নিজেদের স্বকীয়তাগুলো ধরে রাখুন

363

মুফতী মুহাম্মদ রফী উসমানী ।।

আশুরার রোজা ইহুদীরাও রাখত।  আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করার জন্য মুসলমানদেরকেও এই দিনে রোজা রাখার হুকুম করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদীদের বিরোধিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে তাদের ধর্মীয় প্রতীকের সাথে ইসলামের কোনো কাজের সাদৃশ্য তৈরি না হয়ে যায়।

এ থেকে এ বিষয়টি প্রতীয়মান হয় যে, মুসলমানদের জন্য অমুসলিমদের ধর্মীয় প্রতীক এবং অমুসলিমদের ধর্মীয় কাজকর্মের সাদৃশ্য অবলম্বন করা কখনোই বৈধ নয়। এ বিষয়ে আরো অনেক হাদীস রয়েছে, যাতে অমুসলিমদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে পরিস্কারভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

একটু ভেবে দেখুন, ইসলাম রোজার মতো একটি আমলেও ইহুদিদের সাদৃশ্যকে বর্জন করতে বলেছে। কিন্তু আমাদের কাজকর্ম দেখুন।  আজ আমরা আমাদের  সন তারিখ নববর্ষ সবকিছুই অন্যদেরকে দিয়ে দিয়েছি। এমনকি এখন তো আমরা আমাদের নিজেদের ভাষাও ভুলে গেছি।  ছোট ছোট বাচ্চারা এখন ‘শনিবার’ জানে না, ‘স্যাটার ডে’ জানে। ‘জুমা‘র দিন চিনে না, ‘ফ্রাইডে’ চিনে।

দুনিয়ার যত উন্নত জাতি রয়েছে, তাদের সবার অবস্থা দেখুন। যারাই উন্নতি করেছে তারা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে উন্নতি করেছে। জাপানকে দেখুন, চীনকে দেখুন, জার্মানিকে দেখুন। এসব দেশ নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েই উন্নতি করেছে।

এসব দেশে তাদের নিজেদের ভাষা প্রচলিত। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখুন। নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড,   বেলজিয়াম কোথাও ইংরেজি নেই। ইংল্যান্ড ছাড়া ইউরোপের অন্য কোথাও ইংরেজি ভাষা বলা হয় না। কিন্তু আমরা সাত সমুদ্র ওপারে থেকে ইংরেজি ভাষা কেমনভাবে আগলে নিয়েছি যে,  আমরা আজ নিজ ভাষা-ই ভুলতে বসেছি। এখন তো উর্দূ ভাষাকেও (বাংলা ভাষাকেও) ইংরেজি অক্ষরে লেখা হচ্ছে। তারা যেন এ কথাই বলতে চান যে, দেখো তোমাদের ভাষা কত অপদস্থ! এই ভাষায় না বলা যায়! এই ভাষায় না লেখা যায়! এবং না এ ভাষা বোঝা যায়!

ইংরেজি ভাষায়-ই এর উপযুক্ত যে তাকে চুমু খাওয়া হবে। এই ভাষায় কথা বলা হবে। এই ভাষায় বোঝা হবে এবং এই ভাষাকে পূজনীয় গণ্য করা হবে। আমাদের এই হীনমন্যতা এবং দাসসুলভ আবেগ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়াতে শুরু করেছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক অবস্থা বোঝার এবং আত্মবিশ্বাস আত্মমর্যাদার সাথে ইসলামকে নিয়ে গর্ব করার এবং ইসলাম অনুযায়ী জীবন যাপন করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

অনুবাদ: এনাম হাসান জুনাইদ