ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির ফল কেমন পাচ্ছেন বস্তিবাসী

38

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ডেঙ্গু আতঙ্ক এখন সর্বত্র। শহর-গ্রাম কোনো এলাকার মানুষই এখন ডেঙ্কু আতঙ্ক থেকে নিরাপদ নয়। রাজধানীর বস্তিবাসীর মাঝেও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কম নয়। পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠির মধ্যে সচেতনতা কম থাকায়, স্বাস্থ্য বিষয়ে তাদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলছেন বিশেজ্ঞরা।

তবে সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিলেও এর ফল পুরোপুরি পাচ্ছে না ঢাকার বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষ।

রাজধানীর শুক্রাবাদ এলাকার ভাঙ্গাবাজার বস্তিতে সিটি কর্পোরেশনের লোকজন এখনো মশা নিধনের কোন কর্মসূচি নিয়ে যায়নি। তবে সেখানে  প্রচুর মশা। এনিয়ে বস্তির মালিকেরও কোনো উদ্যোগ নেই। বস্তির এক বাসিন্দা আব্দুল মালেক  এ তথ্য জানান।  তিান আরো বলেন, ডেঙ্গু মশা কামড়ালে জ্বর হবে। ডাক্তারের কাছে যাবো। আল্লাহ যা করবেন তাই হবে। আর কী হবে!

এদিকে  কলাবাগান বউবাজার বস্তির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনও একই তথ্য জানান। ওই বস্তিতেও সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন দল যায়নি।

তবে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বললেন, ঢাকার সবচেয়ে বড় বস্তি হলো গুলশান এলাকার কড়াইল বস্তির বাসিন্দা সুলাতান হোসেন। তিনি বলেন,  এ বস্তিতে কমপক্ষে চার লাখ মানুষ বাস করেন।  আমাদের এই বস্তিতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটাচ্ছে৷ আমাদের এলাকার ওয়ার্ড কমিশনার তৎপর আছেন৷ আমাদের এখানে আতঙ্ক থাকলেও কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর তেমন পাইনি৷ বস্তি হলেও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আছে৷

এদিকে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন,আসলে ডেঙ্গুর জন্য বস্তি বা অভিজাত এলাকা আলাদা কোনো গুরুত্ব বহন করেনা। এডিস মশা যে পরিবেশে জন্মায় সেই পরিবেশ যেখানে হবে সেখানেই মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হবে। তাই এডিস মশা যাতে জন্মাতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সেটা বস্তি হোক আর অভিজাত এলাকা হোক।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ডেঙ্গুর বিষয়ে বস্তিবাসীদের জন্য আমাদের আলাদা কোনো কর্মসূচি নেই। সবার জন্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে৷ বস্তিতেও আমরা মশার ওষুধ ছিটাচ্ছি৷ সচেতনতামূলক কর্মসূচি  চালাচ্ছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এবছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজার ৬৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷ শুধু জুলাই মাসের ২৮ দিনে ভর্তি হয়েছেন নয় হাজার ৫১০ জন৷ আর একদিনে হাসপাতালে ভর্তির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে রবিবার, ৮২৪ জন৷ তার আগের দিন শনিবার ভর্তি হয়েছেন ৭৪৯ জন৷