হজ্ব ও উমরা: পদ্ধতি ও মাসায়েল ( ০৩)

67

[গত পর্বের পর]

মুফতি মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া  ।।

* বাইতুল্লাহ শরীফ সংলগ্ন উত্তর দিকে উঁচু দেয়ালে ঘেরা স্থান হল হাতীম। এই দেয়ালের বাইরে দিয়ে তাওয়াফ করতে হবে। এর ভিতর দিয়ে তাওয়াফ করলে তা শুদ্ধ হবে না। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ১৪১৩০; কিতাবুল আসল ২/৩৫৩; রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৫; মানাসিক ১৫৩

* পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করতে সক্ষম নন এমন মাজুর ব্যক্তি হুইল চেয়ার কিংবা কোনো বাহনে চড়ে তাওয়াফ করতে পারবেন। মানাসিক ১৫২; গুনইয়াতুন নাসিক ১১১

* তাওয়াফ অবস্থায় দৌড়াবেন না। অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণভাবে ধীরে কিংবা মধ্যম গতিতে শান্তিপূর্ণভাবে মনোযোগের সাথে তাওয়াফ করা সুন্নত। মানাসিক ১৩৪; গুনইয়াতুন নাসিক ১১৯

* তাওয়াফ ও সাঈর সময় ফরয নামায বা জানাযার নামাযের জামাত শুরু হলে তাওয়াফ বা সাঈ স্থগিত রেখে জামাতে শরিক হবেন। তদ্রুপ অযু ছুটে গেলে তৎক্ষণাৎ তাওয়াফ ছেড়ে অযু করে আসবেন। এরপর যে স্থান থেকে বিরতি দিয়েছিলেন সে স্থান থেকেই তাওয়াফ বা সাঈ পূর্ণ করবেন। তবে তিন চক্কর বা এর কম হলে বিরতির পর নতুন করে সাত চক্কর পূর্ণ করা উত্তম। হ্যাঁ, যদি চার বা বেশি চক্করের পর বিরতি হয় তাহলে শুরু থেকে আবার সাত চক্কর না করে অবশিষ্ট চক্কর পূর্ণ করাই ভালো। মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৮৯৬৯, ৮৯৭১; ফাতহুল কাদীর ২/৩৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৭; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃষ্ঠা : ১২৭

* এক তাওয়াফে ইচ্ছাকৃত ৭ চক্করের বেশি করা গুনাহ। যদি কেউ ইচ্ছাকৃত সাতের অধিক চক্কর করে তাহলে অষ্টম চক্কর নতুন তাওয়াফ বলে গণ্য হবে এবং তাকে পুনরায় ঐ অতিরিক্ত চক্করসহ সাত চক্কর পূর্ণ করতে হবে। তবে ভুলবশত সাতের অধিক হয়ে গেলে অসুবিধা নেই। গণনার সুবিধার্থে ৭ দানার তাসবীহ হাতে রাখতে পারেন। রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৬; গুনইয়াতুন নাসিক ১০৫

 

রুকনে ইয়ামানী পৌঁছে

[হাজরে আসওয়াদকে সামনে নিয়ে দাঁড়ালে বাম দিকে যে কোণ আছে তা রুকনে ইয়ামানী। অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ।]

রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছে উভয় হাত বা শুধু ডান হাত দিয়ে তা স্পর্শ করা সুন্নত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করা গুনাহকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ৫৬২১) স্পর্শ করা সম্ভব না হলে হাত বা মাথা দ্বারা ইশারা করবেন না। কারণ এখানে শুধু স্পর্শ করাই প্রমাণিত। আর রুকনে ইয়ামানীকে চুমু দেওয়া বা তাতে সিজদা করা ঠিক নয়। রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৮; মানাসিক ১৩৭; যুবদাতুল মানাসিক ১১৯

এক চক্কর পূর্ণ হলে

হাজরে আসওয়াদ থেকে চক্কর শুরু করে পুনরায় হাজরে আসওয়াদ বরাবর পৌঁছলে এক চক্কর পূর্ণ হবে। তাই চক্কর পূর্ণ হলে আবার হাজরে আসওয়াদের দিকে ফিরে দাঁড়ান। এরপর بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَرُ  (বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার) বলে সম্ভব হলে সরাসরি বা হাতের ইশারায় হাজরে আসওয়াদকে চুমু খান। এরপর ওই জায়গা থেকেই কাবা শরীফকে বামে রেখে দ্বিতীয় চক্কর শুরু করুন। আগের নিয়ম অনুযায়ী চক্কর পূর্ণ করুন। এ নিয়মে ৭ চক্কর পূর্ণ হলে একটি তাওয়াফ হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৬১৩; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৮৮৯৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৮

 

তাওয়াফ অবস্থার আমল

তাওয়াফের সময় যিকির, তাসবীহ ও দুআতে মশগুল থাকুন। এ সময় যদিও কথাবার্তা বলা জায়েয তথাপি অধিক প্রয়োজন ছাড়া কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। কেননা, একে তো এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। দ্বিতীয়ত এ সময় দুআ কবুল হয়। তাই ধ্যান খেয়াল পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ তাআলার দিকে নিবদ্ধ রাখুন এবং প্রাণ খুলে দুআয় মশগুল থাকুন। নিজের ভাষায়ও যে কোনো দুআ করা যায়। তাওয়াফে এমন কোনো নির্দিষ্ট দুআ নেই, যা ছাড়া তাওয়াফ সহীহ হবে না। অবশ্য হাদীস ও আসারে তাওয়াফের সময় পড়ার মতো কিছু দুআ ও যিকিরের উল্লেখ আছে। এগুলো পড়া উত্তম। নিম্নে তা পেশ করা হল।

ক. রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে এই দুআ পড়তেন

رَبَّنَا آتِنَا فِيْ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِيْ الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

 

অর্থ : হে রব। আপনি আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩০২৪৮

খ. হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মাঝে এই দুআ পড়তেন

اللّهُمَّ قَنّعْنِيْ بِمَا رَزَقْتَنِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْهِ وَاخْلُفْ عَلَىْ كُلّ غَائِبَةٍ لِيْ بِخَيْرٍ.

