কাশ্মীর: বঞ্চনা ও পরাধীনতার দীর্ঘ উপাখ্যান

334

ওলিউর রহমান ।।

“আগার ফিরদাওস বর রুয়ে যমিনাস্ত, হামিনাস্ত, হামিনাস্ত, হামিনাস্ত।” (পৃথিবীতে যদি কোনো বেহেস্ত থেকে থাকে, তবে এখানেই, তবে এখানেই, তবে এখানেই।) চতুর্থ মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের একটি পঙক্তি। জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনীতে পাওয়া যায় তিনি নাকি কাশ্মীরেই নিজের মৃত্যু ও সমাহিত হওয়া কামনা করতেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের এই বায়ত উল্লেখের পর ভূ-সর্গ কাশ্মীরের প্রকৃতির বিবরণ দেওয়ার আর কোনো প্রয়োজন থাকে না।

কাশ্মীরের অবস্থান:  ২ লাখ ২২ হাজার ২৩৬ বর্গ কিলোমিটারের জম্মু এন্ড কাশ্মীর রাজ্যটি জম্মু, কাশ্মীর, লাদাখ, গিলগিত, বালতিস্তানসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ভারত, পাকিস্তান, চীনের মতো তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংযোগ স্থলে অবস্থিত এ ভূ-খণ্ডটির ৪৫ শতাংশ ভারতের দখলে, ৩৬ শতাংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে, আর ১৯ শতাংশ চীনের শাসনাধীন রয়েছে।

আনন্দবাজার

৪৭ সালে দেশভাগের পর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ৭৮ হাজার বর্গ কিলোমিটারের অন্তর্ভুক্ত হল জম্মুর কয়েকটি জেলা, কাশ্মীরের সামান্য অংশ, গিলগিত ও বালতিস্তান। এ অংশটুকুর নাম দেওয়া হয় আযাদ কাশ্মীর। পরে অবশ্য গিলগিত ও বালতিস্তানকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়। পাকিস্তান সরকার বা সেনাদের সাথে এ অঞ্চলের মানুষের কোনো বিরোধ নেই।

অপরদিকে ভারত শাসিত প্রায় ১ লাখ বর্গকিলোমিটারের ‘জম্মু এন্ড কাশ্মীর’ লাদাখ, জম্মু, কাশ্মীর তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ভারত শাসিত সমগ্র কাশ্মীরের জনসংখ্যা ১ কোটি ২৫ লাখ। আর কাশ্মীরের জনসংখ্যা ৬০ লাখের উপরে। কাশ্মীরে ৯৮ ভাগ মানুষ মুসলমান এবং কাশ্মীরের সাথেই ভারত সরকারের যত দেন দরবার।

 কাশ্মীরে ইসলাম ও মুসলিম শাসনের সূচনা:  ইসলামের আগমনের আগে উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কাশ্মীরেও ব্রাহ্মণ্যবাদ ও বৌদ্ধ ধর্মের মাঝে বিবাদ-বিসংবাদ অব্যাহত ছিল। সুফি সাধকদের দাওয়াত, আরব বণিকদের ব্যবসার সুবাদে অষ্টম শতকেই কাশ্মীরে মুসলমানের আগমন ঘটে। কেউ কেউ অবশ্য সিন্ধু বিজয় বা তারও আগে কাশ্মীরে ইসলামের আগমনের ব্যাপারে বলেছেন।

তবে কাশ্মীরে মুসলিম শাসনের সূচনা হয় ১৩২০ সালে হযরত বুলবুল শাহ কলন্দরের হাতে বৌদ্ধ রাজা রিনচানের স্বপরিবারে ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে। পরে সম্রাট আকবর বিভিন্ন উপায়ে কাশ্মীরকে মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে নিয়ে যায় এবং আওরঙ্গজেবের পর মোগল শাসন স্তিমিত হয়ে আসলে আফগান শাসক আহমদ শাহ আবদালি কাশ্মমীর দখল করে। ১৭৫২ থেকে ১৮১৯ সাল পর্যন্ত কাশ্মীরে চলে পাঠান শাসনামল।

কাশ্মীরে মুসলমানদের বঞ্চনার শুরু: ১৮১৯ সালে লাহোরের খালসা দরবারের রাজা রঞ্জিত সিং তার কাশ্মীরি চর বিরবল ধরের সহযোগিতায় আফগানদের পরাজিত করে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেনাপতি গুলাব সিংয়ের কাছে বৃহত্তর কাশ্মীরের শাসনক্ষমতা অর্পন করে রঞ্জিত সিং লাহোরে চলে যায়। ১৮৪৬ সালে কাশ্মীরের রাজা গুলাব সিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় ব্রিটিশ সরকার লাহোরের রঞ্জিত সিংকে পরাজিত করে এবং অমৃতসরে ৭৫ লাখ রুপি চুক্তির বিনিময়ে গুলাব সিংকে বৃহত্তর কাশ্মীরের শাসন ক্ষমতায় বহাল রাখে।

