৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ : খতমে নবুয়ত আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক দিন

362

মুফতি সাইয়েদ আদনান কাকাখায়ল ।।

আজ সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ। সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ  খতমে নবুয়ত আন্দোলনের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। এদিন পাকিস্তানে রাসূলের দুশমন কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করা হয়েছে।

তাদেরকে কাফের ঘোষণা দেওয়ার আইন পাস করানোর জন্যে হাজার হাজার মুসলমানকে শহীদ হতে হয়েছে, হাজার হাজার মুসলমানকে জেল-জুলুম ভোগ করতে হয়েছে। যে দেশ ইসলামের  নামে প্রতিষ্ঠিত, যে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক মুসলমান সে দেশে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসাবে মানে না এমন সম্প্রদায়কে কাফের ঘোষণার জন্যে এত কুরবানী, এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, যা ভাবতে কষ্ট হয়।

অথচ ‘দুয়ে দুয়ে চার’ যেমন স্বতসিদ্ধ বিষয় তেমনি খতমে নবুয়তের আকীদাও মুসলমানদের নিকট একটি স্বতসিদ্ধ বিষয়। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শেষ নবী হিসাবে অমান্যকারী ব্যক্তি ও সম্প্রদায় কাফির এ কথা মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস রাখেন।

খতমে নুবয়ত আন্দোলনের জযবা ও আবেগ, কুরবানী ও ইতিহাস আমাদের সব সময় মনে রাখা উচিত।  খতমে নবুয়ত আন্দোলনের অনেক বড় কর্মী  আতাউল্লাহ শাহ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি খতমে নুবুয়ত আন্দোলনে অনেকবার  কারাবন্দী হয়েছেন।

তার ব্যাপারে একটা ঘটনা প্রসিদ্ধ আছে যে, যখন খতমে নবুয়ত আন্দোলন হয়, তখন এই আন্দোলনে এক বড় পীর সাহেবও কারাবন্দি হয়েছিলেন। একই  কারাগারে বন্দী ছিলেন আতাউল্লাহ শাহ বুখারী রহ.। আতাউল্লাহ শাহ বোখারী রহ. গোপনে ওই পীর সাহেবের খেদমত করতেন। তার ওজুর পানি এগিয়ে দিতেন। বাথরুম পরিস্কার করে দিতেন।

একবার পীর সাহেব আতাউল্লাহ বোখারী রহ.-কে  বললেন, আপনি এত বড় মানুষ। আপনি নবীর বংশধর। আপনি আমার কাজ করে দেন। আপনাকে কাজ করতে দেখলে আমার লজ্জা হয়।

আতাউল্লাহ বোখারী রহ. বললেন, না, আপনি এত কষ্ট করছেন। আমরা  একটা আওয়াজ দিয়েছি, আর আপনি আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এখানে এসে কষ্ট করছেন। এজন্য ভাবছি, আপনার কিছু খেদমত করি।

পীর সাহেব বললেন, শাহ জী! জীবনভর রাসূলের নাম দিয়ে রুটি খেয়েছি। আর আজ তার নামে দুদিন কারাগারে বন্দী থাকতে পারব না!

১৯৭৪ সনে  গোটা পাকিস্তানে কাদিয়ানিদেরকে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এমনই আবেগে উদ্বেলিত হয়েছিলেন মুসলমানগণ। সেই আবেগ আমাদের ধরে রাখতে হবে এবং পরপর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।