 

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমাকে যে রিযিক দান করেছেন তাতেই আমাকে তুষ্ট রাখুন ও এতে বরকত দান করুন এবং আমার থেকে যেসব নিয়ামত দূর হয়ে গেছে এর উত্তম বদলা দান করুন। মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৭১৭

গ. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে পূর্ণ তাওয়াফে এই যিকির পড়া প্রমাণিত আছে

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَي كُلّ شَيْءٍ قَدِيْرٍ.

 

মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩০২৭৮

এছাড়া তাওয়াফ অবস্থায় কুরআন-হাদীসের যে কোনো দুআ এবং নিজের ভাষায় যে কোনো দুআ পড়া যাবে।

 

তাওয়াফ শেষে পুনরায় ইছতিলাম

তাওয়াফের সপ্তম চক্কর শেষে হাজরে আসওয়াদের নিকট এসে অষ্টম বারের মতো হাজরে আসওয়াদকে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে সরাসরি বা ইশারায় চুমু খেয়ে তাওয়াফ শেষ করবেন। আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৯৮; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ১৩৭

 

ইযতিবা শেষ

তাওয়াফ শেষে চাদর স্বাভাবিকভাবে পরুন। ডান বগলের নিচ থেকে কাপড় বের করে উভয় কাঁধ ঢেকে নিন। কেননা, ইজতিবা কেবল তাওয়াফের সময়ের আমল। সাঈতে ইজতিবা নেই। রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৫; গুনইয়াতুন নাসিক ১০৬; আহকামে হজ্ব ৫৪

চক্করের সংখ্যায় সন্দেহ হলে

তাওয়াফ সাঈর চক্করের সংখ্যায় সন্দেহ হলে কম সংখ্যাটি ধরে সাত চক্কর পূর্ণ করবেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৩৫২৪; গুনইয়াতুন নাসিক ১০৫

 

তাওয়াফের দুরাকাত নামায (ওয়াজিব)

তাওয়াফ শেষ করে দু’রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। এ দুই রাকাত নামায মাকামে ইবরাহীমের পেছনে পড়া মুস্তাহাব। ভিড়ের কারণে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে নামায পড়া না গেলে হারামের যেকোনো স্থানে পড়া যাবে। সহীহ বুখারী ১/২২০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৮; গুনইয়াতুন নাসিক ১১৬

* তাওয়াফের শেষে মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে এ দু’রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব না করা সুন্নত। আর মাকরূহ ওয়াক্তে এই নামায পড়বেন না; বরং মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর পড়ে নিবেন। নামায অবস্থায় ডান কাঁধও ঢেকে নিবেন। ডান কাঁধ খোলা রেখে নামায পড়া মাকরূহ। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৩৪২৪; গুনইয়াতুন নাসিক ১১৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৯

* এরপর মুনাজাত করুন। এটা দুআ কবুলের সময়। তাই প্রাণ খুলে দুআ-মুনাজাত করুন।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে এ সময় নিম্নোক্ত দুআ পড়া প্রমাণিত। তিনি এই দুআ সাফা পাহাড়ে ওঠার সময় এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈর সময়ও পড়তেন। তাই সম্ভব হলে পড়ুন

اللّٰهُمَّ اعْصِمْنِيْ بِدِيْنِكَ وَطَوَاعِيَتِكَ وَطَوَاعِيَةِ رَسُوْلِكَ  اللّٰهُمَّ جَنِّبْنِيْ حُدُوْدَكَ، اللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِمَّنْ يُحِبُّكَ وَيُحِبُّ مَلَائِكَتَكَ وَيُحِبُّ رُسُلَكَ وَيُحِبُّ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ، اللّٰهُمَّ حَبِّبْنِيْ إِلَيْكَ وَإِليٰ مَلَائِكَتِكَ وَإِليٰ رُسُلِكَ وَإِليٰ عِبَادِكَ الصَّالِحِيْنَ، اللّٰهُمَّ يَسِّرْ لِيَ الْيُسْرىٰ وَجَنِّبْنِيْ الْعُسْرىٰ وَاغْفِرْ لِيْ فِيْ الآخِرَةِ وَالْاُوْليٰ وَاجْعَلْنِيْ مِنْ أَئِمَّةِ الْمُتَّقِيْنَ وَمِنْ وَرَثَةِ جَنَّةِ النَّعِيْمِ، وَاغْفِرْ لِيْ خَطِيْئَتِيْ يَوْمَ الدِّيْنِ، اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ : اُدْعُوْنِيْ اَسْتَجِبْ لَكُمْ، وَإِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ. اَللّٰهُمَّ إِذْ هَدَيْتَنِيْ لِلْاِسْلاَمِ فَلاَ تَنْزِعْهُ مِنِّيْ وَلاَ تَنْزعْنِيْ مِنْهُ حَتّيٰ تَتَوَفَّانِيْ عَليٰ  الْاِسْلاَمِ وَقَدْ رَضِيْتَ عَنِّيْ، اَللّٰهُمَّ لَا تُقَدِّمْنِيْ لِعَذَابٍ وَلَا تُؤَخِّرْنِيْ لِسَيِّءِ الْفِتَنِ.

 

আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৫/৯৭; আলবাহরুল আমীক ৩/১২৬৪

 

যমযম পানি পান (মুস্তাহাব)

এরপর পেট ভরে তৃপ্তির সাথে যমযম পানি পান করুন। শুরুতে বিসমিল্লাহ ও শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলুন। পান করার আগে বা পরে এই দুআ পড়া উত্তম

اللّهُمَّ إِنّيْ أَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَّرِزْقًا وَّاسِعًا وَّشِفَاءً مِنْ كُلّ دَاءٍ.