রাজ্যের এই কেনাবেচার ঘটনাকে আল্লামা ইকবাল বড় করুণভাবে বর্ণনা করেছেন তার কবিতায়, ‘ হায়, ফসলের মাঠের সাথে উপত্যকার কৃষকদেরও ওরা বেচে দিল’। বিখ্যাত কবি হাফিজ জলন্দরি তার একটি কবিতার শিরোনাম দিয়েছিলেন, ‘৭৫ লাখ রুপি কা সওদা’। অমৃতসরের এ চুক্তিকেই এখনও কাশ্মীর সঙ্কটের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত করের অর্থ আদায়ে রাজা গোলাব সিং মুসলমানদের উপর শুরু করল সীমাহীন নির্যাতন। মুসলমানরা প্রতিবাদ করলে ইংরেজ সরকারের সহায়তায় তাদের নির্মমভাবে দমন করা হতো। গুলাব সিংয়ের পরিবার ১৮৪৬ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত ১০০ বছর ইংরেজ সরকারের ছায়া হিসেবে কাশ্মীর শাসন করে। এই সময়কে কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্টুরতম অমানবিক শাসনকাল হিসেবে ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করে থাকেন।

দেশভাগ ও হতভাগ্য কাশ্মীর:  ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রকে স্বাধীনতা দিয়ে উপমহাদেশ থেকে চলে যায়। কাশ্মীর যেহেতু কার্যত ব্রিটিশদের শাসনাধীন ছিল না তাই কাশ্মীরের বিভাজন নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট হিসেবে মুসলিম লীগ নেতা জিন্নাহ নিশ্চিন্ত ছিলেন কাশ্মীর পাকিস্তানের সাথেই থাকবে। এদিকে নেহেরুসহ কংগ্রেসের অপরাপর নেতারা কাশ্মীরকে ভাররতের অন্তর্ভুক্ত করতে ছিলেন মরিয়া। লর্ড মাউন্টব্যটনের মধ্যস্থতায় কাশ্মীরের জননেতা পাকিস্তান-বিরোধী শেখ আবদুল্লাহর সাথে যোগসাযশ করে কাশ্মীরের তখনকার শাসক হরি সিংয়ের সাথে দেন-দরবারের চেষ্টা চালিয়ে যান নেহেরু। এ সময় কাশ্মীরের জন্য ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারায় বিশেষ মর্যাদারও প্রস্তাব করা হয়।

ভারত,পাকিস্তান কেউই কাশ্মীরে আক্রমণ করতে পারবে না মর্মে ১২ আগস্ট হরি সিং একটি স্ট্যান্ডসিলে সাক্ষর করার দাবি জানালে কায়েদে আজম বিভিন্ন সমীকরণ মিলিয়ে স্ট্যন্ডসিলে সাক্ষর করে দিলেও ভারত সাক্ষর না করে নিজেদের সুবিধেটুকু আদায় করে নেয়।

তারপরের ইতিহাস সংক্ষেপে বললে পাকিস্তান আইনি অধিকার হারিয়ে বেসামরিকভাবে জম্মু অঞ্চলের কয়েকটি জেলা ও কাশ্মীরের কিছু অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। আর ভারত পাকিস্তানের প্রতিরোধের বেশে ভূ-স্বর্গ কাশ্মীরের ৪৫ শতাংশ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়।

১৮৪৬- ১৯৪৭:  কাশ্মীরের জনগণ গুলাব সিংয়ের ১৮৪৬ সালের জাতি বিক্রির সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ করে এবং ১৯৪৭ গুলাব সিংয়ের পরিবারের দেশ বিক্রির সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ করে। কিন্তু ব্রিটিশ ও ভারতীয় সেনাদের ভারি অস্ত্রের মুখে সেসব প্রতিরোধ আন্দোলন খুব বেগবান হতে পারেনি।

