সফরনামা : কায়রোর সমাধি, সমাধির পাঠ

293

হাবীবুর রহমান ।।

মানুষ সফর করে এবং ক্ষেত্র বিশেষ আগ্রহসহ সফর করে। ইলম হাসিলের জন্য সফরতো সেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সেই সফরনামা হচ্ছে সাময়িক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলীল। বাহ্যদর্শীদের কাছে হতে পারে শুধু ইতিহাসের বিষয় কিন্তু অন্তর্দর্শীদের কাছে তা আরো গভীর তাৎপর্য বহন করে।  তারা এখান থেকে গ্রহণ করেন আদব ও আখলাকের পুঁজি এবং কলব ও রুহের গিযা।

মিসরে আল্লাহ তাআলা অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। অনেক সাহাবী – তাবেয়ী ও আইম্মায়ে মুজতাহীনদের বিরাট কাফেলা এখানে পদার্পন করেছেন। অনেক মণীষী এখানে জম্ম গ্রহণ করেছেন এবং এখানেই দাফন হয়েছেন। যাদের কিতাব পড়ে যুগ যুগ ধরে তালিবে ইলমের কাফেলা তৈরী হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।  তারা এমনই ছিলেন যে তাঁদের উদাহরণ শুধুমাত্র তাঁরাই। তাঁদের মেহনতের বরকতে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইলম শিক্ষা করার তৌফিক দান করেছেন।

আল্লাহ তাআলার অশেষ শুকরিয়া যে, তিনি অবশেষে আমাকে সেই খোশ নসিব লাভ করার সৌভাগ্য দান করলেন। আসল কথা হল তকদীরের পক্ষ থেকে সব কিছুর জন্য আছে নির্ধারিত সময়।  সময়ের আগে কিছুই হয় না।  তাই বলা হয়েছে, কুল্লু আমরিন মারহুনুন বি ওয়াকতিহি। প্রত্যেক বিষয়  তার নির্দিষ্ট সময়ে আবর্তীত।

পাঁচ বছর আগের একটি সফরের গল্প বলছি। বিগত ১৪ নভেম্বর ২০১৪  জামেয়া আযহারের বাংলাদেশী তালেবে ইলম (ছাত্র) ভাইদের জন্য একটি ‘রিহলাহ’ বা সফরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রিহলাহ-এর লক্ষই ছিলো زيارة مقابر الصحابة والأئمة والصالحين (সাহাবা ও আয়াম্মায়ে মুজতাহীদিন ও আউলিয়াদের কবর মোবারক যিয়ারত করা।)  সাথে সাথেই রাসূলের কবর যিয়ারত সম্পর্কৃত হাদীসটি মনের পর্দায় ভেসে উঠলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন , ‘আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু শোন, তোমরা কবর যিয়ারত কর।  কেননা কবর যিয়ারতের মাধ্যমে অন্তর বিগলিত হয়, নয়ন অশ্রুসিক্ত হয় এবং আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’

এই সফরের মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় সশরীরে প্রবেশ করার সুবর্ণ সুযোগ মনে করলাম। আমি যেন অন্তরে গায়েবী আওয়াজ শুনতে পেলাম। এতদিন যাদের কথা শুনে ও পড়ে উপকৃত হয়েছো এখন তাদের শিয়রে দাঁড়িয়ে মাটি ও মাটির মানুষের সান্নিধ্য গ্রহন করে নিজেকে ধন্য কর। দুফোটা অশ্রুসজল নয়নে তাদের কিছুটা ঋণ পরিশোধ করার চেষ্টা কর।

নিজেকে প্রস্তুত করলাম রিহলায় শরিক হওয়ার জন্য। শুক্রবার ফজরের নামায আদায় করে, নাস্তা সেরে বিদেশী ছাত্র হোস্টেল মদিনাতুল বুউসের উদ্দেশে বের হলাম। সাড়ে সাতটার দিকে মদিনাতুল বুউসে পৌঁছলাম। সেখান থেকে আমরা দশজনের একটি কাফেলা একসাথে সোয়া আটটার দিকে বের হলাম। পরে আমাদের সাথে পথে আরো তিনজন যুক্ত হয়েছিলেন।