 

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী ইলম, প্রশস্ত রিযক ও সব রোগ থেকে শেফা প্রার্থনা করছি। সুনানে দারা কুতনী ২/২৮৮; মানাসিক ১৩৯

* হাদীস শরীফে এসেছে, যমযম পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণ করেন। মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৪৮৪৯

 

মুলতাযামে উপস্থিতি (মুস্তাহাব)

হাজরে আসওয়াদ ও বায়তুল্লাহ শরীফের দরজার মধ্যবর্তী দেয়ালকে মুলতাযাম বলে। তাওয়াফের নামায পড়ে যমযম পানের পর অন্যকে কষ্ট না দিয়ে সম্ভব হলে মুলতাযামে এসে বাইতুল্লাহর দেয়ালের সাথে বুক ও ডান গাল লাগিয়ে দিন এবং ডান হাত উপরের দিকে উঠিয়ে বাইতুল্লাহ শরীফকে জড়িয়ে ধরুন এবং অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটির সাথে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন এবং খুব দুআ করুন। তবে বেশি জোরে আওয়াজ করা থেকে বিরত থাকুন। এ স্থানের দুআ কবুল হয়। মনে করবেন, আপনি আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়াতলে আছেন, তাঁর নিকট পৌঁছে গেছেন। তাঁর অপার মেহেরবানিতে তিনি আপনাকে কাছে টেনে নিয়েছেন। তাই তাঁর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়ার এটিই উত্তম সময়। আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী, হাদীস : ৯৭৬৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৩৯৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৯; গুনইয়াতুন নাসিক ১০৭

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য

কাবা ঘরের দেয়ালে চতুর্দিকে প্রায় এক মানুষ উচ্চতা সমপরিমাণ আতর লাগানো থাকে। মুলতাযামে গিয়ে কাবা শরীফ ধরলেই আতর লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, যা ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ। তাই ইহরাম অবস্থায় মুলতাযাম ধরবেন না এবং কাবা শরীফের কোথাও স্পর্শও করবেন না।

 

উমরার সাঈ (প্রথম ওয়াজিব)

‘সাঈ’ হল সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার চক্কর দেওয়া। ‘সাফা’ থেকে সাঈ শুরু করে ‘মারওয়া’তে পৌঁছলে এক চক্কর হবে। এরপর মারওয়া থেকে সাফায় আসলে দ্বিতীয় চক্কর হবে। এভাবে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর দিতে হবে। সাঈর প্রথম চক্কর শুরু হবে ‘সাফা’ থেকে আর ৭ম চক্কর শেষ হবে ‘মারওয়া’তে। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮

* তাওয়াফের পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায, যমযম পান ও মুলতাযামে উপস্থিতির পর বিলম্ব না করে সাঈ করে নেওয়া সুন্নত। অবশ্য ওজরের কারণে বিলম্ব করা যাবে। রদ্দুল মুহতার ২/৫০০; মানাসিক ১৭০

* অযু অবস্থায় সাঈ করা ও সাঈর সময় কাপড় পাক থাকা মুস্তাহাব। আর হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র অবস্থায় সাঈ করা সুন্নত। তদ্রুপ গোসল ফরয হলে পবিত্র হয়ে সাঈ করা সুন্নত। হায়েয-নেফাস ও গোসল ফরয অবস্থায় সাঈ করা মাকরূহ। তবে আদায় হয়ে যাবে। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৫৮৩; গুনইয়াতুন নাসিক ১৩৫

* সাঈ পায়ে হেঁটে করা ওয়াজিব। অবশ্য অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে যদি পায়ে হেঁটে সাঈ করা সম্ভব না হয় তাহলে হুইল চেয়ারে সাঈ করা যাবে। পায়ে হেঁটে করা সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও হুইল চেয়ারে সাঈ করলে দম ওয়াজিব হবে। অবশ্য পুনরায় পায়ে হেঁটে করে নিলে দম মাফ হয়ে যাবে। মানাসিক ১৭৮

 

সাঈর শুরুতে হাজরে আসওয়াদে ইছতিলাম

* সাঈর জন্য যাওয়ার সময় হাজরে আসওয়াদে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে ইছতিলাম করা সুন্নত। হাজরে আসওয়াদ বরাবর সবুজ বাতির নিকট থেকে বা এর বরাবর দূরে থেকেও ইছতিলাম করতে পারবেন। এজন্য মাতাফে নামা জরুরি নয়। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৫২৩০; মানাসিক ১৪০; রদ্দুল মুহতার ২/৫০০

 

সাঈর নিয়ত

এরপর সাঈর নিয়ত করে নিন।

সাঈর জন্য নিয়ত করা সুন্নত। মনে মনে এভাবে সাঈর নিয়ত করুন : হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে উমরার সাঈ করছি। আমার জন্য তা সহজ করুন এবং কবুল করুন।

এরপর ‘সাফা’ পাহাড়ে উঠুন। মানাসিক ১৮০

 

সাফা পাহাড়ে উঠে যা করবেন

প্রথমে কা’বার দিকে ফিরে দাঁড়ান। সম্ভব হলে এখান থেকে কা’বাকে দেখুন। অতপর  তিনবার আল্লাহু আকবার বলুন। এরপর তিনবার এই দুআ পড়ুন

لاَ إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَيْ كُلّ شَيْءٍ قَدِيْرٍ

 

সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩০২৫২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস : ৩৮৪৫

* এরপর সম্ভব হলে এই দুআ পড়ুন

لاَ إِلَهَ إِلَّا اللّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْاَحْزَابَ وَحْدَهُ

 

সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; আলকিরা ৩৬৮; আলমাসালিক ১/৪৬০

এরপর দরূদ শরীফ পড়ুন এবং হাত তুলে প্রাণখুলে নিজের জন্য এবং গোটা মুসলিম উম্মাহর জন্য দুআ করুন। এটা দুআ কবুলের সময়। ফাযলুস সালাত আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, হাদীস : ৮৭; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩০২৫৫

* হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সাফায় উঠে এই দুআ করেছেন

اللّهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ ادْعُوْنِيْ اسْتَجِبْ لَكُمْ وَإِنَّكَ لاَ تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ وَإِنّيْ أَسْئَلُكَ كَمَا هَدَيْتَنِيْ لِلْاِسْلاَمِ أَنْ لاَ تَنْزِعَهُ مِنّيْ حَتَّىْ تَتَوَفَّانِيْ وَأَنَا مُسْلِمٌ.

