আবরার হত্যা: পূর্বাপর ঘটনা নিয়ে দুই আলেম রাজনীতিকের বিশ্লেষণ

381

তারিক মুজিব ।।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। গত রবিবার (৭ অক্টোবর) রাতে ভার্সিটির শেরে বাংলা হলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় আবরারকে। ভার্সিটি শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা মিলে ৬ ঘন্টাব্যাপী বেধরক পিটিয়ে হত্যা করে তাকে। ধারণা করা হচ্ছে আবরারের ফেসবুকে দেওয়া দেশপ্রেমমূলক একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ঘটানো হয়েছে মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ড। হত্যাকাণ্ডকে ‘বৈধকরণের’ জন্য ‘শিবির সন্দেহে’র তকমা লাগানো হয়েছিল বলেও দেখা গেছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে।

আবরার হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাত্রলীগ থেকে বরখাস্তকৃত ১৩ জনকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে। অবশ্য বুয়েট শিক্ষার্থীরা ‘অনিক সাহা’ নামে একজনকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দাবি করলেও ছাত্রলীগ থেকে তাকে বরখাস্ত না করা এবং মামলায় তার নাম না থাকা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন ধরনের সন্দেহ দেখা দিচ্ছে।

আবরার হত্যাকাণ্ড এবং হত্যার পূর্ব ও পরবর্তী নানান দিক নিয়ে ইসলাম টাইমসের পক্ষ থেকে কথা বলা হয় ইসলামি ঐক্যজোটের সাংগঠিনক সম্পাদক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঙ্গে।

মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, আবরার হত্যার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে দেশে যে কেবল আবরার একাই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার, বিষয়টি এমন নয়। বরং পিটিয়ে, কুপিয়ে, পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা দেশে অহরহ ঘটছে। আবরার হত্যাকাণ্ড ধারাবাহিক যুলুমের প্রকাশ হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা। কিছুদিন পর পর কেবল নাম পরিবর্তন হয় এবং জাতি মানুষ মারার নিত্যনতুন কৌশল সম্পর্কে জানতে পারে। দেশে যে চলমান বিচারহীনতা তা যতদিন থাকবে ততদিন অভিনব হত্যার ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আন্দোলনে কেবল একবার নুসরাতের নাম আসবে, একবার রিফাত শরিফের নাম নেওয়া হবে আর একবার আবরার নাম আসবে।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশে যে ভেগবাদী এবং ক্ষমতা দখলের রাজনীতি তাতে এ প্রশিক্ষণই দেওয়া হয়- যেকোনে উপায়ে ক্ষমতাকে কণ্টকমুক্ত করা। ফলে কেউ যখন প্রতিবাদ করতে চায় তার মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়াই হচ্ছে ভোগবাদী রাজনীতির শিক্ষা। আবরার সে রাজনীতির বলি।

‘আবরারের স্ট্যাটাস এবং দেশপ্রেম’ নিয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের এ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, কেবলমাত্র একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র ছাত্রলীগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে তা বলা যায় না। বরং আমি মনে করি, এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ভারতবিরোধী মনোভাব নিয়ে কেউ যেন উচ্চবাক্য হতে না পারে সেজন্য এটি একটি সতর্ক-বার্তা।

‘শিবির সন্দেহে হত্যা’ প্রসঙ্গে মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন বলেন, এটি একটি হাস্যকর কথা। একজন শিবির করলেই তাকে মেরে ফেলার অধিকার কে দিল। বর্তমানে এটাকে  বিরোধীমত দমনের একটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিদ্যমান রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও শাসনযন্ত্র যে কতটা ভঙ্গুর-আবরার হত্যাকাণ্ড চোঁখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল।

নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদানে ইসলামের যে মানবিক বিধান ও বিচারিক ব্যবস্থা তা বাস্তবায়ন করা গেলেই দেশে শান্তি ও স্থিতি ফিরে আসবে বলে জানান ইসলামি ঐক্যজোটের এ নেতা।

দেশের বিদ্যমান সঙ্কট মোকাবেলা করে সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিজেদের অধিকার আদায়ে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের সোচ্চার হতে হবে জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের এ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আসলে মানুষ এখন নীতি-নৈতিকতা ভুলে যাচ্ছে। আমরা যখন নিজেদের সংশোধন করে ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন করব তখনই দেশে শৃঙ্খলা ও শান্তি নেমে আসবে।