আজ কুরবানীর ঈদ, ইবরাহিমী আদর্শে মহিমান্বিত হোক সবার জীবন

82

মাওলানা যাহিদ রাশিদী।।

আজ ১২ আগস্ট জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ। পবিত্র ঈদুল আযহা। কুরবানীর ঈদ। আমাদের পিতা সায়্যিদুনা ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আদর্শ অনুসরণে প্রতি বছর ১০ জিলহজ্ব সামর্থবান মুসলমানরা কুরবানী করে থাকেন।

কুরবানী হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বিরাট ত্যাগ, আল্লাহর নির্দেশের সামনে নিজেকে চূড়ান্ত সমর্পণ করার আদর্শের স্মরণ।আল্লাহ তাআলা তাকে নির্দেশ দিলেন তোমার বুড়ো বয়সে পাওয়া কলিজার টুকরা সন্তান ইসমাইলকে আমার নামে যবাই কর। পিতা পুত্র উভয়েই সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহর এই বিধানের সামনে নিজেদের সমর্পন করলেন। এইটুকুন ছেলেও খুশি সে তার রবের নামে উৎসর্গ করছে নিজেকে। বাবাও আনন্দিত বৃদ্ধ বয়সের শ্রেষ্ঠ সম্পদকে আল্লাহর নামে কুরবানী করছেন। কেমন ছিল সমর্পিত এই দুই মহান বান্দার সেই স্মরণীয় মুহূর্তের দৃশ্যটি! চলুন কল্পনায় দেখি।

বৃদ্ধ বাবা তার স্নেহের বালক পুত্রটিকে ভূমিতে চিৎ করে শুইয়ে দিয়েছেন, একমাত্র প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে। কুরবানী করার জন্য। বালকটির চোখ বেঁধে ফেলেছেন। গলায় ছুড়ি চালাচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে গায়িব থেকে আওয়াজ আসল ইবরাহিম, স্বপ্নে পাওয়া তোমার দায়িত্ব আদায় করে ফেলেছ পরীক্ষায় তুমি উত্তির্ণ হয়েছ। সফলকাম। ছুড়ি সরিয়ে ফেলো। তার এই কুরবানী আল্লাহ তালার এতই পছন্দ হয়েছে যে তার অনুসরনে সামর্থবান সবার উপর পশু কুরবানী আবশ্যক করে দিয়েছেন। তার এই সুন্নাহর অনুসরনে প্রতি বছর যুলহিজ্জায় লক্ষ কোটি মুসলিম কুরবানী করে এবং কিয়ামত পর্যন্ত করতে থাকবে।

কুরবানী কোন প্রথা নয়

কুরবানী কোন প্রথা নয় যে, হাট থেকে পশু কিনে এনে যবাই করে ফেললাম। ব্যস। বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এতে রয়েছে এক মহান শিক্ষা যা আমরা ভুলে গেছি। তাই আজ আমরা বিশাল জনগুষ্ঠি হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীজুড়ে এই শিক্ষা নিজেদের ভেতর ধারণ না করার মাশুল দিচ্ছি। আজ কী এমন জিনিস আছে যা আমাদের কাছে নেই? জনবল আছে, উপায় উপকরণও আছে, সম্পদেরও কমি নেই, জ্ঞানী গুণী বুদ্ধিজীবির অভাব নেই। তাহলে কেন আমরা মাথা নিচু করে আছি বিশ্বের কুফুরী শক্তির দরবারে? কেন আমরা আমাদের মুক্তি ও গন্তব্যের পথে হাঁটছি না? মূল কথা হল, আল্লাহর দরবারে মাথা ঝুঁকানো, দীন ধর্ম ও দেশের জন্য নিজেদের সব কিছু উৎসর্গ করার মানসিকতা আমরা ভুলে গেছি। আবার যদি আমরা আল্লাহর আনুগত্য আত্মউত্সর্গ ও বিসর্জনের পথ বেছে নিই তাহলে আল্লাহর গায়িবি মদদ আমাদের সঙ্গ দিবে। ইনশাল্লাহ।

কী শিক্ষা দেয় এই কুরবানী?

হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর এই বিরাট কুরবানী প্রতি বছর আমাদেরকে এই শিক্ষা দিয়ে যায়, আল্লাহর নৈকট্য ও মহব্বত পেতে হলে নিজের সব কিছু তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবান করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। দুনিয়ার উপায় উপকরণের বিপরীতে আল্লাহর বিশেষ সাহায্যপ্রার্থী হলে আত্মত্যাগ বিসর্জন আনুগত্য ও ওয়াফাদারির কোন বিকল্প নেই। যদি আল্লাহর খাস দয়া ও অনুগ্রহ চাও তাহলে তার প্রতিটি নির্দেশ ও হুকুম সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়ার মনসিকতা তৈরি করো।

ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এর এই মহান আদর্শ আমাদেরকে বার্তা দেয় যে, ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনের সব কিছু একমাত্র আল্লাহর জন্য করতে। আত্মপ্রবঞ্চনা ও ব্যক্তি স্বার্থের পিছনে না পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দেশের সার্বিক উন্নতির লক্ষে কাজ করতে। ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর মাথা উচুঁ করে দাড়াতে ও উন্নতির শিখরে পৌঁছতে যা যা প্রয়োজন সব কিছু উৎসর্গ করার মানসিকতা তৈরি করতে। আল্লাহ তালা আমদের সবাইকে সঠিকভাবে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের এই মহান আদর্শকে সমুন্নত করার তাওফিক দান করুন। এই চেতনা

নিজদের মাঝে ধারণ ও লালন এবং সেই আলোকে পথ চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

( সূত্র -সাপ্তাহিক তরজুমানে ইসলাম, লাহুর। ১৪ এপ্রিল ১৯৭৪
খ্রিস্টাব্দ)

ভাষান্তর: শিহাব সাকিব