থানায় গণধর্ষণ: ওসি ৩ বার, তারপর এসআই, পরে আরও ৩ জন

684

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: খুলনার জিআরপি থানায় আটকে গৃহবধূকে পরপর তিনবার ধর্ষণ করেছেন জিআরপি থানা পুলিশের সাবেক ওসি ওসমান গনি পাঠান। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার (এসআই)। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ওসির মতো তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

থানায় পুলিশের হাতে থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন রাতে থানায় যেভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন গৃহবধূ। গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হলে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়েছেন ধর্ষকরা।

ওই থানায় বর্তমানে ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই অসীম কুমার দাস জানান, শুক্রবার রাতে ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক ওসি ওসমান গনি পাঠান, এসআই নাজমুল হক ও অজ্ঞাত আরও তিন পুলিশ সদস্যকে।

গত ৪ অগাস্ট এই তরুণীকে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে তিনি ওসি ওসমান এবং এসআই নাজমুলসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

আদালত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়।

ঘটনার পর বুধবার ওসমান ও নাজমুলকে খুলনা রেলওয়ে থানা থেকে পাকশি রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি কমিটি।

কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতের নির্দেশে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”

তবে অন্য তিন পুলিশ সদস্যের নাম বলেননি তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তা ফিরোজ বলেন, কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন পরিদর্শক শ ম কামাল হোসেইন ও মো. বাহারুল ইসলাম