প্রথমে আমরা বাসে (আমাদের দেশে লম্বা বিআরটিসি বাসের মত) করে ‘সাইয়্যেদা আয়েশা’ নামক এলাকায় গেলাম। এখানে মসজিদে সুলতান হুসাইন ও মসজিদে রিফায়ী আছে। আমরা মসজিদে সুলতান হুসাইন পরিদর্শন করার জন্য ভিতরে প্রবেশ করবো এমন সময় ওখানকার দায়িত্বে থাকা এক মহিলা বাঁধা দিয়ে বললেন এখানে টিকিট ছাড়া মসজিদে প্রবেশ নিষেধ।

মিসরে এখন নতুন সরকারের নতুন নতুন আইনে অনেক ‘নতুনত্ব’ দেখা যাচ্ছে। এযাবত মসজিদটি সবার জন্য উন্মুক্ত ছিলো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে মুসল্লিদের সমাগম হতো। এখন শুধু জুমার নামাযের মুসল্লিদের জন্য উম্মুক্ত করা হয়। মনে হয় সবকিছুর মধ্যেই যেন দুনিয়া ঢুকে গেছে। মসজিদ আবাদ এবং দ্বীনের খেদমতের স্থান সংকুচিত হয়ে পড়ছে। মসজিদে সুলতান হুসাইনে আগে চার মাযহাবের দরস হতো। এই মসজিদে বিশাল আকারে চারটি খুঁটি রয়েছে। সেই খুঁটির পাশে বসে বড় বড় ওলামায়ে কেরাম দরস দিতেন। এখন আর আগের মত সেই দরসের ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয় না। তবে মসজিদটি মুসাফিরের জন্য ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল বহন করে চলেছে।

আমাদের হাতে বেশি সময় ছিলো না তা না হলে আজ এখানে জুমার নামায আদায় করে যেতাম। এই মসজিদের পাশেই রয়েছে মসজিদে রিফায়ী।  ইমাম রেফায়ী শাফেয়ী। যিনি প্রথমে মসজিদে সুলতান হুসাইনে দরস দিতেন। তার অসংখ্য ছাত্র ও শুভাকাঙ্খী ছিলো। তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন তার ভক্তরা স্মৃতি স্বরূপ এই মসজিদের পাশেই আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করেন। যা বর্তমানে মসজিদে রিফায়ী নামে পরিচিত। তিনি এখানেই শায়িত আছেন। এখানে মিসরীয় বাদশাহ ফুয়াদ ও তার পিতা ইসমাঈলসহ আরও বহু বরেণ্য ব্যক্তির সমাধি রয়েছে।

দুই.

এখান থেকে আমরা আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা করলাম। পথিমধ্যে “সাইয়্যেদা আয়েশা” নামক এলাকায় একটা নতুন জিনিস দেখতে পেলাম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পশুপাখি জীব জন্তু বেচাকেনা হয়। আমার জানা ছিলো না যে, মিসরের মতো মুসলিম দেশে কুকুরের মত প্রাণীর জন্য বড় একটি বাজার রয়েছে এবং সেখানে কুকুরও বেচাকেনা হয়।

আসলে এই দেশে অনেক মানুষ এমনও আছে যারা বিভিন্ন জাতের কুকুর পোষে এবং তার প্রতি এমন মহব্বত ও ভালোবাসা দেখায় তা না দেখলে বোঝা যাবে না। এখানে আমি অনেক ব্যহ্যিক দ্বীনদারকেও কুকুর পোষতে দেখেছি। অথচ এই কুকুর পোষা সম্পর্কে হাদীস শরিফে নিষেধাজ্ঞা আছে। হাদীসে আছে যেই ঘরে ছবি বা কুকুর আছে সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না। সুতরাং যেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না সেখানে কীভাবে শান্তি আসতে পারে!

কুকুরের বাজার

আমি এই বাজার দেখে অনেক আশ্চর্য হয়েছি এবং আমাদের সাথীরা সকলেই অবাক হয়েছে। আমরা নিচে নামতে নামতে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন।

‘সাইয়্যেদা আয়েশা’ থেকে মাইক্রোতে কিছুদূর গিয়ে শাফেয়ী বাজারের কাছে নামলাম। এই বাজার অনেক পুরানো। কিছুটা ঢাকার গুলিস্তানের মতো। আমরা বলাবলি করলাম, গুলিস্তান শুধু বাংলাদেশে নয়, মিসরেও অনেক গুলিস্তান আছে। এই বাজারে এতো ভীড় না দেখলে বোঝা যাবে না। আমরা আস্তে আস্তে করে বাজারের মধ্যে দিয়ে সামনে অগ্রসর হতে লাগলাম। এটি মিসরের অত্যন্ত প্রাচীনতম এলাকা। এখানে অনেক বড় বড় মনীষীর কবর রয়েছে। সেই যুগে এই এলাকাটি ইলম চর্চায় দীপ্তিমান ছিলো।

