আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে যেভাবে পরিবেশিত হলো কাশ্মির ইস্যু

306

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: কাশ্মির ইস্যুতে সংবিধানের -৩৭০ ধারা বাতিল করে  ভারত সরকারের এ নতুন পদক্ষেপকে অঞ্চলটিতে সঙ্ঘাত উস্কে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

বিজেপি সরকার কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বা স্বায়ত্বশাসন তুলে নেয়ার পর বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সব গণমাধ্যম। এ ঘটনা উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন সঙ্কট তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক জনপ্রিয় পত্রিকা আল জাজিরা অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভারত রাষ্ট্রপতির এক ডিক্রির মাধ্যমে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। গত সাত দশকেরর মধ্যে বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটির জন্য এটি সবচেয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। আল জাজিরা আরো লিখেছে, এই পদক্ষেপের সমালোচকরা বলছেন, সরকার আশা করছেন আর্টিকেল-৩৭০ বাতিলের মাধ্যমে হিন্দুদের কাশ্মিরে জমি কিনে বসবাসের ধারা তৈরি করে তারা মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মিরের জনসংখ্যার চিত্র পাল্টে দিতে পারবেন।

ব্রিটেনের দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, কাশ্মিরের মর্যাদার বিষয়ে এটি ভারতের যে কোন সরকারের সবচেয়ে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। রিপোর্টে কাশ্মিরকে ভেঙে দুই ভাগ করার ঘটনাকে ‘নাটকীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, এতে পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা বাড়বে এবং জম্মু ও কাশ্মিরীদের কাছ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়বে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

বিবিসি ওয়ার্ল্ডের খবরে ভারত সরকারের পদক্ষেপকে ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা’ হিসেবে দেখা হয়েছে। এর ফলে কাশ্মিরে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম সিএনএন লিখেছে, কাশ্মিরের শাসন পদ্ধিতিকে বিতর্কিত এক পরিবর্তন এনেছে মোদি সরকার। সিএনএন অনলাইন তাদের রিপোর্টে লিখেছে, কাশ্মির কার্যত স্তব্ধ এখন। একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এই পদক্ষেপকে কাশ্মিরবাসীর জন্য ‘মানসিক আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

 

পাকিস্তানের দ্য ডন নিউজ বলেছে, কাশ্মিরকে মুসলিম প্রধান এলাকা থেকে হিন্দুপ্রধান এলাকা করে তোলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হিন্দি পত্রিকা দ্যা ইনকিলাব লিখেছে, কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির জনসাধারণ জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (ওআইসি)।

সূত্র: দ্য ইনকিলাব, ডেইলি পাকিস্তান, বাসিরাত অনলাইন