শেখ আবদুল্লাহ

কাশ্মিরী জনগণের কাছে শেখ আবদুল্লাহ ও তার পরিবার:  শেখ আবদুল্লাহককে কাশ্মীরের জনগণ দুইভাবে মূল্যায়ন করে। তার গঠিত পার্টি ( এনসি) দাবি করে কাশ্মীরের অস্তিত্ব টিকে আছে শেখ আবদুল্লাহর অবদানের উপর। কাশ্মীরের অপর সাধারণ জনগণও এটা স্বীকার করেন। কেননা চরম যুলুম নিপীড়নের শিকার হলেও শিক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণে কাশ্মীরের জনগণের প্রতিবাদ করতে সক্ষম ছিল না। শেখ আবদুল্লাহ কাশ্মীরের যুবকদের শিক্ষার প্রতি অনুপ্রানিত করে তাদের সংঘবদ্ধ করে গড়ে তোলেন। নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামান। ১৯৩১ সালে রিডিং রুম পার্টি নামে একটি যুব সংগঠন করেন এবং সে বছরই কাশ্মীর রাজের বিরুদ্ধে প্রথম ঐক্যবদ্ধ গণ-আন্দোলন হয়।

জম্মুতে কয়েকটি জায়গায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মসজিদ ও কোরআন শরিফের অবমাননা করলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একটি সমাবেশে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত থেকে আসা আবদুল কাদির নামে একজন রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দিলে সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ জুলাই ১৯৩১-এ শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কয়েদখানায় আবদুল কাদিরের মামলার শুনানি ধার্য করা হয়। সেদিন শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কয়েদখানার সামনে বিশাল জনসমাবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ২২ জন নিহত হয়। ১৩ জুলাইকে এখনো কাশ্মীরে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়

দেশভাগের পর কাশ্মীরিদের অধিকার আন্দোলনের লড়াই করে শেখ আবদুল্লাহকে জেলে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়। স্বায়ত্তশাসনের নামে ভারতীয় দখলদারিত্ব দেখে প্রতিবাদ করলে ভারত প্রধানমন্ত্রী নেহেরুই তাকে জেলে পাঠান। কাশ্মীরিদের কাছে জনপ্রিয় নেতা হলেও তিনি যেহেতু দেশের স্বাধীনতা এনে দিতে পারেন নি বরং তার কিছু সিদ্ধান্ত রাজ্যটির অনেক বড় ক্ষতি করেছে তাই পরবর্তীতে কাশ্মীরিরা তাকে পূর্বের সম্মান দিতে পারেনি।

পরে অবশ্য তিনি কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীও হন। তার সন্তান ফারুক আবদুল্লাও ও নাতি ওমর আবদুল্লাহও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

১৯৮৭ সালের নির্বাচনে শেখ আবদুল্লাহর ছেলে ফারুক আবদুল্লাহ কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ সহায়তায় কাশ্মীরে জয়লাভ করল বিপরিতে মুসলিম ইউনাইটেড ফ্রন্ট পেল ৭৫ টি আসনের মাত্র ৫ টি। তখন থেকেই কাশ্মীরিদের স্বাধীনতা আন্দোলন চরম পর্যায়ে পৌঁছে। শেখ পরিবারের প্রতি তারা আস্থা হারিয়ে ফেলে।

চূড়ান্ত আন্দোলন: আশির দশকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ‘ইন্তিফাদা’ থেকে অনুপ্রণিত হয়ে কাশ্মীরি জনগণও ইন্তিফাদা শুরু করে। ১৯৯০ সালের ১৯ জানুয়ারি কাশ্মীরিদের ইন্তেফাদা দমানোর লক্ষ্যে চরম মুসলিম-বিদ্বেষী জগমোহনকে কাশ্মীরের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয় দিল্লি। জগমোহন তার নিয়োগের দিন রাতেই কাশ্মীরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানের নামে সামরিক বাহিনী দিয়ে সাঁড়াশি তল্লাশি চালান। এতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৩০০ লোককে। ফলে পরদিন দিনের বেলায় জগমোহনকে যখন গভর্নরের শপথবাক্য পাঠ করানো হচ্ছিল, নিরস্ত্র কাশ্মীরীরা কারফিউ অমান্য করে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা যখন ঝিলাম নদীর উপরে অবস্থিত গাওয়াকাদাল ব্রিজের উপর দিয়ে যাচ্ছিলেন

ভারতীয় প্যারামিলিটারী বাহিনী ব্রিজের উভয় পারে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায়। বেশীরভাগ বিক্ষোভকারী গুলির আঘাতে শাহাদাতবরণ করেন, কেউ কেউ গুলি থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে ডুবে শহীদ হন। এই ঘটনায় ১০০-এর উপর কাশ্মীরি শাহাদাতবরণ করেন।

প্রতিরোধ সংগ্রামে ভারতীয় বাহিনীদের হাতে এমন আরও কত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কাশ্মীরিরা,তার হিসেব হয়তো কারও কাছেই নেই।

৪৭ সালে দেশ ভাগের পর থেকে গত ৭০ বছরে ১৫ বারেরও বেশি কাশ্মীরের উপর ভারত সেনাবাহিনী কর্তৃক দমন পীড়ন করা হয়।

