ঈদের দ্বিতীয় দিনেও চলছে পশু কোরবানি

40

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও জিলহজ্জ মাসের ১১ তারিখ (দ্বিতীয় দিন) এবং ১২ তারিখ (তৃতীয় দিন) দিনেও পশু জবাই করা যায়। যদিও বেশিরভাগ মানুষই ঈদের দিনটিকে পশু কোরবানির জন্য বেছে নেন, তারপরও কসাইয়ের অতিরিক্ত মজুরি আর কসাই সংকটের কারণে অনেকেই ঈদের দ্বিতীয় দিন কোরবানি দিতে বাধ্য হয়।

আজ মঙ্গলবার ঈদের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর মগবাজার, মালিওবাগ, চকবাজার, বকশিবাজার এলাকার অলিতেগলিতে কোরবানির চিত্র চোখে পড়ে। তবে ঈদের দিনের তুলনায় এর সংখ্যা কম।

ঈদের দ্বিতীয় দিন কুরবানি করা মালিবাগের বাসিন্দা মো. নাজিম বলেন, ঈদের দিন আমার গরু কুরবানি করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কসাই পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো মৌসুমী কসাই পেলেও মুজরি অনেক বেশি চেয়েছে। আমার গরুর ওজন প্রায় তিন মণ। অথচ কসাই এটা কেটে দিতে ৮ হাজার টাকা চেয়েছে। বাধ্য হয়ে খরচ কমাতে আজ কুরবানি দিচ্ছি।

বংশালের বাসিন্দা মো. জামাল বলেন, ইচ্ছা করেই ঈদের দ্বিতীয় দিন কুরবানি দিচ্ছি। আমরা পুরান ঢাকার মানুষ ঈদের দিন ঈদগাহে নামাজ পড়ে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আনন্দ করি। পরে দিন কুরবানি করে আনন্দ ধরে রাখি।

আরেকজন বলেন, ঈদের দিন কসাই পাওয়া যায়নি। এক কসাই কথা দিয়েও আসেনি। বাধ্য হয়েই আজ পশু কুরবানি দিচ্ছি।

আবদুস সামাদ গুলশানের নিকেতনের বাসিন্দা। তিনি সাত বছর যাবত দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকেন। তিনি কোম্পানি থেকে ছুটি পেয়ে ঈদের রাতে ঢাকায় এসেছেন। স্বামীর উপার্জনের টাকায় দেওয়া কুরবানি চোখের সামনে করতে তার স্ত্রী ঈদের দিনের পরিবর্তে দ্বিতীয় দিনকে বেছে নিয়েছেন।

যারা ঈদের দ্বিতীয় দিন কুরবানি করছেন তাদের বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে। তবে অনেক বাসিন্দা নিজ দায়িত্বে বর্জ্য অপসারণ করছেন। কোথাও বর্জ্য থাকলে সেটি সিটি করপোরেশন থেকে অপসারণ করা হচ্ছে।