ফরিদপুরে তিনজনকে গুলি করে হত্যা: অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা আটক

37

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: এলাকার আধিপত্য আর পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ফরিদপুরের নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাদারীপুরের শিবচর থেকে অস্ত্রসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- ঘটনার মূলহোতা কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হানিফ মিয়া ওরফে হৃদয় (৩৯), তাপস (৩০) ও গাড়ি চালক মো: আক্তার (২৩)।

শনিবার (১০ আগস্ট) বিকালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় কাঁঠালবাড়ি ঘাটে সার্কেল এসপির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওঁৎ পেতে থাকে। এ সময় একটি গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বন্দুকসহ চালকসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

অস্ত্রটি হানিফ মিয়ার নিজের নামে লাইসেন্স করা বলে জানা গেছে। হানিফ মিয়া নগরকান্দা এলাকার মৃত মোসলেম আলীর ছেলে।

জানা গেছে, কাইচাইল ইউনিয়নের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ওরফে ঠান্ডুর সঙ্গে তার চাচাতো ভাই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হানিফ মিয়া ওরফে হৃদয়ের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রায়ই ওই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি চলে আসছিল। এর জের ধরে শনিবার এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত দুইজন ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক। তারা হলেন- ইউপি চেয়ারম্যানের চাচা মৃত আবু বক্করের ছেলে রওশন আলী মিয়া (৫২) ও তার ভাতিজা রায়হান মিয়ার ছেলে তুহিন মিয়া (২৫)।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধদের প্রথমে নগরকান্দা উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- রায়হান উদ্দিন মিয়া (৬৫), আনিস মীর (২০), গোলাম রসুল বিপ্লব (৩০), গোলাম মওলা (৩০), আবুল কালাম (৩৫) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অপর পক্ষের আনিস মিয়া (২৪), ফারুক মাতুব্বর (৪০), চুন্নু মিয়া (৪৮), সুমন মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়াকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।