 

মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস : ১৩৭৯

* সাফা-মারওয়া এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী স্থানে কোনো দুআ জরুরী নয়। কোনো দুআ না পড়লেও সাঈ হয়ে যাবে। তবে উত্তম হল যিকির ও দুআতে মশগুল থাকা। অন্তত উপরের দুআগুলো পড়া।

* দুআ ও মুনাজাতের পর ডান দিকের রাস্তা দিয়ে সোজা মারওয়ার দিকে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা শুরু করুন। সাফা-মারওয়ার মাঝে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ুন। বিশেষত সবুজ দুই পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে এ দুআটি পড়া মুস্তাহাব

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ

 

অর্থ : হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৫৮০৭

* সবুজ দুই পিলারের মধ্যবর্তী স্থান পুরুষের জন্য মধ্যম গতিতে দৌড়ে অতিক্রম করা মুস্তাহাব। কিন্তু মহিলাগণ দৌড়াবেন না; স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৬৪৪; মানাসিক ১৭২; রদ্দুল মুহতার ২/৫০১

* এরপর মারওয়া পৌঁছে কাবার দিকে ফিরে দাঁড়ান। সাফায় যেভাবে যেসব যিকর ও দুআ করেছিলেন এখানেও  তা-ই করণীয়। এটিও দুআ কবুলের স্থান। এখন সাঈর এক চক্কর পূর্ণ হল। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; মানাসিক ১৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৫০১

এরপর পুনরায় সাফার উদ্দেশ্যে রওনা করুন। সাফায় পৌঁছে আগের মতো কাবার দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে দুআ করুন। এবার দ্বিতীয় চক্কর পূর্ণ হল। এরপর মারওয়া পৌঁছলে তৃতীয় চক্কর পূর্ণ হবে। এভাবে সাত চক্কর পূর্ণ করুন। সপ্তম চক্কর মারওয়ায় শেষ হবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫০১; মানাসিক ১৭৩

সাঈর কাজ শেষ হল।

 

উমরার ইহরাম ত্যাগ

হলক করা (উমরার দ্বিতীয় ওয়াজিব)

সাঈ সমাপ্ত হওয়ার পর তামাত্তু হজ্বকারী এবং শুধু উমরাহকারীগণ পুরুষ হলে পূর্ণ মাথা মুণ্ডিয়ে ইহরাম ত্যাগ করবেন। তবে মাথার চুল ছোটও করতে পারেন। চুল ছোট করতে চাইলে পুরো মাথার কিংবা অন্তত মাথার এক চতুর্থাংশের চুল কমপক্ষে আঙ্গুলের এক কর (এক ইঞ্চি) পরিমাণ ছোট করতে হবে। আগে থেকে চুল এক কর বা এর চেয়ে ছোট থাকলে হালাল হওয়ার জন্য চুল ছোট করা যথেষ্ট হবে না; বরং মাথা মুণ্ডাতে হবে। আর মহিলাগণ পুরো মাথার চুলের অগ্রভাগ থেকে কমপক্ষে আঙ্গুলের এক কর (এক ইঞ্চি) পরিমাণ কাটবেন। অবশ্য মাথার এক চতুর্থাংশ থেকে যদি এ পরিমাণ কেটে নেন তাহলেও হালাল হয়ে যাবেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩০১; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৩০৬৫; গুনইয়াতুন নাসিক ১৭৩

* মনে রাখতে হবে, মারওয়ার ওখানে কেউ কেউ হালাল হওয়ার জন্য হাতে গোনা কয়েকটিমাত্র চুল কেটে থাকেন। এমনটি কিছুতেই করা যাবে না। কেননা, এত অল্প পরিমাণ চুল কেটে হালাল হওয়া যায় না।

 

এ পর্যন্ত উমরার কাজ শেষ হল।

 

* তামাত্তু হজ্বকারী এখন থেকে হজ্বের ইহরাম বাঁধার আগ পর্যন্ত বৈধ সব কাজ করতে পারবেন। অবশ্য হারামের এলাকায় সাধারণভাবে নিষিদ্ধ কাজ যেমন যুদ্ধ করা, শিকার করা ও গাছ কাটা তখনও নিষিদ্ধই থাকবে।

 

মহিলাদের তাওয়াফ সংক্রান্ত বিশেষ মাসায়েল

* হজ্বে যাওয়ার জন্য সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর, এমনকি টিকিট হয়ে যাওয়ার পরও যদি স্বামীর মৃত্যু হয় তাহলে সফর বাতিল করা জরুরি। এক্ষেত্রে মহিলার উপর ইদ্দত পালন করা ফরয। হ্যাঁ, বিমানে সফর শুরু করার পর মৃত্যুর খবর পেলে তখন সফর অব্যাহত রাখা এবং হজ্ব সম্পন্ন করা জায়েয।

* উমরাহ ও হজ্বের সকল কাজ নির্বিঘ্নে সম্পাদন করার জন্য ঋতুস্রাব বন্ধ থাকে এমন ওষুধ সেবন করতে পারবেন। তবে স্বাস্থ্যের জন্য যেন ক্ষতিকর না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করবেন। আলকিরা লিকাসিদি উম্মিল কুরা ৪৬৫; আলআদাবুশ শরইয়্যাহ ৩/৬২

