কাল আরাফায় হাজ্বীরা কী আমল করবেন

53

মুফতি মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ।।

 

আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা

৯ জিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া উত্তম। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৭৬৬

* আরাফায় রওনা হওয়ার সময় তালবিয়া এবং আল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ার কথা হাদীস শরীফে এসেছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২৮৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৩৯৬১; মানাসিক ২৬৮

 

৮ যিলহজ্ব রাতে আরাফায় যাওয়া!

ভিড়ের কারণে বহু লোক ৮ তারিখ দিবাগত রাতেই আরাফায় চলে যান। মুআল্লিমের গাড়িগুলোও রাত থেকেই হাজ্বী সাহেবদেরকে আরাফায় পৌঁছাতে শুরু করে। এভাবে রাতে চলে যাওয়া ঠিক নয়। এ রাতে আরাফার ময়দানে থাকলে কোনো সওয়াব হবে না; বরং এতে একাধিক সুন্নাতের খেলাফ হয়। যেমন : এক. এ রাতে মিনায় থাকা সুন্নত। এটি আদায় হয় না। দুই. ৯ তারিখ ফজর নামায মিনায় পড়া সুন্নত। এটাও ছুটে যায়। তিন. সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মুস্তাহাব। এটাও আদায় হয় না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫০৩) তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে যেন বাসগুলো অন্তত ফজরের পর ছাড়ে। যদি বাসযাত্রা বিলম্ব করা সম্ভব না হয় তাহলে বৃদ্ধ ও মহিলারা মাহরামসহ বাসের সাথেই চলে যাবেন। আর সুস্থ সবল হাজ্বীগণ কোনো অভিজ্ঞ সঙ্গী পেলে মিনায় ফজরের নামায পড়ে পায়ে হেঁটে আরাফায় যেতে পারেন। মিনায় ফজর পড়ে হেঁটে গেলেও সুন্দরভাবে দুপুরের আগেই আরাফায় পৌঁছা সম্ভব। তবে পায়ে হেঁটে গেলে নিজেদের তাঁবুতে যাওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো। কেননা, হেঁটে গেলে তাঁবু খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। হেঁটে যাওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে এমন সঙ্গী না পেলে একাকী হেঁটে যাওয়ার ঝুঁকি নিবেন না। এক্ষেত্রে বাস যখনই ছাড়ে জামাতের সাথে থাকাই বাঞ্ছনীয় হবে।

 

উকূফে আরাফা (ফরয)

উকূফে আরাফার অর্থ আরাফায় অবস্থান করা। এটি হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। ৯ যিলহজ্ব¡ যোহরের শুরু সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ কয়েক ঘণ্টা পুরো হজ্বের মগজ।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই পুরো সময় আল্লাহ তাআলার দিকে দিল ও মনকে নিবিষ্ট রাখুন এবং দুআ-মুনাজাত, কান্নাকাটি ও যিকির-আযকারে মশগুল থাকুন। এক মুহূর্তও যেন গাফলত ও উদাসীনতার মধ্যে না কাটে।

 

উকূফে আরাফার সময়

৯ যিলহজ্ব সূর্য ঢলার পর থেকেই উকূফ করা সুন্নত। সূর্যাস্তের আগে আরাফায় পৌঁছে গেলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উকূফ করা ওয়াজিব। সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করা জায়েয নয়। আরাফায় উকূফের প্রধান সময় ৯ যিলহজ্ব¡ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। কিন্তু কেউ যদি এ সময়ের ভেতর আরাফায় পৌঁছতে না পারেন তাহলে আগত রাতের সুবহে সাদিকের মধ্যে যেকোনো স্বল্প সময় আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকলেও এই ফরয আদায় হয়ে যাবে। জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৯৭৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৬২৮৬; মানাসিক ২০৫; গুনয়াতুন্নাসেক ১৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৯

 

উকূফের প্রস্তুতি

খানাপিনা এবং অন্যান্য জরুরত যোহরের ওয়াক্তের আগেই সেরে নিন। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যোহর নামাযের পূর্বে উকূফে আরাফার উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নত। মুআত্তা মালেক, হাদীস : ১১৫২; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৫; গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৮

আরাফার ময়দানেও তাঁবুর নিকটে টয়লেট ও গোসলখানা পাবেন। তাই সম্ভব হলে যোহরের সময় হওয়ার পরপর গোসল সেরে নিন।

 

যোহর ও আসর একত্রে পড়া

আরাফার কেন্দ্রবিন্দু মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারলে যোহর ও আসর একত্রে ইমামের পেছনে আদায় করে নিবেন। কিন্তু মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব না হলে যোহরের সময় যোহর এবং আসরের সময় আসর পড়বেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪২৩৫, কিতাবুল আসার ১/৩৩৭; ইলাউস সুনান ১০/১০৬; আলইস্তিযকার ৩/৬২৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫০৫

 

উকূফে আরাফায় করণীয়

* নামাযের পর আরাফার পুরো সময় আল্লাহ তাআলার দিকে দিলকে নিবীষ্ট রাখুন। তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যের অনুভূতি জাগ্রত রাখুন। দুনিয়ার সব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে দিল-মনকে আল্লাহ তাআলার দিকে ধাবিত রাখুন। তাঁর এবং হাজিরির অনুভূতি নিয়ে বারবার তালবিয়া পড়ুন। কথাবার্তা বা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হবেন না।