৩৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য, আতঙ্কে কাশ্মির ছাড়ছে মানুষ

283

ইসলাম টা্‌মিস ডেস্ক: শুক্রবার ভারত শাসিত কাশ্মিরে সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে যাতে পর্যটক এবং হিন্দু তীর্থযাত্রীরা বিতর্কিত এলাকায় তাদের অবস্থানের সময় সংক্ষেপ করে। কারণ হিসেবে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ভারতের সেনা সমাগম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর সেখানে সৃষ্ট উত্তেজনার কথা বলা হয়েছে।

কাশ্মিরের স্বরাষ্ট্র সচিব শালিন কাবরা ওই আদেশে বলেছেন যে, “পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের কাশ্মিরে তাদের সফর সংক্ষেপ করে অবিলম্বে উপত্যকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।”

এই নির্দেশনায় ‘বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ এবং বার্ষিক হিন্দু তীর্থ এলাকায় সুনির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ‘সন্ত্রাসী’ হামলার হুমকির গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৪৫ দিনের বার্ষিক এই তীর্থযাত্রায় অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষ পাহাড়ি গুহায় অমরনাথ মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করে থাকে।

কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার খারাপ আবহাওয়ার কথা বলে চার দিনের জন্য তীর্থযাত্রা স্থগিত করে। ১ জুলাই এই তীর্থযাত্রা শুরু হয়েছে এবং এ বছর প্রায় তিন লাখ তীর্থযাত্রী এই বরফময় গুহা সফর করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে বিভিন্ন হামলায় বহু ডজন তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছে, যে সব হামলার জন্য বিদ্রোহীদের দায়ি করা হয়েছে। এছাড়াও বহু মানুষ পরিশ্রান্ত হয়ে এবং পাহাড়ি প্রতিকূল আবহাওয়ায় পড়ে মারা গেছে।

সশস্ত্র হামলার ভয়ে শুক্রবারই স্থগিত করে দেওয়া হয় এই বছরের অমরনাথ যাত্রা। তীর্থযাত্রীদের উপত্যকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জম্মু-কাশ্মিরে। শ্রীনগর থেকে ফেরার বিমানগুলি প্রায় পুরো ভর্তি। যে কটি আসন বাকি আছে, তা যেন সোনার দামে বিকোচ্ছ।

শনি ও রোববারে শ্রীনগর থেকে ফেরার বিমানগুলি প্রায় সম্পূর্ণ ভর্তি। সশস্ত্র হামলার ভয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাশ্মির ছাড়তে চাইছেন পর্যটকরা। সামান্য যে কয়েকটি আসন এখনও খালি আছে, সেগুলির দাম চড়েছে প্রায় রকেটের গতিতে। রবিবার শ্রীনগর থেকে দিল্লি আসার বিমানভাড়া ১৫,৫০০ রুপি থেকে শুরু হয়ে ২১,০০০ রুপি পর্যন্ত উঠেছে। শ্রীনগর থেকে মুম্বাইয়ের বিমানভাড়া ১৬,৭০০ রুপি থেকে ২৫,০০০ রুপির মধ্যে রয়েছে।

তবে সোমবার থেকে ভাড়া কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছে ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন। যাত্রীচাপ কমাতে অতিরিক্ত বিমান চালাতে সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব যাত্রীরা আরও পরের টিকিট কেটেছিলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা যদি সেই টিকিট ক্যানসেল করে নতুন করে টিকিট কাটতে চান, তাহলে কোনও ক্যানসেলেশন চার্জ লাগবে না বলেও বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সরকারের এনির্দেশনা এই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। গত সপ্তাহে সরকার কমপক্ষে ১০,০০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর সেখানে এমনিতেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আরো ২৫ হাজার সেনা যাচ্ছে। সেনা সমাগম বাড়ানোর কারণে সেখানে এমন ধারণার জন্ম হয়েছে যে, নয়া দিল্লি সংবিধান থেকে কাশ্মির বিষয়ক অনুচ্ছেদ বাদ দেয়ার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যেখানে কাশ্মিরের বাইরের ভারতীয়দের কাশ্মিরে জমি কেনায় বিধিনিষেধ আরোপিত আছে।

কাশ্মির ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত এবং দুই দেশই পুরো কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ভারতের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে সশস্ত্র কাশ্মিরিরা। অধিকাংশ কাশ্মিরী সশস্ত্র সংগ্রামীদের দাবিকে সমর্থন করে যে, এই অঞ্চলটি হয় পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হবে, অথবা স্বাধীন দেশ হিসেবে আলাদা হয়ে যাবে। বিদ্রোহীরা একই সাথে তাদের দাবি নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে বিক্ষোভও করে থাকে।

ভারতীয় সেনারা কাশ্মিরের সর্বত্র মোতায়েন রয়েছে এবং সেখানে তাদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে কোনো রাখঢাক করে না কাশ্মিরিরা।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি তাদের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদার বিষয়টি বাতিল করবে।

সূত্র: এপি