এই প্রাচীন কবরস্থান জাবালে মুকাত্তামের পাদদেশে। আত্মীক দিক দিয়ে এই কবরস্থান যিয়ারত আমাদের জন্য খুবই ফলদায়ক। কেননা এই প্রাচীন কবরস্থানে যুগেযুগে অনেক মহামানব তাদের শেষ শয্যা গ্রহন করেছেন। এই মাটির নিচে লুকিয়ে আছে ইলমের কত কীমতী খাযানা, মারিফাতের কত অমূল্য রতন৷ ইতিহাস তার কতটুকু খবর রাখে। আর ইতিহাস পড়েই কি সবকিছুর দৃশ্য অন্তরে আঁকা যায়। যদি না চোখে দেখা হয়। এসব আল্লাহর বান্দাদের কবরের আলামত মুছে গেলেও তারা জীবন্ত আছেন মানুষের ভক্তি ও ভালবাসায় এবং নিজেদের জারিয়ান আমলনামায়। এখান থেকেই আকাবিরদের কবর যিয়ারতের পথ চলা শুরু হলো।

তিন.

প্রথমে ইমাম ওকী’ ইবনুল জাররাহ রহ.-এর কবর যিয়ারত করলাম।  তিনি হলেন সেই মহান ব্যক্তিদের একজন যারা মৃত্যুর পরও দুনিয়াতে মানুষের অন্তরে ভক্তি ও ভালোবাসায় গেঁথে আছেন। ইমাম ওকী’ রহ. জম্ম গ্রহন করেন ১২৯ হিজরীতে। তিনি ছোটকাল থেকেই ইলমের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহী ছিলেন। যার ফলে তাঁর যুগের প্রায় সকল মুহাদ্দিসের থেকে হাদীস সংগ্রহ করেছিলেন।

তিনি ইলমের জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করে সবশেষে মিসরে এসে বসবাস শুরু করেন।  তিনি কুফি, আয়মাস, সুফিয়ান সাওরী, হিসাম ইবনে ওরওয়াসহ আরো অনেকের কাছ থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন। ইমাম মিয্যি রহ. বলেন, ১১২ জন রাবী তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। ইমাম আহমাদ রহ. বলেন, ওকী’ ছিলেন তার জামানার মুসলমানদের ইমাম। তিনি আরো বলেন, আমি ওকীর মত এতো বেশী পরহেযগার লোক দেখিনি। ইবনে মুয়ীন রহ. বলেন, তিনি সবসময় ক্রন্দন করতে করতে বলতেন যে, হঠাৎ কোনো দিন আমার মৃত্যু এসে হাজির হবে সে দিন আমার কী হবে!। একদিন ওমর রা. থেকে বর্ণিত হাদীস ( তুমি এমনভাবে দুনিয়াতে চলো যেন তুমি একজন অপরিচিত দুস্থ মুসাফির ) বর্ণনা করে তিনি এতো বেশি কেঁদেছেন যে, তিনদিন পর্যন্ত হাদীস বর্ণনা বন্ধ রেখেছিলেন।

ওকি’ ইবনেুল জাররাহ রহ.-এর মাকবারা

তার কবরের পাশে সেই প্রসিদ্ধ উক্তি ঝুলানো আছে, যা ইমাম শাফেয়ীকে উদ্দেশ্ করে তিনি বলেছিলেন। ইমাম শাফেয়ী রহ: বলেন, “আমার উস্তাদ ওকীর কাছে আমার হিফয শক্তির দুর্বলতার অনুযোগ করলাম। আমি কিতাব পড়ি, হাদীস শুনি, কিন্তু মনে থাকে না, যা পড়ি তা ভুলে যাই। তখন আমার উস্তাদ আমাকে গোনাহ ছেড়ে দেওয়ার নছিহত করলেন। কারণ ইলম হচ্ছে আল্লাহ তাআলার বিশেষ নূর আর তা কোনো গুনাহগারকে দান করা হয় না।”

তিনি এই এক উক্তির মাধ্যমে সমস্ত তালিবে ইলমকে হেদায়েতের পথ দেখিয়ে গিয়েছেন। ১৯০ হিজরীতে এই মহান মণীষী ইন্তেকাল করেন ।

তাঁর কবরে দুআ-দুরুদ ও কোরআন তেলাওয়াত করে বের হয়ে আসলাম। নিজেকে জিজ্ঞাসা করলাম, এখান থেকে কী পেলাম?  ভিতর থেকে যেন আওয়াজ এলো, এখানে তুমি পেয়েছো কুরআনের সেই বাণীর বাস্তব উদাহরণ, যা মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন “নিশ্চয় আমার বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই আল্লাহকে ভয় করে।”

চার.

