পরশু মিনায় যাবেন হাজ্বীরা: জেনে নিন মিনার আমল ও তরিকা

84

মুফতি মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া  ।।

মিনায় রওনা: মিনায় রওনা হওয়ার উত্তম সময় হল ৮ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৭৫৬) আর জুমআর দিন হলে সকল হাজী সূর্য ঢলার আগে আগে মক্কা ত্যাগ করবে। যদি মক্কায় থাকা অবস্থায় সূর্য ঢলে যায় অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যায় তাহলে মক্কায়ই জুমআ পড়তে হবে। সুতরাং এক্ষেত্রে জুমআ পড়েই বের হবে। অবশ্য মুসাফির হাজী যোহরের ওয়াক্ত হয়ে গেলেও মিনার উদ্দেশে রওনা হতে পারবে। গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬; যুবদাতুল মানাসিক ১৫৬

* মিনায় রওনা হওয়ার সময় বেশি বেশি তালবিয়া পড়ুন। আল্লাহ তাআলার কাছে হজ্বের আমল কবুল হওয়া এবং সহজ হওয়ার জন্য দুআ করুন। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২৮৪; আলবাহরুল আমীক ৩/১৪১০

 নির্ধারিত সময়ের আগে মিনায় রওনা: মিনায় রওনা হওয়ার উত্তম সময় যদিও ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর, কিন্তু আজকাল ৭ তারিখ দিবাগত রাতেই অনেক মুআল্লিমের গাড়ি রওনা হয়ে যায় এবং রাতেই মিনায় পৌঁছে যায়। অধিক ভিড়ের কারণে এভাবে আগে আগে চলে যাওয়া দোষণীয় নয়। কেননা, ৭ তারিখ মক্কায় কোনো বিশেষ আমল নেই। ফলে আগে আগে চলে গেলে ৮ তারিখ রওনা হওয়ার সুন্নত ছাড়া অন্য কোনো আমল ছুটে না। মিনায় তাঁবু খুঁজে পাওয়া বেশ জটিল। আবার তাঁবুতে জায়গা পাওয়ার জটিলতাও কম নয়। তাই নতুন হাজ্বীগণ অবশ্যই কাফেলার সাথেই যাবেন। কাফেলা থেকে পৃথক হবেন না। হ্যাঁ, যদি আগে চিনে আসা যায় এবং আগেও হজ্ব করেছেন এমন অভিজ্ঞ কোনো সঙ্গী পেয়ে যান এবং প্রয়োজনে পায়ে হেঁটেও চলতে পারেন তাহলে এমন ক্ষেত্রে কাফেলা প্রধানের অনুমতি নিয়ে ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর রওনা হওয়া ভালো। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৫৫৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭

আর মক্কা থেকে ৮ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর স্বাভাবিকভাবে পায়ে হেঁটে গেলেও যোহরের আগেই মিনায় পৌঁছা সম্ভব।

 মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা: ৮ যিলহজ্ব যোহর থেকে ৯ যিলহজ্ব ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায মিনাতে পড়া সুন্নত। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬

 মিনায় অবস্থান (সুন্নত): ৮ যিলহজ্ব সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে ৯ যিলহজ্ব সূর্যোদয় পর্যন্ত পুরো সময় মিনায় অবস্থান করা মুস্তাহাব। আর ৮ যিলহজ্ব দিবাগত রাত মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। অবশ্য অধিকাংশ রাত থাকলেও এই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬

 মিনায় পৌঁছে কী করবেন: এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন এবং পুরো সময় মিনাতেই থাকুন। তালবিয়া, যিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদিতে মশগুল থাকুন। হজ্বের পাঁচ দিনের মধ্যে আজ প্রথম দিন। অতি মূল্যবান সময়। অল্প সময়ও গাফেল থাকার সময় নয়। তাই যিকির ও ইবাদতে সময় লাগান। আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর ইশক-মুহাব্বত এবং ঈমানী আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলুন। অনর্থক গল্গ-গুজব থেকে বিরত থাকুন।