তথ্য সন্ত্রাস: রুখে দেবার এখনই সময়

528

মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজি ।।

জুলুমের স্টিমরোলার চলছিল তখন। আঁধারে ছেয়ে ছিল ধরিত্রী। শান্তির ক্ষীনালো পর্যন্ত জ্বলছি না কোথাও। নিকষ কৃষ্ণাধারে নিমজ্জিত সব। ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসতো জালিমের চাবুকের গর্জন। মজলুমের হাহাকার ধ্বনি। নিষ্পাপ চাঁদমুখী নবজাতক কন্যা-সন্তান গগনবিদারী আর্তনাদে জীবন্ত প্রোথিত হতো প্রায়ই। যার পায়ের নিচে জান্নাত সে মায়ের জাতি ছিল দাস-দাসির মত নিপেড়িত-নিষ্পেষিত। জুলুম, নিপিড়ণ, অনাচার আর অত্যাচারের এক অভয়রাণ্য ছিল গোটা ধরাধাম। খানিক শান্তি আর মুক্তির আশায় প্রহর গুণছিল মানবতা।

ঠিক এমনি সময়। দীগন্ত প্রসারী আলো নিয়ে। হেদায়াতের বার্তা নিয়ে। মানবসেবার অনুপম আদর্শ নিয়ে দীপ্ত পায়ে দাঁড়িয়ে গেলেন গোটা সৃষ্টিজগতের রহমাতের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মানবসেবার বে-নজির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জুলুমের অঙ্গরাজ্যে। নিপিড়িতকে বুকে টেনে নেয়া। মজলুমের সহযোগিতায় বাড়িয়ে দেয়া সাহায্যের হাত। অসহায়, দরিদ্র আর নিষ্পেষিতদের কান্ডারীরূপে আবির্ভূত হলেন মানবতার নবী মুহামুদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

প্রতিষ্ঠা পেল পৃথিবীর সর্বপ্রথম অরাজনৈতিক সমাজসেবামূলক সংগঠন “হিলফুল ফুজুল”। নিপীড়িতের পাশে দাঁড়াও! দুঃখীদের জন্য এগিয়ে দাও সহযোগিতার হাত! প্রতিটি মানুষের ন্যায্য অধিকার দিয়ে দাও! দিয়ে দাও মায়ের জাতি মেয়েদের ন্যায্য অধিকার। তুলে নাও অন্যায়-জুলুমের খরগ। মোহাব্বত-ভালবাসার জান্নাতী বন্ধনে আবদ্ধ হও গোটা মানবজাতি। এমনি সুন্দর স্লোগানে উবে যেতে থাকে আঁধারের কালিমা। আরবের সেই ছোট্ট কুটির থেকে দীপ্তিময় হওয়া সেই দিবাকার ছড়িয়ে পড়তে থাকে দিক থেকে দিগন্তে। মাত করে দেয় পৃথিবী। অবাক বিস্ময়ে পৃথিবী তাকিয়ে দেখে এক আরব যুবকের অবিস্মরণীয় বিজয়গাঁথা। দলে দলে ছুটে আসতে থাকে মানুষ মানবতার মানস পুরুষটির কাছে। হেদায়াতের আলোয় হতে থাকে আলোকিত। প্রতিটি মানুষ ফিরে পায় তাদের ন্যায্য-প্রাপ্য অধিকার। বিশ্বজয়ী সেই বিশ্বনবীর মিশন বাস্তবায়িত হয় পৃথিবীব্যাপী।

কিন্তু পাল্টেছে অনেক। যুগটা এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির। অবারিত যেখানে সংবাদের দরোজা। কিন্তু আসলেই কি অবারিত সব? না, না, অবশ্যই না। মুষ্টিমেয় কতিপয় মানুষরূপী হায়েনার হাতে বন্দী আজ মানবতা। বন্দী অবাধ সংবাদপ্রবাহ। কালোকে সাদা, এবং সাদাকে কালো দেখানোর এক মহোৎসবের নাম সংবাদ মাধ্যম।

ইসলাম ও মুসলিম যেখানে বলির পাঁঠা। মানবতার ধর্ম ইসলাম যেখানে পদে পদে লাঞ্ছিত ও প্রোপাগান্ডার শিকার। মানবসেবা ও মানবতার চূড়ান্ত পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনে যে ধর্মের আবির্ভাব। আজ হলুদ সাংবাদিকতার নোংরামীতে তা আজ কালিমাযুক্ত। অসত্যের উদ্ধত আস্ফালনে সত্য আজ পদদলিত। মহামারি তথ্যসন্ত্রাসে পর্যুদস্ত ইসলাম ও মুসলমান। ইহুদীবাদী মিডিয়া ও তাদের তল্পিবাহকদের বানোয়াট নিউজই আমাদের ভরসা। তারা যা শেখায় আমরা তা-ই শিখি। যা বিশ্বাস করায় আমরা তা’ই বিশ্বাস করি। তাদের তৈরী করা অখাদ্য গোগ্রাসে আমরা গলধকরণ করি।

আমাদের বলার জায়গা নেই। আশ্রয়ের এক টুকরো মাটি নেই। সত্য প্রকাশের নিঃসংকোচ স্থান নেই। মাটি খুঁড়ে, মিথ্যার ভাগাড়ে নিমজ্জিত আসল সত্য উদঘাটনে নেই কার্যকরী কোন মাধ্যম। নেই শক্তিশালী মিডিয়া। যা আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবে। দৃঢ়তার সাথে। অটল পাহাড়ের মত।

এমনি এক সময়। এক ঝাঁক নবীণ যুবক পা বাড়িয়েছে দৃঢ়পদে, সাবধানী হয়ে। হলুদ মিডিয়ার অপপ্রচার আর মিথ্যা অপবাদ আর সইবো না। এবার সত্য প্রকাশ হবে। উন্মোচিত হবে সমাজের প্রকৃত চিত্র। হলুদ সাংবাদিকতার অভয়রাণ্যে বুক টান করে মাথা তুলে দাঁড়াল islamtime24.com ।  সময়ের পরিক্রমায় পার করেছে একটি বছর। সত্য ও হকের পক্ষের এ অকুতোভয় আওয়াজকে আমরা আরো উঁচু থেকে উঁচুতে দেখতে চাই। দুআ করি কবুলিয়্যাতের। ইসলাম টাইমস পরিবারের সকল সদস্যকে রব্বে কারীম কবুল করুন। কবুল করুন তাদের খিদমাতকে আমীন। ছুম্মা আমীন।

লেখক: তারুণ্যদীপ্ত গবেষক আলেমেদ্বীন, শিক্ষক, ইসলামি আলোচক