সদরঘাট এখন ভেতরেও ফিটফাট

224

ইসলাম টাইমস ডেস্ক :  ‘যাত্রী পরিবহনের দিক দিয়ে  সদরঘাট দেশের সবচেয়ে বড় নদীবন্দর। এ বন্দরের অব্যবস্থাপনার কারণে লোকমুখে প্রচলিত বদনাম ছিল, “ওপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট” । আমরা এই বদনাম ঘোচাতে দেড় বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। যাত্রীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন, তা–ই করার চেষ্টা করছি।’ সদর ঘাটের  সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের বলছিলেন ঢাকা নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এ কে এম আরিফ উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, হকারদের দৌরাত্ম্য, কুলিদের হয়রানিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পদে পদে ভোগান্তি—চিরচেনা এই রূপ ছিল দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম নদীবন্দরের (সদরঘাট)। টার্মিনাল ভবনের ভেতরে এমন ভোগান্তি ছাড়াও সদরঘাটের প্রবেশপথগুলোতে বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে স্বাভাবিক হাঁটাচলারও উপায় ছিল না। সম্প্রতি সদরঘাটের এই চিত্র বদলেছে।

সদরঘাট টার্মিনালের মূল ভবন থেকে পন্টুন পর্যন্ত খালি জায়গায় একসময় ডিঙিনৌকা, ভাসমান দোকান ও বর্জ্যে ছিল ঠাসা। এ অংশ পরিচ্ছন্ন করে ভাসমান দোকান ও ডিঙিনৌকা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পুরোনো টার্মিনাল ভবন (টার্মিনাল ভবন-১) ও নতুন টার্মিনাল ভবনের (টার্মিনাল ভবন-২) নিচতলায় তিনটি শৌচাগার বেশ পরিচ্ছন্ন। নিচতলায় শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কক্ষ ও মেডিকেল সেন্টার করা হয়েছে। তবে মেডিকেল সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের সময় মেডিকেল সেন্টারগুলো ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। বাকি সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা করা হয়।

পুরোনো টার্মিনাল ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকটি দোকান ছিল। টার্মিনালের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য এসব দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভেঙে ফেলা ওই দোকানগুলোর সামনে নদীতীরে হরেক রকমের ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। এর কয়েকটিতে ফুলও ফুটেছে। টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ দিকে সড়কের পাশে বাগানবিলাসসহ নানা প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল ভবনের পশ্চিম দিকে খালি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছিল মোবাইল মার্কেট। ওই মার্কেট উচ্ছেদ করে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পার্কিং এলাকায়ও কোনো হকার নেই। অনেকটাই নিরিবিলি পরিবেশ। এ ছাড়া টার্মিনাল ভবনের পশ্চিম দিকে আহসান মঞ্জিল পর্যন্ত এবং পূর্ব দিকে শ্যামবাজার মসজিদ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীতীরে হরেক রকমের গাছ লাগানো হয়েছে।

বুড়িগঙ্গা নদী থেকে একসময় আহসান মঞ্জিলের সৌন্দর্য চোখে পড়ত না। সম্প্রতি এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সামনের সড়কে থাকা ফুটপাত অবমুক্ত এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করায় বুড়িগঙ্গা থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যাচ্ছে। তবে আহসান মঞ্জিলের পর থেকে বাদামতলী পর্যন্ত মূল সড়কে পার্কিং করে রাখা মালবাহী ট্রাকগুলো সরানো সম্ভব হয়নি।

সদরঘাট থেকে জনসন রোডে সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সদরঘাটে যাওয়া-আসার পথে এই সড়কটি বেশির ভাগ যাত্রী ব্যবহার করেন।

ঢাকা নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তারা দেড় বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এখন যাত্রীরা এর সুফল পাচ্ছেন। এ অবস্থা ধরে রাখতে, ৩২টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দিয়ে সব সময় নজরদারি করা হচ্ছে। যাত্রীরাও বর্তমান ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।