এরপর ফিকহে হানাফির উজ্জ্ব নক্ষত্র ইমাম তাহাবী রহ.-এর কবরের কাছে গেলাম। যেন ভেতর থেকে নাড়ীর টান অনুভব করলাম। আত্মার বন্ধন যেন আমাকে আঁকড়ে ধরলো। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ইমাম তাহাবীর বিশ্ব বিখ্যাত হাদীসের গ্রন্থ তাহাবী শরীফ (শরহে মাআনিল আসার) -এর দরসের আলোকচিত্র। সেই দরসের “কলাত তাহাবী” শোনা ধ্বনিটি যেন আজ বাস্তব ‘কালাত তাহাবী’তে পরিণত হলো। তাঁর হাদীসের এই কিতাবটি ফিকহে হানাফীর একটি উজ্জ্বল মানদণ্ড।

এই কিতাবের মাধ্যমে হাদীসশাস্ত্রে একটি নতুন বিষয়ের আলোকপাত করা হয়েছে। যা পূর্ববর্তী কোনো আলেম কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করে যাননি। সাথে সাথে এবিষয়টিও তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, ফিকহে হানাফির মূলনীতি কুরআন হাদীস অনুসরণের মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে। আমরা যেন আজ তাঁর দরসের ছাত্রে পরিণত হলাম।

তাঁর কবরের মাটিতে ফিকহে হাদীসের ঘ্রাণ যেন সুপ্রবাহিত হতে লাগলো। আর আমরা তা থেকে মন জুড়ানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। যেন তিনি আমাদেরকে আজ বাস্তব দিক-নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। আর আমরা তা মেনে চলার ব্রতী নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি।

ইমাম আবু জাফর তাহাবী রহ. হাদীস, তাফসীর ও ফিকহ বিষয়ে মুজতাহিদ পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি হাদীসের প্রসিদ্ধ ছয় ইমামের সমসাময়িক। ২৩৯ হিজরীতে মিসরের সায়ীদ এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত মুত্তাকী ও ইলমী পরিবারে জম্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামাতা উভয়ে ইলমের অধিকারী ছিলেন। প্রায় তিনশত আলেম থেকে তিনি ইলম শিক্ষা করেন। তিনি পিতা ও মামা মুযানী রহ. থেকেও অনেক ইলম অর্জন করেন।

ইমাম তহাবি রহ.-এর মাকবারা

তাঁর কাছ থেকে অনেক ছাত্র হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আহমাদ ইবনে কাসেম আল খাশার, ইউসুফ মিয়ানযি, আবুল কাসেম তাবরানী। ইমাম যাহাবী বলেন, তিনি ছিলেন হানাফি ফকীহ ও অতি মূল্যবান কিছু কিতাবের রচয়িতা।

তার কয়েকটি গ্রন্থ হলো, আকীদাতুত তাহাভী, শরহে মায়ানিল আসার, মুশকিলুল আসার।

তিনি ইন্তেকাল করেন ৩২১ হিজরীতে। তাঁকে দাফন করা হয়েছে তাঁর খানকাতেই। সেটি ছিল ছোট একটি কামরা যেখানে তিনি ইবাদত করতেন, দরস দিতেন এবং কিতাবাদি লিখতেন।

নিজের কাছেই নিজে জিজ্ঞেস করলাম, এই মহান ব্যক্তির সাথে পরিচয় তো সেই নামায পড়ার বয়স থেকে আর তাঁর কিতাবের সাথে সম্পর্ক তো আরবী ভাষা অধ্যয়নের পর থেকে। তাহলে এখান থেকে আমি আজ কী শিক্ষা পেলাম। ভেতর থেকে যেন আওয়ায এলো, এখানে তুমি পেয়েছো ইলমের সাধনা ও সালফে সালেহীনদের পথ আকঁড়ে ধরার দৃঢ় মানসিকতার পাঠ। দুআ- দুরুদ ও সালাম পেশ করে অশ্রুঝরা অন্তর নিয়ে সেদিন বের হয়ে এলাম।

লেখক:  মাস্টার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত, তাফসির বিভাগ জামেয়া আযহার মিসর