেগুলো সময় সুযোগমত পেশ করব, ইনশাআল্লাহ।