চামড়া শিল্পের দূরবস্থার দায় সরকার এড়াতে পারেনা: আব্দুর রব ইউসুফী

74

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী এক বিবৃতিতে বলেন, চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। সুতা-পলিয়েস্টারের তৈরী পোষাক রপ্তানি করে দেশ যেমন অর্থনৈতিক ভীত মজবুত করেছে, তেমনি চামড়া বা চামড়াজাত পণ্যও দেশের বড় একটি অর্থ যোগানদাতা শিল্প।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে এ শিল্পটি নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এর মধ্যে যে স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজী রয়েছে, সেটি অজপাড়া গায়ের একজন সাধারন লোকও বুঝে। কারন চামড়াজাত পণ্যের মূল্য আকাশচুম্বী, আর চামড়ার মূল্য ফ্রী।

কয়েক বৎসর পূর্বেও তিন হাজার টাকার উপরে চামড়া বিক্রি হয়েছে। আর এখন চার পাঁচশ’ টাকা। যা কালেকশন খরচও আসে না। এর অর্থ হচ্ছে—-মাদরাসা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান সমূহ নিজ খরচে ট্যানারিসমূহের কাঁচা মালের যোগানদাতা বা ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এ মূল্যবান সম্পদ মাটিতে পুতে ফেলা, নদীতে নিক্ষেপ করা বা রাস্তা থেকে সরানোর সামর্থ না থাকায় সেখানেই ফেলে চলে যাচ্ছেন বলে সংবাদ আসছে। এটা শরীয়ত সম্মত কি না প্রশ্ন থাকলেও এটা যে একটা দারুণ প্রতিক্রিয়া বা ক্ষোভ সেটাই বাস্তব।

চামড়ার বড় যোগান আসে কুরবানি থেকে। যাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে বিক্রি করেন, তাঁরা মূল্য কম পেয়ে থাকেন। যাই পান নিজ নিজ গরিব আত্নীয়স্বজন ও দরিদ্র প্রতিবেশীদের মধ্যে বন্টন করে থাকেন। আর মাদরাসা ও এতিনখানাসমূহেরর মাধ্যমেই এর বড় অংশটি কালেকশন হয়। দেশের হাজার হাজার কওমী মাদরাসার লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশের ভরন-পোষণ ও লেখাপড়ার খরচ চলে যাকাত ও চামড়া খাত থেকে। যার যোগান দিতে সরকার বা পরিবারকে হিমসিম খেতে হত।

আজ কওমী সনদের মান দিয়ে সরকার যাদের স্বীকৃতি দিল, এঁরা তাঁরাই। এরাই দেশের আদর্শ নাগরিক। আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে এঁদের অবদানই সব চেয়ে বেশী। তাই এ শিল্পটি ধ্বংস হয়ে গেলে বা কোন সিণ্ডিকেট কিংবা বিদেশীদের নিয়ন্ত্রনে চলে গেলে দেশের এ অপূরণীয় ক্ষতির দায় সরকার এড়াতে পারে না।

তাই সরকারকে এ নিয়ে দ্রুত ভাবতে হবে। ব্যবসায়ীদের সাথে বসতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো শুনতে হবে। বাস্তবতার নিরিখে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।