ময়মনসিংহে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত

12

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ময়মনসিংহে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং অপরজন ধর্ষণ মামলার আসামি বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

গতকাল রোববার (৪ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জ ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালাদহে পৃথক দুটি ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাদক বিক্রেতা ও ছিনতাইকারীরা অবস্থান করছে এমন গোপন সংবাদে ওই এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গুলি চালায়। ডিবি সদস্যরাও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে মাদক বিক্রেতারা পালিয়ে যায়।

পরে, ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জনিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ডিবির দুই সদস্য আকরাম হোসেন ও মতিউর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, তিন মাস আগে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে একই উপজেলার পলাশতলী গ্রামের এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার (৩ আগস্ট) বিকালে মেয়েটিকে বেড়ানোর কথা বলে উপজেলার কুটিরা গ্রামে নিয়ে যায় প্রেমিক জহিরুল। সেখানে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সে। পরে তার দুই বন্ধু সাইদুল ও ফারুকের হাতে তুলে দেয় মেয়েটিকে।

ফারুক ও সাইদুল মেয়েটিকে একটি আখক্ষেতে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘণ্টাখানেক পর মেয়েটি সেখান থেকে এসে বিষয়টি স্থানীয়দের জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার পরদিন নির্যাতিতা কিশোরী নিজেই বাদী হয়ে প্রেমিক জহিরুলসহ তিনজনকে আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় ধর্ষণ মামলা করে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, রাতে ধর্ষণ মামলার আসামিরা উপজেলার কালাদহ ঈদগাঁহ মাঠের সামনে অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়।

এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি জহিরুলকে একটি পাইপগানসহ গ্রেফতার করা হয়।

গুলিবিদ্ধ জহিরুলকে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।