* মহিলাদের জন্য এখানেও নিজ হোটেলে বা বাসায় নামায আদায় করা উত্তম। এতদসত্ত্বেও কোনো নারী মসজিদে হারামের জামাতে শরিক হতে চাইলে অবশ্যই মহিলাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে নামায আদায় করবেন। পুরুষের সাথে অথবা পুরুষদের কাতারে কিছুতেই দাঁড়াবেন না। এভাবে দাঁড়ানো সম্পূর্ণ নাজায়েয। আর মসজিদে নববীতে মহিলাদের নির্ধারিত স্থানে নামায আদায় করতে পারবেন। তবে মহিলাদের জন্য নিজ বাসায় নামায পড়া বেশি উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, উম্মে হুমাইদ রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার সাথে নামায পড়তে ভালবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায পড়তে পছন্দ কর। তবে তোমার জন্য গৃহাভ্যন্তরের প্রকোষ্ঠে নামায পড়া উত্তম ঘরে নামায পড়ার চেয়ে এবং ঘরে নামায পড়া উত্তম বাড়ির ভেতর নামায পড়ার চেয়ে এবং বাড়ির ভেতর নামায পড়া উত্তম এলাকার মসজিদে গিয়ে নামায পড়ার চেয়ে। আর এলাকার মসজিদে নামায পড়া উত্তম আমার মসজিদে (অর্থাৎ মসজিদে নববীতে) এসে নামায পড়ার চেয়ে।

বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (উম্মে হুমাইদ রা.) নির্দেশ দিলেন, অতপর তার জন্য গৃহাভ্যন্তরে অন্ধকার কোণে নামাযের জন্য জায়গা বানানো হল। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই নামায পড়েছেন। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৭০৯০; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৫৪

এই হাদীসের উপর আমল করত মহিলাদের জন্য নিজ হোটেলে নামায পড়াই উত্তম হবে।

* হায়েয ও নেফাস অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ। এ অবস্থায় মসজিদে হারামেও যাওয়া যাবে না। সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৬৫০; গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪

* হায়েয অবস্থায় তালবিয়া পড়া যাবে এবং অন্যান্য যিকির-আযকার করা যাবে। তবে কুরআন মজীদ দেখে বা মুখস্থ কোনোভাবে পড়া যাবে না। গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪

* ওষুধ সেবন করার পর হায়েয বন্ধ থাকলে হায়েয আসার নির্ধারিত দিনগুলোতেও তাওয়াফ করা যাবে। মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১২১৯

 

তামাত্তুর উমরার তাওয়াফের আগে মাসিক স্রাব এসে গেলে

* উমরার পুরো তাওয়াফ কিংবা অন্তত চার চক্কর আদায়ের আগে যদি ঋতুস্রাব এসে যায় এবং উকূফে আরাফার আগে পবিত্র হয়ে অন্তত চার চক্কর করা সম্ভব না হয় তাহলে উমরার কাজ বন্ধ করে দিবেন। অপবিত্র অবস্থায় তাওয়াফ করবেন না। এক্ষেত্রে হজ্বের ইহরাম করে সরাসরি আরাফায় চলে যাবেন। হজ্বের ইহরাম করে আরাফায় চলে গেলে উমরার ইহরামটি বাতিল হয়ে যাবে। এ কারণে একটি জরিমানা দম ওয়াজিব হবে। আর ১৩ তারিখের পর হজ্বের কার্যাদি শেষ করে উমরার ইহরাম করে উক্ত উমরাটি কাযা করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে উক্ত হজ্বটি ইফরাদ হজ্ব হবে। তাই দমে শোকর দিতে হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো মহিলা উকূফে আরাফার আগে হায়েয অবস্থায় উমরার তাওয়াফ করে তবে তার তাওয়াফ আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে উমরার বাকি কাজ করে নিলে উমরাও সম্পন্ন হয়ে যাবে। তবে হায়েয অবস্থায় তাওয়াফ করার কারণে গুনাহ হবে এবং জরিমানা দম ওয়াজিব হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩১৬; মানাসিক ২৫৮

 

সাধারণ উমরায় তাওয়াফের পূর্বে মাসিক স্রাব এসে গেলে

তামাত্তু হজ্বের উমরা ছাড়া সাধারণ উমরার ক্ষেত্রে উমরার তাওয়াফ করার আগে যদি কোনো মহিলার মাসিক স্রাব এসে যায় তাহলে সে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। কিন্তু পবিত্র হওয়ার আগেই যদি তার দেশে চলে আসার সময় হয়ে যায় তাহলে অপবিত্র অবস্থায়ই সে উমরার তাওয়াফ করে নিবে। অতপর সাঈ করবে এবং মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যাবে। আর অপবিত্রতা অবস্থায় উমরার তাওয়াফ করার কারণে একটি দম দিতে হবে। দমের পশু হেরেমের ভেতরই যবাই করতে হবে।

* ভিড়ের মধ্যে মহিলাগণ নফল তাওয়াফ করতে যাবেন না। ভিড় কম থাকে এমন সময় বেছে নিয়ে পুরুষ থেকে যথাসম্ভব পৃথক থেকে তাওয়াফ করবেন। সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৬১৮

* আজকাল হাজরে আসওয়াদে ভিড় লেগেই থাকে। তাই পুরুষের ভিড়ের মধ্যে মহিলাদের হাজরে আসওয়াদে সরাসরি চুমু খেতে যাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয। মনে রাখতে হবে, যেখানে গুনাহ মোচন হয় সেখানে যেন কোনো গুনাহ না হয়ে যায়। সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৬১৮; মানাসিক ১১৫; গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪

* মহিলাদের জন্য তাওয়াফে রমল ও ইজতিবা নেই। এমনকি তারা তাওয়াফ অবস্থায় দ্রুত হাঁটা থেকেও বিরত থাকবে। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৩১০৯; গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪; মানাসিক ১১৫

* মাকামে ইবরাহীমের পেছনে যেহেতু পুরুষের ভিড় লেগেই থাকে তাই ভিড়ের মধ্যে নামায আদায় করবেন না; বরং যেখানে ভিড় কম থাকে সেখানে তাওয়াফের দুই রাকাত নামায আদায় করবেন। প্রয়োজনে মহিলাগণ তাদের নির্ধারিত স্থানে গিয়ে নামায আদায় করবেন। মানাসিক ১১৫; গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪

* মুলতাযামে পুরুষের ভিড় থাকলে সেখানেও যাবেন না। কেননা, এখানের নেক আমলের ফযীলত যেমন বেশি তেমনি  গুনাহের ভয়াবহতাও বেশি।

* সাঈর সময় দুই সবুজ বাতির মাঝে পুরুষের দৌড়ানো মুস্তাহাব। এখানেও মহিলাদের জন্য দৌড়ানোর হুকুম নেই। তাই তারা স্বাভাবিক গতিতে চলবেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা : ১৩১১০; মানাসিক ১১৫; গুনইয়াতুন নাসিক ৯৪

* মহিলাগণ ইহরাম ত্যাগ করার জন্য পুরো মাথার চুলের অগ্রভাগ থেকে অবশ্যই অন্তত আঙ্গুলের এক কর (এক ইঞ্চি) পরিমাণ কাটবেন। তবে পুরো মাথার এক চতুর্থাংশ চুলের অগ্রভাগ থেকে ওই পরিমাণ কাটলেও হালাল হয়ে যাবেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৩০৬৫; সুনানে দারা কুতনী ২/২৭১; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৭০; মানাসিক ২২৯; গুনইয়াতুন নাসিক ১৭৩

 

 

 

হজ্ব আদায়ের পদ্ধতি

 

হজ্বের ফরয ও ওয়াজিবসমূহ

হজ্বের ফরয ৩টি : ১. ইহরাম বাঁধা ২. উকুফে আরাফা অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ৩. তাওয়াফে যিয়ারত করা।

হজ্বের ওয়াজিবসমূহ : ১. মুযদালিফায় নির্দিষ্ট সময় উকুফ (অবস্থান) করা। ২. সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা। ৩. নির্দিষ্ট দিনে জামারাতে কংকর মারা। ৪. কিরান বা তামাত্তু হজ্ব পালনকারীর জন্য দমে শোকর বা হজ্বের কুরবানী করা। ৫. মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা। ৬. মীকাতের বাইরে থেকে আগত লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা বা বিদায়ী তাওয়াফ করা, যা বাংলাদেশী হাজ্বীদের জন্যও প্রযোজ্য।

 

হজ্বের ৫ দিনের ধারাবাহিক আমলসমূহ

৮ যিলহজ্ব থেকে ১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত মোট ৫ দিন হল হজ্বের মূল সময়। ১৩ যিলহজ্বেও হজ্ব সংশ্লিষ্ট কিছু ঐচ্ছিক আমল আছে। নিম্নে এ দিনগুলোর আমলের ধারাবাহিক বিবরণ দেওয়া হল।

হজ্বের প্রথম দিন ৮ যিলহজ্বের আমল

১. হজ্বের ইহরাম করা (ফরয) ২. ইহরামের পর থেকে বেশি বেশি তালবিয়া পড়া। (সুন্নত) ৩. মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা (সুন্নত) ৪. মিনায় রাত্রি যাপন করা (সুন্নত)। নিম্নে ধারাবাহিক বিবরণ দেওয়া হল।

 

হজ্বের ইহরাম (ফরয)

তামাত্তু হজ্বকারীগণ ৮ যিলহজ্ব¡ মিনায় রওনা হওয়ার আগে  হারাম শরীফ বা বাসা থেকে আগের নিয়মে শুধু হজ্বের নিয়তে ইহরাম বেঁধে নিবেন। মমানাসিক ২৮৯; গুনইয়াতুন নাসিক ২১৬

* তামাত্তুকারীদের জন্য হেরেমের এলাকা থেকে ইহরাম করা জরুরি। কেউ যদি ইহরাম করার জন্য হেরেমের বাইরে যায় এবং সেখান থেকে ইহরাম করে হেরেমের ভেতর না এসে সরাসরি আরাফায় চলে যায় তাহলে দম ওয়াজিব হবে। আর যদি হেরেমের ভেতর আসে এবং তালবিয়া পড়ে তাহলে দম মাফ হয়ে যাবে। কিন্তু অন্য কাজে হেরেমের বাইরে হিলে গেলে সেখান থেকে হজ্বের ইহরাম করা জায়েয। আলজামেউস সগীর পৃষ্ঠা : ১৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪১৫

 

হজ্বের সাঈ অগ্রিম আদায় করতে চাইলে

* হজ্বের সাঈ তাওয়াফে যিয়ারতের পরে করাই উত্তম। (আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৫/৮৪) তবে তামাত্তুকারী দুটি শর্তসাপেক্ষে আগেও হজ্বের সাঈ করতে পারবেন। এক. হজ্বের ইহরাম করে নিতে হবে। দুই. নফল তাওয়াফের পর হজ্বের সাঈ করতে হবে। যুবদাতুল মানাসিক ১৪২-১৪৩; মানাসিক ১৮৭

 

হজ্বের মধ্যে তালবিয়া পড়ার সময়কাল

হজ্বের ইহরামের পর থেকে তালবিয়া শুরু হবে এবং ১০ যিলহজ্ব¡ জামরা আকাবায় কংকর নিক্ষেপের আগ পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকবেন। কংকর নিক্ষেপের সময় থেকে তালবিয়া পড়া বন্ধ করে দিবেন।Ñসহীহ বুখারী, হাদীস : ১৫৪৪

