এক নজরে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ইতিহাস

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসের ৬ তারিখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং এর সহযোগী সংগঠনের কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাতে ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ শহীদ করে।

ওই স্থানে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে আগত লোকজন সহিংস হয়ে উঠার পর ধ্বংসযজ্ঞটি সংগঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী অযোধ্যা হল তাদের দেবতা রামের জন্মভূমি। ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল সেনাপতি মির বাকি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বাবরি মসজিদ নামে পরিচিত।

তিনি যে স্থানে মসজিদটি নির্মাণ করেন তা কিছু হিন্দুর কাছে রাম জন্মভূমি বলে অভিহিত হয়ে থাকে। আশির দশকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) তাদের রাজনৈতিক সহযোগী ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সঙ্গে নিয়ে ওই স্থানে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য প্রচারাভিযান চালায়।

রাম মন্দির নির্মাণের জন্য কিছু শোভাযাত্রা ও মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল। এসব শোভাযাত্রা ও মিছিলের মাঝে অন্তর্ভুক্ত ছিল রাম রথ যাত্রা, যার নেতৃত্বে ছিলেন লাল কৃষ্ণ আদভানি।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ওই স্থানে দেড় লাখ করসেবককে নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের করে।

শোভাযাত্রা চলাকালীন সময় তারা সহিংস হয়ে পড়েন এবং মসজিদটি ভেঙে শহীদ করে দেয়।

পরবর্তীকালে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা যায় যে, ঘটনাটির সঙ্গে ৬৮ জন জড়িত, যাদের মাঝে অনেক বিজেপি এবং ভিএইচপির নেতাদের নামও বিদ্যমান।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কারণে ভারতের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মাঝে সৃষ্টি হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যা কয়েক মাস ধরে চলেছিল। এছাড়া এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ও তাদের দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হয়েছিল।

সূত্র: উইকিপিডিয়া

বিজ্ঞাপন