খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সরকার পতনের আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ নেই: গয়েশ্বর

25

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আজ হোক-কাল হোক সরকার পতনের আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর বিকল্প কোনো পথ নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো তাকে ছাড়বে না। আর আমরা বেগম জিয়াকে বের করতে চাই। আমরা তাকে মুক্ত করতে চাই কিনা সে সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। দল আন্দোলনের ডাক না দিলেও কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছায় মাঠে নামতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: জন আতঙ্ক ও সরকারের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আপনারা প্রেস ক্লাব ভাড়া করে প্রোগ্রাম করেন- এ সব করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। সুতরাং আপনারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন। নিশ্চয়ই দল আপনাদের ডাক দেবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, এক ডেঙ্গুর কামড়ে খালেদা জিয়া জেলখানায় ছটফট করছেন। তার কোনো ওষুধ নেই। তার জন্য কারও কোনো খেয়াল নেই। যত ধরনের নির্যাতন আছে জেলখানায় খালেদা জিয়ার ওপর চলছে। আর আমরা সবাই নির্বাক হয়ে তাকিয়ে আছি। আমরা শেখ হাসিনার কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। শেখ হাসিনা মুক্তি দেবে এ কথা কি বিশ্বাস করা যায়? খালেদা জিয়ার তো জেলই হওয়ার কথা না। যখন তিনি জেল দিয়েছেন, তখন মুক্তি দিবেন না।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আতঙ্কের চেয়ে বড় আতঙ্ক গণতন্ত্রবিহীন রাষ্ট্রক্ষমতা। ডেঙ্গু সমস্যা চিরস্থায়ী না। তবে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে নির্মূল সম্ভব। জনগণের সমস্যা দেশের সমস্যা।

গয়েশ্বর আরও বলেন, দেশ যারা পরিচালনা করে সে ক্ষেত্রে সরকারের একটা দায়িত্ব থাকে। কিন্তু তা তারা পালন করছে না। তারা ডেঙ্গুকে এখন রজনীতি হিসেবে ব্যবহার করছে। সরকার বলছে ডেঙ্গু বিএনপির গুজব। কিন্তু এই এডিস মশা মারার জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা সে ব্যবস্থা সরকার ও দুই সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করেনি। সরকারের অনেক আগে থেকে ব্যববস্থা গ্রহণ করার দরকার ছিল। তাতে আজ মহামারী অবস্থায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়াত না।

ভিপি ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে ও ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ প্রমুখ।