মাটির ব্যাংকে লুকানো ভালোবাসা

302

এনাম হাসান জুনাইদ ।।

গতকাল হযরতপুর মারকাযে গেলাম। মারকাযের মসজিদ সম্প্রসারণ উদ্বোধন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল। আকাশের অবস্থা ভাল ছিল না। কিন্তু মনটা কিছুতেই মানল না। একে তো বাবরি মসজিদের কারণে মনটা অনেক খারাপ ছিল। ভাবলাম, মসজিদের উদ্বোধনের মাহফিলে শরীক হলে হয়তো কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাওয়া যাবে। তাছাড়া হযরতপুরের মরকাযের সাথে, মারকাযের কিতাবপত্র, রাস্তাঘাট, বাগান ও গাছগাছালি এবং ছাত্র-উস্তাযদের প্রতি একটা টান তো আছেই।

****
জোহরের নামাজের পর মুদীর ছাহেব হুজুর (মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মদ আবদুল্লাহ) একটা ঘটনা শোনালেন। আমার চোখে পানি এসে গেল। মসজিদের প্রতি সাধারণ মানুষের কেমন হৃদয় উজাড়করা ভালবাসা!

হুজুর বললেন, হুজুরের শিক্ষকতার প্রথম আমলের একজন ছাত্র তার এক মুসল্লিকে নিয়ে এসেছেন দুআ মাহফিলে । ওই মুসল্লি বিয়ে করেছেন ২০১২ সনে। তখন থেকেই তার স্ত্রী মাটির ব্যাংকে টাকা জমাতেন।

আজকে আসার সময় স্ত্রী শোনলেন স্বামী মারকাযে যাচ্ছেন। ওখানে একটা মসজিদের উদ্বোধন হবে। স্ত্রী বললেন, দাঁড়াও।

এই বলে তিনি তারঁ ব্যাংকটা বাড়িয়ে দিলেন।

“আমি তো এই ব্যাংকে মসজিদের জন্যেই টাকা জমাচ্ছি,” বললেন তার স্ত্রী।

ওই মুসল্লি ব্যাংক ভাঙ্গতে চাইলেন কিন্তু স্ত্রী অনড়, এটি ভাঙ্গা ছাড়াই জমা দিতে হবে।

এখন মাটির ব্যাংক নিয়ে মুসল্লি উপস্থিত।

***
নিশ্চয় বাবরি মসজিদের প্রতিটি ইটের কণায় কণায় যুগে যুগে অসংখ্য মা-বোনের এমন ভালবাসা লুকিয়ে ছিল। কত কত নেককার আল্লাহ ওয়ালাদের চোখের অশ্রুতে ভিজেছিল এই মসজিদের মাটি। কত কত প্রজন্মের সিজদার সাক্ষী এই বাবরি মসজিদ! কিন্তু আজ…

মুদির ছাহেবের কথায় বড় সান্ত্বনা পেলাম, মসজিদে হারামেও মূর্তি ঢুকেছিল। তা আবার বের হয়েছে। বাবরি মসজিদে মূর্তি ঢুকানো হলেও একসময় এটাও থাকবে না। একসময় আবার সেখানে মসজিদের কার্যক্রম চলবে ইনশাআল্লাহ।

লেখকের ফেইসবুক থেকে নেয়া