কোরবানির চামড়া: আসলে কী করা যেতে পারে

259

শরীফ মুহাম্মদ।।

কওমি মাদ্রাসার গোরাবা ফান্ড এখন আর কুরবানির চামড়ার উপর নির্ভরশীল নয়। কোনো কোনো মাদ্রাসার গরিবদের তহবিলে বছরের তিন মাসের যোগান কোরবানির চামড়া থেকে হয়, কোনো কোনো মাদ্রাসায় দুই মাস, কোনো মাদ্রাসায় আবার এক মাস বা তারও কম সময়ের যোগান হয়।

তাই কোরবানির চামড়ার এই ইচ্ছাকৃত মূল্যহীনতা তৈরি করা নিয়ে শুধুমাত্র মাদ্রাসার গরীব ছাত্রদের সুবিধার চিন্তা করে কথা বলা এখানে মুখ্য নয়। চামড়ার এই অর্থ মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত নন – সমাজের এমন লাখো লাখো গরিব মানুষকেও উপকৃত করে। কোরবানির চামড়া বিক্রি লব্ধ অর্থ আসলে সমাজের সব পর্যায়ের গরীবের হক এবং গরীবের সুবিধার একটা উপলক্ষ ছিল। এখানেই হাত দিয়েছে উচ্চবিত্ত একশ্রেণীর ট্যানারি মালিক। যারা এই শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং নেতৃত্ব দিচ্ছে।

মাদ্রাসাগুলো কোরবানির চামড়া ভবিষ্যতেও কালেকশন করবে কিনা, বিরাজমান পদ্ধতিতে এই কালেকশনের ধারা বজায় রাখা উচিত কিনা, চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে গরীব ছাত্রদের ফান্ড পরিচালনা নিয়ে সামনেও আশাবাদী থাকা উচিত কিনা- এগুলো স্বতন্ত্র আলোচনা। এই আলোচনা ভিন্ন পরিসরে চলতে পারে। চলার দরকারও রয়েছে।

কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে চামড়ার দাম শুধু কমানো নয়, প্রায় মূল্যহীন বস্তুতে পরিণত করার যে ব্যবসায়িক চেষ্টা এটা কে দুর্বৃত্তপনা, লুটপাটবৃত্তি ও গরিবের হকে ডাকাতের মতো হস্তক্ষেপ বলা ছাড়া অন্য কোন উপায় তো দেখছি না। মুষ্টিমেয় মাথার উপরে বসে থাকা কিছু ট্যানারি মালিকের শয়তানি সিন্ডিকেট তাই ভাঙার চেষ্টা করা দরকার। এটা শুধু মাদ্রাসার গুরাবা তহবিল বাঁচানোর জন্য নয়, এটা সমাজের সব পর্যায়ের গরিব মানুষের স্বার্থ ও সু‌বিধা, পাওনা ও প্রত্যাশা পূরণের জন্যই দরকার।

ট্যানারি ওয়ালাদের সিন্ডিকেট ভাঙতেই হবে। অথবা চামড়া নিয়ে গরীব মানুষকে ঠকিয়ে নিজেদের ব্যবসা বিশাল করে তোলার স্বপ্নকে প্রতিরোধ করার প্রয়োজনে চামড়া নিয়ে অন্যরকম ভাবনা শুরু করতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে চামড়া কীভাবে ব্যবহার করা যায়, চামড়া খাওয়ার উপযোগী করা যায় কিনা কিংবা ট্যানারি ওয়ালাদেরকে এড়িয়ে লাখ লাখ চামড়া অন্যভাবে প্রসেস করে ব্যবসায়িক কোনো বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা- ধাপে ধাপে ঠান্ডা মাথায় এ বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবনা চিন্তা করা প্রবীণ ও তারুণ্যদীপ্ত আলেম নেতৃত্বের কাজ। অনেকেই এখন এ বিষয়ে ভালো কোনো দিক নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখছি, চামড়া নিয়ে আজ অনেকেই কষ্ট প্রকাশ করছেন। ১ লাখ টাকা গরুর চামড়ার দাম 100/ দেড়শ টাকা শুনে অনেকে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, অনেকে পুড়িয়ে ফেলছেন। অনেকের মতো আমরাও অনুমান করেছিলাম, বেদনাদায়ক এমন ঘটনা ঘটতে পারে এবং ঘটবে। তাই ঘটেছে। সেজন্যই আবারও সামান্য এই আলোচনা।

লেখকের ফেইসবুক পোষ্ট থেকে