“যিলহজ্বে হাটে বাজারে উচ্চস্বরে তাকবির বলার সুন্নতটি জীবিত করুন”

1515

 

মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী ।।

…দ্বিতীয় কথা হল, যখন যিলহজ্ব মাস শুরু হয় তখন আল্লাহ তাআলা তার বড়ত্ব, মহত্ত, মহিমা, গরিমা ঘোষণার জন্যে এই দিনগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দান করেছেন। এই দশ দিন এমন যে এই সময়ে মানুষকে চলতে ফিরতে উঠতে বলতে আল্রাহর বড়ত্ব মহত্তের ঘোষণা দেওয়া উচিত।

সবসময় মুখে এ জিকির ধ্বনি জারি রাখা উচিত, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ। আজ এ সুন্নতটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সাহাবায়ে কেরাম যিলহজ্ব শুরু হওয়ার পর থেকে  রাস্তা ঘাটে হাটে বাজারে উঠতে বসতে এই তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলতেন।

একটা হল তাকবিরে তাশরীক যা আরফার দিন থেকে (৯ যিলহজ্ব ) শুরু হবে এবং ১৩ যিলহজ্ব পর্যন্ত চলতে থাকবে। সেটা প্রত্যেক নামাজের পর ওয়াজিব। সেটা তো আমরা আমল করি।

কিন্তু সেটা ছাড়াও চলতে ফিরতে উঠতে বসতে রাস্তাঘাটে হাটে বাজারে উচ্চস্বরে এই তাকবীর বলতে থাকা পৃথক আরেকটি সুন্নাত।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর র. থেকে বর্ণিত যে, যিলহজ্ব মাস শুরু হলে তিনি বাজারে গিয়ে জোরে জোরে বলতেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

তার তাকবীর ধ্বনি শুনে দোকানদাররা একসাথে উচ্চস্বরে বলে ওঠতেন, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ। তাদের সম্মিলিত তাকবীর ধ্বনিতে আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্তের ঘোষণায় বাজার মুখরিত হয়ে ওঠত।

কিন্তু আফসোসের বিষয়, এখন আমাদের দেশগুলোতে সাহাবাদের এ সুন্নতটি বিলুপ্ত হচ্ছে । আমরা তাকবিরে তাশরীক তো প্রত্যেক নামাজের পর বলি কিন্তু চলতে ফিরতে উঠতে বসতে সাহাবায়ে থেকে প্রমাণিত উচ্চস্বরে তাকবির বলার সুন্নাতটির উপর আমল নেই। উচিত ছিল, এই কয়টা দিন মুসলিম জনপদের অলিগলি হাটবাজার সবকিছু আল্লাহ তাআলার তাকবির ধ্বনিতে গমগম করবে। …

 

জুমার বয়ান থেকে অনুবাদ: এনাম হাসান জুনাইদ