 

মিনায় রওনা

মিনায় রওনা হওয়ার উত্তম সময় হল ৮ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৭৫৬) আর জুমআর দিন হলে সকল হাজী সূর্য ঢলার আগে আগে মক্কা ত্যাগ করবে। যদি মক্কায় থাকা অবস্থায় সূর্য ঢলে যায় অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্ত হয়ে যায় তাহলে মক্কায়ই জুমআ পড়তে হবে। সুতরাং এক্ষেত্রে জুমআ পড়েই বের হবে। অবশ্য মুসাফির হাজী যোহরের ওয়াক্ত হয়ে গেলেও মিনার উদ্দেশে রওনা হতে পারবে। গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬; যুবদাতুল মানাসিক ১৫৬

* মিনায় রওনা হওয়ার সময় বেশি বেশি তালবিয়া পড়ুন। আল্লাহ তাআলার কাছে হজ্বের আমল কবুল হওয়া এবং সহজ হওয়ার জন্য দুআ করুন। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২৮৪; আলবাহরুল আমীক ৩/১৪১০

 

নির্ধারিত সময়ের আগে মিনায় রওনা

মিনায় রওনা হওয়ার উত্তম সময় যদিও ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর, কিন্তু আজকাল ৭ তারিখ দিবাগত রাতেই অনেক মুআল্লিমের গাড়ি রওনা হয়ে যায় এবং রাতেই মিনায় পৌঁছে যায়। অধিক ভিড়ের কারণে এভাবে আগে আগে চলে যাওয়া দোষণীয় নয়। কেননা, ৭ তারিখ মক্কায় কোনো বিশেষ আমল নেই। ফলে আগে আগে চলে গেলে ৮ তারিখ রওনা হওয়ার সুন্নত ছাড়া অন্য কোনো আমল ছুটে না। মিনায় তাঁবু খুঁজে পাওয়া বেশ জটিল। আবার তাঁবুতে জায়গা পাওয়ার জটিলতাও কম নয়। তাই নতুন হাজ্বীগণ অবশ্যই কাফেলার সাথেই যাবেন। কাফেলা থেকে পৃথক হবেন না। হ্যাঁ, যদি আগে চিনে আসা যায় এবং আগেও হজ্ব করেছেন এমন অভিজ্ঞ কোনো সঙ্গী পেয়ে যান এবং প্রয়োজনে পায়ে হেঁটেও চলতে পারেন তাহলে এমন ক্ষেত্রে কাফেলা প্রধানের অনুমতি নিয়ে ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর রওনা হওয়া ভালো। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৫৫৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭

আর মক্কা থেকে ৮ যিলহজ্ব সূর্যোদয়ের পর স্বাভাবিকভাবে পায়ে হেঁটে গেলেও যোহরের আগেই মিনায় পৌঁছা সম্ভব।

 

মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা

৮ যিলহজ্ব যোহর থেকে ৯ যিলহজ্ব ফজর পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামায মিনাতে পড়া সুন্নত। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬

 

মিনায় অবস্থান (সুন্নত)

৮ যিলহজ্ব সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে ৯ যিলহজ্ব সূর্যোদয় পর্যন্ত পুরো সময় মিনায় অবস্থান করা মুস্তাহাব। আর ৮ যিলহজ্ব দিবাগত রাত মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। অবশ্য অধিকাংশ রাত থাকলেও এই সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬

 

মিনায় পৌঁছে কী করবেন

এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন এবং পুরো সময় মিনাতেই থাকুন। তালবিয়া, যিকির, তিলাওয়াত ইত্যাদিতে মশগুল থাকুন। হজ্বের পাঁচ দিনের মধ্যে আজ প্রথম দিন। অতি মূল্যবান সময়। অল্প সময়ও গাফেল থাকার সময় নয়। তাই যিকির ও ইবাদতে সময় লাগান। আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর ইশক-মুহাব্বত এবং ঈমানী আলোচনার পরিবেশ গড়ে তুলুন। অনর্থক গল্গ-গুজব থেকে বিরত থাকুন।

 

মিনার তাঁবু মুযদালিফায়

মিনায় জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে মিনা এলাকার বাইরে মুযদালিফায় বহু তাবু লাগানো হয়। বাংলাদেশীদের তাঁবু সাধারণত মিনার বাইরে মুযদালিফার সীমানাতেই হয়ে থাকে। যেহেতু এটি জায়গা সংকীর্ণতার ওজরে করা হয়েছে তাই এ সকল তাঁবুতে অবস্থানকারীগণও ইনশাআল্লাহ মিনায় অবস্থানের ফযীলত পেয়ে যাবেন। তবে যারা তাবুর বাইরে মিনার এলাকায় গিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে পারেন তাদের জন্য সেখানে অবস্থান করা ভালো হবে।

 

মিনা ও মুযদালিফা মক্কার অংশ কি?

দারুল উলূম করাচী ও জামেয়া কাসেমিয়া শাহী মুরাদাবাদের ফতওয়াতে এবং মাদরাসা সওলতিয়ার তত্ত্বাবধানে বিজ্ঞ মুফতীগণ মিনা ও মুযদালিফাকে মক্কার অংশ গণ্য করেছেন। কারণ এগুলো এবং মক্কার পুলিশ প্রশাসন একই। এছাড়া মিনা পর্যন্ত বসতি হয়ে গেছে। আর আজিজিয়ার দিক থেকেও মুযদালিফায় আবাদি চলে এসেছে। তাই মিনা, মুযদালিফাসহ ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত হলে সে ব্যক্তি মুকীম হয়ে যাবে। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের এ বিষয়ে দ্বিমতও আছে।  তাই নিজ নিজ আলেমের ফতওয়া অনুসারে আমল করুন। এ নিয়ে কোনো প্রকার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হবেন না। হজ্ব ঐক্যের প্রতীক। এটার প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি।

 

হজ্বের দ্বিতীয় দিন ৯ যিলহজ্বের আমল

তাকবীরে তাশরীক শুরু

৯ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্ব আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পড়া হাজ্বীদের উপরও ওয়াজিব। সুতরাং সালামের পরপরই তাকবীরে তাশরীক পড়ে নিবেন। এরপর তালবিয়া পড়বেন। আলকিরা ৩৭৯

 

আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা

* ৯ তারিখ সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া উত্তম। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৭৬৬

* আরাফায় রওনা হওয়ার সময় তালবিয়া এবং আল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ার কথা হাদীস শরীফে এসেছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২৮৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৩৯৬১; মানাসিক ২৬৮

 

৮ যিলহজ্ব রাতে আরাফায় যাওয়া!