বর্তমানে কাশ্মীরে ১ কোটি জনগণের বিপরিতে সাত লক্ষেরও বেশি সেনা মোতায়েন করা আছে। এসব সেনা কর্তৃক অব্যাহত নির্যাতনের কোনো বর্ণনা তো আর কোথাও প্রকাশিত হয় না।

কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে ৩৭০ ধারার যে কাগুজে স্বীকৃতি এতদিন পর্যন্ত ভারতের সংবিধানে সংরক্ষিত ছিল গত ৫ তারিখ সংসদে বিল পাশ করানোর মাধ্যমে বিজেপি সরকার তার পরিসমাপ্তি ঘটাল। তাছাড়া শুধু বিজেপি সরকার নয়। কাশ্মীরের স্পেশাল স্ট্যাটাস বিলুপ্তির পক্ষে ছিল ভারতের সব সরকারই। তার প্রমাণ দেশভাগের একবছরের মাথায় কংগ্রেস সরকার কর্তৃক কাশ্মীরি নেতা শেখ আবদুল্লাহর গ্রেফতার।

আনন্দবাজার থেকে নেওয়া

৩৭০- ধারা বিবরণী:

১। জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন। শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি ও যোগাযোগ খাত ছাড়া ভারতের কোনও কেন্দ্রীয় আইন সেখানে বলবৎ থাকবে না। কোনও আইন প্রয়োগ করতে গেলে স্থানীয় সরকারের অনুমতি দরকার হবে৷

২। কাশ্মীরের নিজস্ব পতকা থাকবে। এর সীমানা, আয়তন, নাম ও কোনও কিছুই কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তন করতে পারবে না ।

৩৷ কাশ্মীরের নিজস্ব সংবিধান থাকবে। এর প্রশাসন সেভাবেই চলবে, ভারতীয় সংবিধান অনুসারে নয়।

৪। একজন কাশ্মীরি দুটো নাগরিকত্ব পাবে। ভারতীয় ও কাশ্মিরী। কোনও ভারতীয়কে কোনও কাশ্মিরী মেয়ে বিয়ে করলে সে কাশ্মীরি নাগরিকত্ব হারাবে। শুধুমাত্র কাশ্মিরী নাগরিকেরাই সেখানে চাকুরির অধিকার রাখে।

৫। কোনও ভারতীয় কাশ্মিরে জমি ক্রয়, বসতি স্থাপন কিম্বা সম্পদের মালিক হতে পারবে না।

৬। ভারতের সংবিধানের Part 4 মূলনীতি সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং Part 4 A এর আওতায় রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে মৌলিক দায়িত্ব প্রতিপালনে কাশ্মিরিরা বাধ্য নয়।

ফলে ভারতের জাতীয় সংগীত, রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও পতাকার অবমাননার জন্য কোনও শাস্তি কোনও কাশ্মিরির উপর আপতিত হবে না। ফলে গরুর প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতেও তারা বাধ্য নয়।

অর্থাৎ ভারতের এইসব জাতীয় প্রতীক ও বিষয়ের থেকে পৃথক রেখে কাশ্মীরিদের নিজের স্ব জাতিস্বত্তা প্রতিপালনের সুযোগ তৈরি হয়।

৭। ভারতের রাষ্ট্রপতি সেখানে কোনও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবে না।

৮। শুধুমাত্র যুদ্ধাবস্থা ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ ছাড়া ভারত সরকার কোনও অবস্থাতেই সেখানে কারফিউ ঘোষণা করতে পারবে না। অভ্যন্তরীণ গোলযোগে প্রাদেশিক সরকারই কেবল ব্যবস্থা নিতে পারবে।

৯। ভারতের রাষ্ট্রপতি যে কোনও প্রদেশের প্রাদেশিক আইন বাতিল করতে পারেন তার নির্দেশনা অনুসৃত না হলে। কিন্তু কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসিত সংবিধানকে রহিত করার এখতিয়ার তার নেই।

ছবি সূত্র: গুগল

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি:  সংসদে বিল পাশ করার আগেই কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পর্যটক ও হিন্দু তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেখানের মোবাইলসহ যোগাযোগের যাবতীয় মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের অনেককে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে করা হয়েছে গ্রেফতার।

কাশ্মীরের সাথে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ যেহেতু বন্ধ তাই ভারতীয় সেনাবাহিনী সেখানের জনগণের উপর কী ভয়াবহ নিপীড়ন করছে তার খবর কেবল আল্লাহই রাখেন।

তথ্যসূত্র:  কাশ্মীর: ইতিহাস ও রাজনীতি/ A history of kashmir/ আনন্দবাজার/ জংগ নিউজ