জিম্মিদশা ভাঙুন, আপনার চামড়া আপনার কাজে লাগান

1260

শরীফ মুহাম্মদ ।।

পশু-প্রাণির চামড়ার ব্যবসার অনেক ধাপ। চামড়াজাত প্রতিটি পন্যের দাম চড়া। কিন্তু ২০০০ টাকার চামড়ার দাম এখন ১৫০ টাকা। এর রহস্য কী?

ঋণখেলাপি শত কোটি-হাজার কোটি টাকার কুমিরদের মোটা পেট আরও মোটা করার দায়িত্ব চামড়ার মালিকদের নয়, কোরবানি দাতাদের নয়।

চামড়া নিজের কাজে লাগান। চামড়া নিজের কাছে রাখুন। কাঁচা চামড়ার গায়ে সামান্য লবন দিয়ে প্রসেস করান। চামড়াকে ঘরে-বাইরে অভিজাত পাটির মতো ব্যবহার করুন। চামড়াকে স্লিম বিছানা হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নিন। কারণ, পেটমোটা পুঁজিপতিরা আপনার পশুর চামড়া কিনে নিতে চায় না। ফেলে দেওয়া, ঠেকে যাওয়া আবর্জনা হিসেবে গুদামে উঠাতে চায়।

খুব কঠিন ও ব্যয় সাপেক্ষ নয় চামড়া প্রসেসের এ কাজ।

গরিবমারা চামড়া শিল্পের জন্য আপনার-আমার চোখের পানি ফেলার কোনো দরকার নেই। আপনার পশুর চামড়া আপনার কাছে রাখুন।

আর, আর বরাবরের মতো এবারের কোরবানির পশু কেনার সময়ে গরিবের জন্য মাত্র ১০০০ টাকার একটি অংক উপহার (দান/সদকা) হিসেবে বরাদ্দ করুন। নিজের পছন্দমতো গরিব মানুষের মাঝে সে টাকা বিতরণ করুন।

দেখুন, ৩০/৩৫ হাজার টাকার নিচে এখন কেউ একটি গরু কিনতে পারে না। কোরবানির সময় হাট থেকে গরু কিনলে আপনাকে হাসিল বাবদ দিতে হবে আরও ১৫০০/২০০০ টাকা। কসাইয়ের খরচ যোগ হবে আরও ৩০০০ টাকা। ২/৩ দিন গরু রক্ষণাবেক্ষনে খরচ হবে আরও হাজার খানেক টাকা। আপনার এই বাড়তি খরচের সঙ্গে গরিবকে দানের জন্য ১০০০ টাকা যোগ করতেই পারেন।

কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য থেকে যে টাকা গরিবকে দিতেন, সে টাকা এখন ক্ষমতাবান বড়লোকেরা নিয়ে যাচ্ছে। গরিবের প্রত্যাশী অপেক্ষার জন্য আপনার উপহার- প্রস্তুতি রাখুন। এবারের কোরবানি ঈদের সময়েই এই উপহার শুরু হোক।

জিম্মিদশা ভাঙুন। আপনার দান আপনি করুন। আপনার চামড়া আপনার কাজে লাগান।

 

লেখকের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া