গতকালের মুহাযারায় যা বললেন মাওলানা আবদুল মালেক

560

১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব পল্লবী মারকাযুদ্দাওয়ার হলরুমে মাসিক মুহাযারায় বয়ান করেন মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়া ঢাকার আমীনুততালীম প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত নবীন আলেম ও মাদরাসার তালিবে ইলম এ মুহাযারায় উপস্থিত ছিলেন। মুহাযারায় যা আলোচনা করেছেন এর সার-সংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো।

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক বয়ানে বলেন, কোনো ফনের বিষয় এই ফনের মাসাদিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা জরুরী নয়, বরং কোনো ফনের বিষয় অন্য ফনের মাসাদিরের মধ্যেও থাকতে পারে। যে কোন ফনের মাসাদিরের মধ্যে অন্য ফনের আলোচনাও থাকে। কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো পরোক্ষভাবে। কখনো বিস্তারিত ভাবে, কখনো সংক্ষিপ্তাকারে। কারণ দ্বীনের উলুম ও ফুনূন একটি আরেকটির মধ্যে মুতাদাখিল (অন্তর্ভুক্ত)।

সুতরাং কেউ যদি উসূলে তাফসির পড়তে গিয়ে উসূলে ফেকাহ পড়ে তাহলে বলা যাবে যে, সে উসূলে তাফসিরই পড়েছে। কেননা উসূলে ফেকাহর মধ্যে ইশারাতুন নস, ইবারাতুন নস ইত্যাদি নিয়ে যে আলোচনা করা হয় তা মূলত তাফসিরেরই অংশ।

তাফসিরুল কুরআন বিল কুরআন (কুরআন দিয়ে কুরআনের তাফসির করা) সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি কেউ কুরআনের কোন আয়াতের তাফসির কুরআন দিয়ে করতে চায়, তাহলে প্রথমে তাকে এই আয়াতের সাথে সম্পর্কযুক্ত যত আয়াত আছে সবগুলো আয়াতকে একসাথে জমা করতে হবে। তারপর সবগুলো আয়াতের তাফসির জেনে এই আয়াত সম্পর্কে কোন রায় দিতে হবে। তবে তাফসির বিল কুরআন বিল কুরআনের ক্ষেত্রে তাদাব্বুরের সাথে কুরআন তেলাওয়াত করার অনেক বড় ভুমিকা রয়েছে।

এ ছাড়াও তিনি এ মুহাযারায় আরো বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনা করেন।

আলোচনার শেষে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার নামে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার দিকে গলত নিসবত করে ১৫ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি অডিও বয়ান ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়। বয়ানের শিরোনাম হলো- ‘মাওলানা সাদ সাহেব বিষয়ে মুফতি আবদুল মালেক সাহেবের রুজু’। আমার নামে বিকৃত করে যে অডিওটি সম্প্রচার করা হয়েছে- এটা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গত ৫ নভেম্বর ২০১৮ ঈসায়ী তারিখে বাইতুল জান্নাত মোল্লা জামে মসজিদ মিরপুর-১২, ঢাকা- এ মাওলানা সাদ সাহেবের শুযূয ও চিন্তগত বিপদগামিতা বিষয়ে একটি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। সেই মজলিসে আমি বয়ান করেছিলাম। বয়ানে আমার উপস্থাপনভঙ্গি এরকম ছিলো যে, প্রথমে আমি প্রশ্ন উত্থাপন করি- অনেক ভাই বুঝতে চান- মাওলানা সাদ সাহেব এমন কী ভুল করেছেন যে, এখন তাকে মানা যাবেনা? ভুল কারই বা না হয়। কতজনেরই তো ভুল হয়। আর তিনি তো ভুল থেকে রুজুও করেছেন। তারপরও এত কথা কেন? কী এত বড় অপরাধ হয়ে গেল যে, উনার বিরুদ্ধে এতকিছু বলতে হচ্ছে?

তো এভাবে আমি প্রশ্নটা উত্থাপন করে পরে বিস্তারিত ভাবে উদাহরণসহ এটা উল্লেখ করেছি। কিন্তু সেই বন্ধুরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমার সেই বক্তব্যকে বিকৃত করেছে এবং শুধু প্রশ্নটা উল্লেখ করেছে। উত্তর আর উল্লেখ করেনি।

প্রশ্নটাও যে উল্লেখ করেছে তাতে ধোঁকাবাজি রয়েছে। আমি বলেছি-‘একটা বিষয় আমাদের অনেক ভাই বুঝতে চান, সেটা হলো, হযরত মাওলানা সাদ সাহেব দাঃ বাঃ, হযরতের এমন কী অপরাধ হয়ে গেল…..। এভাবে বলে তারপর প্রশ্ন তুলে ধরেছি। কিন্তু আমি যে বলেছি ‘অনেক ভাই বুঝতে চান’ একথা তারা বাদ দিয়ে দিয়েছে। ফলে কর্তিত বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে- আমি বলেছি- মাওলানা সাদ সাহেব এমন কী অপরাধ করে বসেছেন যে, তার বিরোধিতা করা লাগবে! ভাবটা যেন এমন – সাদ সাহেবের ভুল তেমন ভুল নয়। তাই সেটার মোকাবেলা করাও দরকার নেই। লা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম।

মনে রাখবেন, মাওলানা সাদ সাহেবের ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের যে অবস্থান তা শুধুমাত্র দ্বীনের খাতিরে। উনার বড় বড় উসূলী ভুল, ভ্রান্তি-বিচ্ছিন্নতা ও চিন্তগত বিপধগামিতার কারণেই সে অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। তাই যতক্ষণ না মাওলানা সাদ সাহেব এ সবকিছুর ইসলাহ করে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের তরীকায় ফিরে আসেন ততক্ষণ ঐ অবস্থান আপন জায়গায় বহাল থাকবে।

মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