ভিড়ের কারণে বহু লোক ৮ তারিখ দিবাগত রাতেই আরাফায় চলে যান। মুআল্লিমের গাড়িগুলোও রাত থেকেই হাজ্বী সাহেবদেরকে আরাফায় পৌঁছাতে শুরু করে। এভাবে রাতে চলে যাওয়া ঠিক নয়। এ রাতে আরাফার ময়দানে থাকলে কোনো সওয়াব হবে না; বরং এতে একাধিক সুন্নাতের খেলাফ হয়। যেমন : এক. এ রাতে মিনায় থাকা সুন্নত। এটি আদায় হয় না। দুই. ৯ তারিখ ফজর নামায মিনায় পড়া সুন্নত। এটাও ছুটে যায়। তিন. সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মুস্তাহাব। এটাও আদায় হয় না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২১৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫০৩) তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করতে হবে যেন বাসগুলো অন্তত ফজরের পর ছাড়ে। যদি বাসযাত্রা বিলম্ব করা সম্ভব না হয় তাহলে বৃদ্ধ ও মহিলারা মাহরামসহ বাসের সাথেই চলে যাবেন। আর সুস্থ সবল হাজ্বীগণ কোনো অভিজ্ঞ সঙ্গী পেলে মিনায় ফজরের নামায পড়ে পায়ে হেঁটে আরাফায় যেতে পারেন। মিনায় ফজর পড়ে হেঁটে গেলেও সুন্দরভাবে দুপুরের আগেই আরাফায় পৌঁছা সম্ভব। তবে পায়ে হেঁটে গেলে নিজেদের তাঁবুতে যাওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো। কেননা, হেঁটে গেলে তাঁবু খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। হেঁটে যাওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে এমন সঙ্গী না পেলে একাকী হেঁটে যাওয়ার ঝুঁকি নিবেন না। এক্ষেত্রে বাস যখনই ছাড়ে জামাতের সাথে থাকাই বাঞ্ছনীয় হবে।

 

উকূফে আরাফা (ফরয)

উকূফে আরাফার অর্থ আরাফায় অবস্থান করা। এটি হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। ৯ যিলহজ্ব¡ যোহরের শুরু সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ কয়েক ঘণ্টা পুরো হজ্বের মগজ।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই পুরো সময় আল্লাহ তাআলার দিকে দিল ও মনকে নিবিষ্ট রাখুন এবং দুআ-মুনাজাত, কান্নাকাটি ও যিকির-আযকারে মশগুল থাকুন। এক মুহূর্তও যেন গাফলত ও উদাসীনতার মধ্যে না কাটে।

 

উকূফে আরাফার সময়

৯ যিলহজ্ব সূর্য ঢলার পর থেকেই উকূফ করা সুন্নত। সূর্যাস্তের আগে আরাফায় পৌঁছে গেলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উকূফ করা ওয়াজিব। সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করা জায়েয নয়। আরাফায় উকূফের প্রধান সময় ৯ যিলহজ্ব¡ সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। কিন্তু কেউ যদি এ সময়ের ভেতর আরাফায় পৌঁছতে না পারেন তাহলে আগত রাতের সুবহে সাদিকের মধ্যে যেকোনো স্বল্প সময় আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকলেও এই ফরয আদায় হয়ে যাবে। জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৯৭৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৬২৮৬; মানাসিক ২০৫; গুনয়াতুন্নাসেক ১৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৯

 

উকূফের প্রস্তুতি

খানাপিনা এবং অন্যান্য জরুরত যোহরের ওয়াক্তের আগেই সেরে নিন। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর যোহর নামাযের পূর্বে উকূফে আরাফার উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নত। মুআত্তা মালেক, হাদীস : ১১৫২; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৫; গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৮

আরাফার ময়দানেও তাঁবুর নিকটে টয়লেট ও গোসলখানা পাবেন। তাই সম্ভব হলে যোহরের সময় হওয়ার পরপর গোসল সেরে নিন।

 

যোহর ও আসর একত্রে পড়া

আরাফার কেন্দ্রবিন্দু মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারলে যোহর ও আসর একত্রে ইমামের পেছনে আদায় করে নিবেন। কিন্তু মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব না হলে যোহরের সময় যোহর এবং আসরের সময় আসর পড়বেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪২৩৫, কিতাবুল আসার ১/৩৩৭; ইলাউস সুনান ১০/১০৬; আলইস্তিযকার ৩/৬২৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫০৫

 

উকূফে আরাফায় করণীয়

* নামাযের পর আরাফার পুরো সময় আল্লাহ তাআলার দিকে দিলকে নিবীষ্ট রাখুন। তাঁর পবিত্র সান্নিধ্যের অনুভূতি জাগ্রত রাখুন। দুনিয়ার সব কিছু থেকে মুক্ত হয়ে দিল-মনকে আল্লাহ তাআলার দিকে ধাবিত রাখুন। তাঁর এবং হাজিরির অনুভূতি নিয়ে বারবার তালবিয়া পড়ুন। কথাবার্তা বা অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হবেন না।